Image description

রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আভাস মিলেছে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্প কারখানা, রফতানি খাত, হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ রসুঁইঘরে গৃহিণীদের ভোগান্তি এখন চরমে। কোথাও সারাদিন গ্যাস থাকছে না, আবার কোথাও গভীর রাতে রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে।

রাজধানীতে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, খুব দ্রুত এই সংকট কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। যদিও শুধু রাজধানীই নয়; সারাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি জীবনে বর্তমানে এক বিভীষিকার নাম গ্যাস সংকট। বিস্ময়কর ও দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, গ্রাহক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি টাকা দিতে রাজি থাকলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় গ্যাস। এই পরিস্থিতি কেবল জনভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নেয়নি বরং ভোরে কাজে বের হওয়া কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার তৈরি করতে প্রয়োজনীয় এলপিজি সিলিন্ডার এবং লোডশেডিং এর কারণে বৈদ্যুতিক চুলাও জ্বলছে না সময়মতো, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। ইনকিলাবের প্রতিনিধিরা জানান, সারাদেশে গ্যাসের ভয়াবহ সংকট চলছে। যেসব এলাকায় এলপিজি গ্যাস ব্যবহৃত হয় সেসব এলাকায় দ্বিগুণ দামেও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না।

এমনিতেই দেশের অর্থনীতি যেকোনো সময়ের তুলনায় খারাপ অবস্থায় রয়েছে। অর্থপাচার, লুটপাট, লাগামহীন দুর্নীতি করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার দেশের অর্থনীতিকে যে তলানীতে রেখে গিয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে বের করতে পারেনি; বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে খারাপ করেছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনের পর যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের আরো বিপদে পড়তে হবে।

জানতে চাইলে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, টেক্সটাইল খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং রফতানি সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিল্পবান্ধব জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে নীতিগত সহায়তা।

গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর ধারণা করা হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুতই তলানিতে থাকা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে পারবে। কিন্তু অর্থনীতিকে টেনে তোলার দায়িত্ব পালন করতে এসে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। এই সময়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে পারেনি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, এলসি বন্ধ, নতুন করে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে না, শ্রমিক অসন্তোষসহ পরিবেশ না থাকায় ছোট-বড় শত শত শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো কিছু বন্ধের পথে। নেই উৎপাদন, বেকার হয়েছেন কয়েক লাখ শ্রমিক। এমনকি বাংলাদেশীদের জন্য বিভিন্ন দেশের ভিসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জনশক্তি রফতানিতে বাড়ানোতো দূরের কথা একাধিক দেশের আগের আগের নিষেধাজ্ঞাই তুলতে পারেনি বর্তমান সরকার। যা আগামী নতুন সরকারের জন্য সঙ্কট বাড়িয়ে তুলবে। নির্বাচনের পরেই রমজান। রোজায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দরকার পড়বে দেশে। কিন্তু গ্যাসের বর্তমান সঙ্কটই কবে নাগাদ শেষ হবে এর কোন ইয়ত্তা নেই। তাই আগামীর বাংলাদেশে নতুন সরকারের জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখা দিবে গ্যাস সমস্যা। অনেকের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে আগামী দিনে সঙ্কট রেখে যাচ্ছে। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই নতুন সরকারকে ভঙ্গুর অর্থনীতি, গ্যাস সঙ্কটসহ রমজানের চড়া বাজারদর সামাল দেয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা নাসিমা আক্তার দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তিনি জানান, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় সন্তানদের স্কুলের টিফিন বা স্বামীর অফিসের দুপুরের খাবার তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মনিরা বেগম বলেন, প্রায়ই গ্যাসের চাপ কম থাকে। তাই বিকল্প হিসেবে এলপিজির চুলা ব্যবহার করতে হয়। এখন লাইনে গ্যাস নেই, এলপিজি সিলিন্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় হোটেল থেকে এনে খেতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ-চালিত চুলা ক্রয় করলেও তার দামও কয়েকগুণ বেড়েছে। এ বাস্তবতায় রাজধানীর হাজারো ঘরে কার্যত চুলা জ্বলছে না। বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা কিনতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ক্রেতাদের। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এটিও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবহারকারীরা।

