Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল প্রার্থী হয়েছেন। আপীলের পর তার প্রার্থিতার বৈধতা ‍দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই যোদ্ধারা।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাই পর্বে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান ১ শতাংশ ভোটার স্লিপে গরমিল থাকায় শরাফ উদ্দীনের মনোনয়ন ফরম বাতিল করেন। পরে তিনি তার প্রার্থিতার পক্ষে ১শতাংশ হিসাবে ৪ হাজার ১শ ৮২ ভোটারের সমর্থনের তদন্ত রিপোর্টে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশন ১শতাংশ সমর্থনের সত্যতা পেয়ে মনোনয়নপত্রটি বৈধ করে। নির্বাচনি মাঠে ভোট যুদ্ধে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।

জুলাই মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাত্রনেতা আব্দুস সোবহান বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার উপর হামলাকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, স্বৈরাচারের দোসর, ২০১৪-২০১৮ সালে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে শো-ডাউন ও ভোট কারচুপি করে শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল। এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হন তিনি। তার স্বৈরাচারী প্রভাব থেকে তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পর্যন্ত রেহাই পাননি। স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় পরও গোপনে থেকে তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তার লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে উপজেলা বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীদের হামলা করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রচার হলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। তার মনোনয়ন বাতিল করে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করছি।

উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীরা বলেন, সোহেল চেয়ারম্যানের লাঠিয়াল বাহিনী কিছুদিন পূর্বে বিএনপির বিভিন্ন অফিসে জিয়া- খালেদা-তারেক রহমানের ছবি, পোস্টার ভাঙচুর করে পুড়িয়েছে। গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাবে মানুষকে জিম্মি করে তার স্বৈরাচারী দাপট দেখিয়েছে। তার নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ ভাগিয়ে নিয়ে তার নিজস্ব বলয় শক্ত করে ভোট কারচুপির মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও সে গোপনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। যা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা আন্দোলনকে কলুষিত ও মর্মাহত করছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জুলাই যোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা বিজয়কে মর্যাদাপূর্ণ করতে হবে।

রামগতি উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, শরাফ উদ্দীন আজাদ সোহেল এখান থেকে মনোনয়ন ফরম নিলেও জমা দিয়েছে জেলায়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে টেক্সট করেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।