Image description

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তাপ বাড়ছে ভোটের মাঠে। আচরণবিধি মানাতে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে শোকজ করা হয়েছে। বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন সমন্বয়কের গাড়িতে হামলার অভিযোগে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতে জামায়াত প্রার্থীর বাসভবনে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। সব মিলে দিনদিন নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ছেই।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে প্রার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের বারবার সতর্ক করে বলা হচ্ছে, নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় পরিচয় নয়, আইনই এখানে মুখ্য।’

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ আগেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করার অভিযোগে তাঁকে এ নোটিস দেওয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও এই আসনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে ১৭ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে মামুনুল হককে নিজে অথবা একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গতকাল সকালে এ শোকজ দেন এ আসনে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান রূপণ কুমার দাশ। ২ জানুয়ারি লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রীতিভোজে অংশ নিয়েছিলেন শাহজাহান চৌধুরী। এ প্রীতিভোজে তাঁর উপস্থিতিতে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান ওই ইউনিয়নের জামায়াত আমির মো. জসিম উদ্দিন। নোটিসে শাহজাহান চৌধুরীকে সোমবার বেলা ১১টায় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয়ে হাজির হয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনি প্রচার আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ কারণে নোটিস দেওয়া হয়েছে।’ খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলীর বাসভবনে বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে জেলা সদরের কদমতলী এলাকায় তাঁর ভাড়া বাসার সীমানাপ্রাচীরের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন জামায়াত নেতারা। খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক সৈয়দ মো. আবদুল মোমেন ও সেক্রেটারি মিনহাজুর রহমান বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জেলা জামায়াত আমির জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে এয়াকুব আলীর ভাড়া বাসার উঠানে বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূরের ইসলামপুর থেকেও শোনা গেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করে। এলাকায় বিষয়টি আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচন সমন্বয়কের গাড়িতে হামলার অভিযোগে এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক বিএনপি নেতা এম এ হাশেম রাজু ১১ জানুয়ারি রাতে এ অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘দুই-দিন দিন আগে অলি আহমদসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। থানায় যে-কেউ অভিযোগ দিতে পারেন। আমরা তদন্ত করছি। তথ্যপ্রমাণ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসতেই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেকেই আশা করছেন, সব বাধা ও উত্তেজনা পেরিয়ে ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। সব মিলিয়ে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনীতির মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।