আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বযুদ্ধে লড়াই করবে ২০ দল। যদিও টুর্নামেন্টের শুরু থেকে পাকিস্তান দল ভারত সফর করতে রাজি না হওয়ায় হাইব্রিড মডেলে হচ্ছে এবারের আসর। গেল কিছুদিন ধরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশও, যা বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।
এসবের মধ্যে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে ভিসা জটিলতায় ভুগছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আলি খানসহ চার যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার। নিজের ইনস্টগ্রামে এক স্টোরিতে বিষয়টি সামনে আনেন আলি খান। সেখানে তিনি লিখেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে যাওয়ার জন্য তিনি ভারতীয় হাইকমিশনে ভিসার আবেদন করলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। কারণ তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দল ঘোষণা না করলেও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ক্যাম্প করেছে দলটি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। তবে চার ক্রিকেটার ভারতীয় ভিসা না পাওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা। ভারতের ভিসা না পাওয়া ক্রিকেটাররা হলেন, আলি খান, এহসান আদিল, মোহাম্মদ মহসিন। যার মধ্যে আলি খান ২০২০ সালে আইপিএলে কলকাতার হয়ে খেলেছেন। আইপিলে খেলার পরও তাকে ভিসা না দেওয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
যদিও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ও মুসলিম ক্রিকেটারদের ভিসা দিতে গড়িমসি করা ভারতের জন্য নতুন নয়। ২০২৩ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছে একই চিত্র। যেখানে বিশ্বকাপ খেলতে আসা পাকিস্তানি ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফের সদস্যরা এবং খেলা কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের ভিসা পেতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ভারতীয় ভিসা পেয়েছিলেন তারা। শুধু পাকিস্তান দল নয়, অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার উসমান খাজা, ইংল্যান্ডের তারকা স্পিনার আদিল রশিদ, শোয়েব বশির এবং সাকিব মাহমুদও ভিসা পেতে বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
এবারের আসরে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকটি সহযোগী দল-ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইতালির মতো দলগুলোতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বা পাকিস্তানি খেলোয়াড় রয়েছে। তারাও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটারদের মতো ভিসা জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ইংল্যান্ডের দুই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত স্কোয়াড সদস্য, আদিল রশিদ এবং রেহান আহমেদ, দুই জনই ভারতীয় ভিসার জন্য অপেক্ষায় আছেন। যদিও টুর্নামেন্টের জন্য সময়মতো বিষয়টি সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তাদের পরিস্থিতি জটিল। কারণ তাদের ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করতে হবে। রেহান বর্তমানে বিবিএলে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন, আর রশিদ দুবাইতে আছেন।
গত সেপ্টেম্বরে, আইসিসি সমস্ত অংশগ্রহণকারী দলকে জানিয়েছিল যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক ভারত এবং শ্রীলঙ্কার ভিসা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের দায়িত্ব হবে তবে প্রয়োজনে কাগজপত্র তৈরি করা সহজ হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে, ইউএসএসি এর স্থগিতাদেশের সঙ্গে সঙ্গে সেই দায়িত্ব আইসিসি-এর ওপর।