জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ থাকছে। ইসলামপন্থীদের একবক্স নীতিতে সব দল এখনো অটুট আছে। কিছু আসন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে সেটি নিরসনে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ সব আসনে যদি সমঝোতা না হলেও জোটে ভাঙন ধরবে না। যে সব আসনে সমঝোতা হবে না সে সব আসন সব দলের জন্য উন্মুক্ত রেখেই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। গতকাল জোটের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার সাথে কথা বলে এমনটিই জানা যায়।
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামপন্থার একবক্স নীতি বহাল রাখতে আলোচনা চলমান রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে চরমোনাই পীর ইসলামপন্থিদের একবক্স নীতির ঘোষণা করেন। সেই নীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো অটল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পারস্পরিক আলোচনা চলমান। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই একবক্স নীতির রূপরেখা ও ধরণ পরিষ্কার হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। আশা করি খুব দ্রুত একটা সমঝোতা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কিছু আসনে সমঝোতা না হলে সেসব আসন উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সমঝোতার আলোকেই সেটি করা হবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ইসলাম এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাবো আমরা। তবে তা হবে ইনসাফ ও সম্মানজনক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে। সম্ভাবনাময় ও বিজয়ী হয়ে আসার মতো আসনগুলোতে সম্মানজনক সমঝোতার বিষয়ে ঐক্য অটুট থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি আসনগুলো অন্য দলগুলোকে ছেড়ে দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলনকে ৪৩টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন ছাড় দেয়ার বিষয় চূড়ান্ত করেছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে গত কয়েক দিনে জামায়াত একাধিক বৈঠক করেছে। বৈঠক থেকে ৪০ আসনে একধরনের সমঝোতা হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন আরও কয়েকটি আসন দাবি করছে। যেসব আসনে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও শক্তিশালী প্রার্থী আছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা যাচাই করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও কয়েকটি আসনে ছাড় দিতেও পারে জামায়াত। এরপরও যদি কিছু আসনে সমঝোতা না হয় তবে সে সব আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে জোটের ঐক্য বজায় রাখার আলোচনা চলছে। সব কিছু চূড়ান্ত করে আজ অথবা আগামীকাল আসন সমঝোতার বিষয়টি ঘোষণা করতে পারে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
এনসিপি যখন আসন সমঝোতার আলোচনায় যুক্ত হয়, তখন তাঁদের ৩০ আসনে ছাড় দেয়া হবে, এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। তবে এরপর আসন কিছুটা কমতে পারে, এমন গুঞ্জন ছিল। তবে আসন সমঝোতার লিয়াজোঁ কমিটি সূত্র জানিয়েছে, এনসিপিকে ৩০ আসনেই ছাড় দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫-৩০টি আসন চায়। সমঝোতা আলোচনার সর্বশেষ বৈঠকে দলটিকে ১৩টি আসন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সমঝোতা না হওয়া আসনগুলোর কয়েকটিতে ছাড় চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
তবে লিয়াজোঁ কমিটি সূত্র জানিয়েছে, দলটিকে শেষ পর্যন্ত ১৫টি আসনে ছাড় দেয়া হচ্ছে। এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। তাঁর ছেলে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী হবেন। জামায়াত এই আসনসহ মোট ৭টি আসন এলডিপিকে ছাড় দিতে পারে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের নির্বাচন করবেন যথাক্রমে হবিগঞ্জ-২ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে। দলটিকে জামায়াত ৭টি আসন ছাড়তে পারে। তবে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও দু-একটি আসন বাড়তে পারে। এবি পার্টিকে দুটি আসনে ছাড় দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুকে ফেনী-২ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়াকে (ফুয়াদ) বরিশাল-৩ আসনে ছাড় দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী-১ আসনে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার ঈগল প্রতীকের প্রার্থী। এ আসনে মো. নাজমুল আহসানকে প্রার্থী করেছিল জামায়াত। তিনি মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন। তবে আসন সমঝোতা হলে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। এবি পার্টির সঙ্গে এই তিন আসনে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হতে পারে জামায়াতের। তবে এবি পার্টি দশের বেশি আসন দাবি করেছে।