Image description
 
 

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এক অভিযানে দেশটির ৪৭ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। দেশটিতে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর চালানো ওই অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ জনে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ২৩ বলে জানানো হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ৩২ জন কিউবান সেনাও রয়েছেন। তারাও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলে নিযুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।

 

নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাদ্রিনো বলেন, সামরিক আগ্রাসনের মুখে আমাদের বলিভারিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর নারী-পুরুষরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে, ইতিহাস ও মাতৃভূমির সম্মান রক্ষা করেছে। তিনি জানান, নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হবে।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার কিউবা জানায়, ৩ জানুয়ারির ভোরে সংঘর্ষে নিহত বলে দাবি করা ৩২ কিউবান সেনার মরদেহ তারা গ্রহণ করেছে তারা।

 

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযানে ১১২ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণের পর হেলিকপ্টারে করে মার্কিন সেনারা কারাকাসে অবতরণ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বাসভবন থেকে অপহরণ করে।

বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, অনেক মরদেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত যে পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নিহতদের স্মরণে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।