রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের উদ্যোগের পর গত সেপ্টেম্বরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ অধ্যাদেশ প্রকাশের পর শুরু হয় নানা মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন হবে উল্লেখ করে কলেজগুলোর শিক্ষকরাও (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা) প্রতিক্রিয়া দেখান। কারণ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির মডেলে এসব কলেজের শিক্ষকদের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছিল। শিক্ষকরা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন। আর সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত অধ্যাদেশ দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন সাত কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। সব মিলিয়ে বহুমুখী জটিলতায় সময় পার করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, কলেজগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী-দুই পক্ষের স্বার্থ আমলে নিয়েই সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ দুই পদ্ধতিই থাকবে এ ইউনিভার্সিটিতে। সম্প্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে এ খসড়া ফেরত আসার পর মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে।
সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, সাতটি কলেজ সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একেকটি আলাদা ক্যাম্পাস হিসেবে থাকবে। অর্থাৎ তিতুমীর কলেজের নাম হওয়ার কথা ছিল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি তিতুমীর কলেজ। কিন্তু বর্তমানে তৈরীকৃত খসড়া থেকে জানা গেছে, কলেজগুলোর এমন নাম আর থাকছে না। বিদ্যমান সাতটি কলেজ ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত কলেজ হিসেবেই বিবেচিত হবে। কলেজগুলোর বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো, সম্পত্তি ও অন্য সুযোগসুবিধার ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হবে রাজধানীতে। সেখানে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধার ভিত্তিতে ইউনিভার্সিটির মূল ক্যাম্পাসেও ভর্তি হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি থাকবে সংযুক্ত কলেজ সিস্টেম। শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় অথবা সংযুক্ত কলেজ-যেকোনো একটিতে ভর্তি হতে হবে।
আগের অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, একেক ক্যাম্পাসে পড়ানো হবে একেক বিষয়। সাতটি ক্যাম্পাসকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এগুলোর নাম দেওয়া হয়েছিল স্কুল অব সায়েন্সেস, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ, স্কুল অব বিজনেস স্টাডিজ এবং স্কুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিস। ডেটা সায়েন্স, ফরেনসিক সায়েন্স, জার্নালিজম, ফিল্ম স্টাডিজ, ক্রিমিনোলজি, ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকসসহ সাত কলেজে বর্তমানে নেই এমন অনেক বিষয় পাঠদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে। এ নিয়েও ছিল অসন্তোষ। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির এবারের খসড়া অধ্যাদেশ প্রস্তাবে এমন কোনো নাম রাখা হয়নি।
বরং বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চিকিৎসা, চারুকলা এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য অনুষদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একাডেমিক কার্যক্রমের ব্যাপারে খসড়ায় বলা হয়েছিল, সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি হবে হাইব্রিড মোডে। অর্থাৎ পাঠদান সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে নেওয়া যাবে। আর পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশের ব্যাপারে মতামত জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পাঠদান করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, বর্তমানে তৈরীকৃত সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া অধ্যাদেশে ভার্চুয়াল মোডে পাঠদান নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এ ছাড়া ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পাঠদান করা হবে শুধু ছাত্রীদের। ছাত্রদের এসব কলেজে পড়াশোনা করার সুযোগ থাকছে না বলে জানা গেছে। ঢাকা
সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসক, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই অধ্যাদেশ চূড়ান্ত হচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবার স্বার্থই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত সাত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবেন।’