যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত চুক্তিকে ‘চরম বোকামি’ বলে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালে লন্ডন চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের হাতে তুলে দেয় এবং সেখানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি লিজে দেয়। এই চুক্তি নিয়ে দ্বিচারিতা দেখিয়েছেন ট্রাম্প। খবর বিবিসির
গতবছরের মে মাসে ৩.৪ বিলিয়ন পাউন্ড (৪.৬ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই চুক্তিতে সাক্ষর করে যুক্তরাজ্য। তখন অবশ্য ট্রাম্প এ নিয়ে লন্ডনের ভূয়সী প্রশংসা করে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের বিরোধিতা ও সেখানে সেনা পাঠানোর কারণে ট্রাম্প চটেছেন। তাই ওই চুক্তিকেই এখন ‘স্টুপিড চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এতে মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি।
যুক্তরাজ্য-মরিশাসের চুক্তি অনুযায়ী, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্য নিজের কাছেই রাখবে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চুক্তিকে ‘একটি ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে বর্ননা করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প এটিকে ‘সম্পূর্ণ দুর্বলতার প্রকাশ’ বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই চুক্তি তার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টার পেছনে থাকা ‘জাতীয় নিরাপত্তাজনিত বহু কারণের দীর্ঘ তালিকার’ একটি অংশ।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, দেশটি ‘কখনোই জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করবে না।’ লন্ডন চাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এই উত্তেজনা কমাতে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, যুক্তরাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও তাদের ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি মরিশাসকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও বলেছেন, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের অংশ ডিয়েগো গার্সিয়ার সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে কেন গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকা জরুরি এবং এ পদক্ষেপ যে চীন ও রাশিয়ার নজরে পড়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ড্যারেন জোন্স বলেছেন, এই চুক্তিই সামরিক ঘাঁটির জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান, কারণ এর মাধ্যমে আগামী ১০০ বছর ঘাঁটির কার্যক্রম নিশ্চিত করা যাবে। তিনি আরও বলেছেন, চুক্তিটি ইতোমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে, এখন এটি আর বদলানো সম্ভব নয়।