সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনের ভোট যথাসময়ে নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন বিএনপিপন্থী এক শিক্ষক। এ ছাড়া বিকেলে মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আজ সোমবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে অবরোধের সময় আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন অধ্যাপক মো. আশরাফ উদ্দিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর নেতৃত্বে সংবাদ সম্মেলন করে শাকসু নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিএনপিপন্থী শিক্ষকেরা সরে আসার কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় আটজন শিক্ষক ইতিমধ্যে কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া বিএনপিপন্থী ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষকও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আশরাফ উদ্দিন বের হন। সড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধের পাশ দিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে তাঁকে দেখে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘দালাল দালাল’ স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তিনি আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের একটি দোকানে নিয়ে যান। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের কয়েকজন তাঁকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেন।
আশরাফ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে প্রধান ফটকের পাশ দিয়ে সড়ক পার হয়ে দোকানের দিকে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে কয়েকজন ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন। পরে দোকানে গিয়ে কিছু বাজার শেষে বাসায় ফিরি। এ সময় দোকানের বাইরেও তাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী উপাচার্য ও ট্রেজারারের কাছে প্রশ্ন রইল, বিএনপির শিক্ষকেরা কি ক্যাম্পাসে থাকবেন না?’
এ বিষয়ে আন্দোলনে থাকা শাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পলাশ বখতিয়ার বলেন, ‘শিক্ষকের সঙ্গে ঘটনাটি আন্দোলনের সময়ের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে আমাদের কয়েকজন নিরাপদে স্যারকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন।’
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে আবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। রাত আটটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনে বিক্ষোভকারীরা তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর থেকে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসন ভবনের তালা খুলে ভেতরে যায়। উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। রাত আটটার দিকে বৈঠক শেষে বেরিয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো অবরুদ্ধ। বাইরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা।
ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান জানান, তাঁরা ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন। চেম্বার আদালতের শুনানির সিদ্ধান্তের পর তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচি সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করবেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ এ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। এর প্রতিবাদে সকাল সোয়া ১০টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বেলা ২টা ১০ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা।