Image description

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ভোট দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তার কাছে চিকিৎসা নিয়ে সন্তানের মুখ দেখা এক রোগী। আইরিন সুলতানা নামের এই নারী খালিদুজ্জামান পরিচালিত রাজধানীর বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মেয়ে মারিয়াম নুয়াইমার বয়স এখন চার মাস। গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিকিৎসা পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক ডা. খালিদুজ্জামানকে শোকজের পর তাকে ‘ভুয়া ডাক্তার’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের প্রতিক্রিয়ায় এক পোস্টে এমন অনুরোধ করেছেন তিনি।

আইরিন সুলতানা পিরোজপুরের কাউখালীর বাসিন্দা। তার ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন এই নারী।

আইরিন সুলতানা লিখেছেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমি কোনোদিন রাজনৈতিক পোস্ট দেইনি। এটাই জীবনের প্রথম রাজনৈতিক স্ট্যাটাস। কেন দিচ্ছি— নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে। প্রিয় ঢাকা-১৭ আসন, আপনারা ভুয়া ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিবেন। এটা আমার অনুরোধ।’

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বিয়ের ৬ বছরে দেশের বহু নামি, প্রসিদ্ধ, বিখ্যাত গাইনী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছি শুধুমাত্র একটি বেবির জনা। কোনো চিকিৎসক রোগ ধরতে পারেনি। একপর্যায়ে আমি এবং স্বামী খুবই হতাশ এবং অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর সাহায্য আসে। আমরা আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ওপর ভরসা করে ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের কাছে যাই। তাকে দেখানোর ২৬ দিনের মাথায় কনসিভ করি। আজ আমার মেয়ে মারিয়াম নুয়াইমার বয়স ৪ মাস। আল্লাহর রহমতে আমি যার সহযোগিতায় মা ডাক শুনলাম, আপনারা তাকে যতই ভুয়া বলুন আমার কিছুই যায় আসে না। আপনাদের (বিএনপির) বলা ভুয়া ডাক্তারের চিকিৎসায় আল্লাহ আমার কোল আলোকিত করেছেন। তাই আপনাদের করজোড়ে অনুরোধ করি, ঢাকা-১৭ আসনবাসী, বিএনপির বলা ভুয়া ডাক্তার এসএম খালিদুজ্জামানকে আপনারা দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিন।’

‘বিএমডিসিকে তারেক রহমানের আজ্ঞাবহ’ উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘তারেক রহমানের আজ্ঞাবহ হয়ে বিএমডিসি তাকে শোকজ করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ এমএসসি ইন ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি অ্যান্ড প্রি-ইমপ্ল্যানটেশন জেনেটিক্স (ভারত) ডিগ্রি নিয়ে আপনারা কেনো আগে কথা বলেননি? খালিদ ভাই যখন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) প্রথম টেস্টটিউব বেবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রথম টেস্টটিউব বেবির সফলতা পেলেন, তখন কেন কথা বলেননি?’

তিনি লিখেছেন, ‘সবশেষ বলি, ডা. এস এম খালিদুজ্জামান সম্পর্কে কিছু না লিখে পারলাম না। যারা বিভিন্নভাবে তার সম্পর্কে লেখালেখি করছেন, চিকিৎসা জগতে তার অবদান সম্পর্কে আপনার কতটুকু জানা আছে সেটা একটু হিসাব করে নিন। আর বিএমডিসি তাবেদারি করবেন না। তাবেদারির ফল ভাল হয় না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন।’

ডা. খালিদুজ্জামান খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। পরে ভারত থেকে ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি অ্যান্ড প্রি-ইমপ্ল্যানটেশন জেনেটিক্সের ওপর এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে বিভিন্ন হাসপাতালে চাকরির পর বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তার দাবি, বর্তমানে দেশের ৮০ ভাগ ফার্টিলিটি চিকিৎসা এই প্রতিষ্ঠানেই হয়ে থাকে। তবে এমএসসি ইন ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি অ্যান্ড প্রি-ইমপ্ল্যানটেশন ডিগ্রিটি দেশের কোনো স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু না থাকায় এটি বিএমডিসি স্বীকৃত নয়। অপরদিকে চিকিৎসকদের এমবিবিএসসহ সকল ডিগ্রি ব্যবহার বা প্রদর্শনের আগে বিএমডিসি থেকে অনুমোদন বা নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ডা. খালিদুজ্জামানের কিছু পরিচয়পত্রে এই নিয়ম মানা হয়নি। এর জেরে গতকাল সোমবার ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে শোকজ করে বিএমডিসি। শোকজ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে এ সংক্রান্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রথমত একজন এমবিবিএস পাস ডাক্তার কনফিডেন্ট ফিল করলে হি অর শি ক্যান ডু এভরিথিং। দ্বিতীয়ত আমার যে সাবজেক্টটা, সেটা শুধুমাত্র বিদেশেই আছে। বিদেশেও খুব কম দেশেই আছে। সেখান থেকে ডিগ্রি করা। আর বাংলাদেশে এই কাজের যা কিছু হয়, তার ৮০ ভাগ আমার হাসপাতালেই হয়, আমিই করি। আমার যে কাজ, এই কাজের যে সাক্সেস আছে, সেটার ২০ শতাংশও অন্য ডাক্তারদের কাছে নেই। এটা আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি।

তিনি বলেন, আমার কোনো পরিচয়পত্রে এমন ডিগ্রি ব্যবহার করা হয়নি। আমার পরিচালিত বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালেও এমন ডিগ্রি ব্যবহার করা হয়নি। তবে একটি প্রমোশনাল ভিডিওতে এই ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে, এটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের ভুলে হয়েছে। এটি গুরুতর কিছু না। আর যেহেতু ডিগ্রিটি বাংলাদেশে নাই, এটা অনুমোদনের জন্য আমরা বিএমডিসিতে আবেদন করব।

তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এ ‘পন্থা’ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ডা. খালিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা তারা পলিটিক্যাল কারণে... যেমন শাকসু নির্বাচন স্থগিত। কোনো দিকে কোনো কূল না পেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ের ওপর বন্দুক রেখে তারা কাজ করার চেষ্টা করছে। তেমনি স্রেফ পলিটিক্যাল কারণে তারা এটা করছে।’