মিরপুর ১০-এর বাসিন্দা পরশ আহমেদ জানান, ১০ দিন ধরে তাদের বাসায় গ্যাস নেই। হোটেল থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। ঢাকার বছিলার বাসিন্দা দেলওয়ার হোসেন জানান, তিন দিন আগে সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়েছে। এরপর এলাকা থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর এলাকা ঘুরে একটিও সিলিন্ডার জোগাড় করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে রাতে একটি ইনডাকশন কুকার কিনেছেন। কিন্তু সেটিও কয়েক দোকান ঘুরে অনেক বেশি দামে কিনতে হয়েছে। অবশ্য জ্বালানি সংকটের এই প্রভাবে বাজারে ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে এলপিজির ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় রান্নার কাজে। গ্যাসের অভাবে অনেক এলাকায় এখন লাকড়ির চুলায় রান্না হচ্ছে। অন্যদিকে, চা দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রায় দ্বিগুণ দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। একজন চা দোকানি আক্ষেপ করে বলেন, ১ হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার এখন ৩ হাজার টাকায়ও পাচ্ছি না। কাস্টমার ধরে রাখতে চায়ের দাম না বাড়িয়ে লসে ব্যবসা করছি। ইতিমধ্যে আমদানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও এই দুই সপ্তাহ কবে নাগাদ শেষ হবে এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, রামপুরা ও মগবাজারসহ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় একই চিত্র। তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ২০২৬ সালেও গ্রাহক পর্যায়ে এই সমস্যা সমাধানের খুব একটা আশা নেই। অপরদিকে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে তিতাস গ্যাসের বিতরণ লাইনের দুর্ঘটনা। লিকেজের কারণে গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার গ্যাসের মূল বিতরণ লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার বিতরণ ব্যবস্থায় এটি তৃতীয় দুর্ঘটনা। জানা গেছে, উত্তরা টঙ্গী ব্রিজের কাছে এক শিল্প গ্রাহকের সার্ভিস লাইনের ভাল্ভ ফেটে উচ্চ চাপে গ্যাস লিকেজ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরার মূল পাইপলাইন থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিতাস জানায়, লিকেজের কারণে উত্তরার ১২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন ‘শাটডাউন’ করা হয়েছে। ফলে উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখানসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্ভটি প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে ৪ জানুয়ারি তুরাগ নদীর নিচে গ্যাস পাইপলাইনে ছিদ্র দেখা দিলে মিরপুর, শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এরপর ১০ জানুয়ারি গণভবনের সামনে একটি ভাল্ভ বিস্ফোরণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন রাতে নতুন ভাল্ভ বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও গ্রাহকদের ভোগান্তি ছিল চরমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একের পর এক দুর্ঘটনা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ঢাকার গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সংকট উত্তরণে শুধু মেরামত নয়, পুরো বিতরণ নেটওয়ার্কের টেকসই সংস্কার এখন সময়ের দাবি। জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, তিতাসের বিতরণ ব্যবস্থা জীর্ণ। এর মধ্যেই চুরি বেড়ে গেছে। তাই প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। গ্রাহকদের চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

অবশ্য মাসখানেক ধরে চলা এলপিজির সংকট এক সপ্তাহেই কেটে যাবে বলে গত সপ্তাহে যে আশার বাণী শুনিয়েছিল ব্যবসায়ী ও সরকার তা বাস্তবে ঘটেনি। বরং এলাকা ভেদে সিলিন্ডারের দাম আরও বাড়তির দিকে। সহসা এ নৈরাজ্য কমবে না বলে জানিয়েছেন একজন এলপিজি ব্যবসায়ী। তাঁর মতে ফেব্রুয়ারিতে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। আর চলতি মাসে একটি জাহাজ এলপি গ্যাসের উপাদান নিয়ে দেশে আসার কথা। সেটি এলে ভোগান্তি খানিকটা কমতে পারে।

এদিকে চলমান এলপিজি সংকটে রফতানিখাত, সারা দেশের পরিবহনব্যবস্থা, ভোক্তাস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান ভিত্তি ও শক্তি হলো অভ্যন্তরীণ টেক্সটাইল খাত। গত কয়েক দশকে এই খাত শুধু পোশাকশিল্পের কাঁচামাল সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ’র) অধীনে এক হাজার ৮৬৯টি স্কিনিং, উইভিং এবং ডাইং প্রিন্টিং ফিনিশিং মিল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশাল বিনিয়োগ দেশের বেসরকারি খাতে একক বৃহত্তম। জাতীয় রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাত থেকে, যার বেশির ভাগ জোগানদাতা এই প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টর। বর্তমানে টেক্সটাইলশিল্পের সবচেয়ে বড় সংকট জ্বালানি। গ্যাসের তীব্র ঘাটতি, অনিয়মিত সরবরাহ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। অনেক মিলেই গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অথচ একই সময় গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে জ্বালানি বিল ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি-এই ত্রিমুখী চাপে মিলগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। গত ১ বছরে প্রায় ৫০টি স্কিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরো অন্তত ৫০টি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শুধু রফতানিখাতই নয়; অভ্যন্তরীণ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও জ্বালানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে খাবারের দাম বাড়ছে। এই খাতে প্রায় ৩০ লাখ কর্মী নিয়োজিত আছেন। সংকট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, দেশে এখন লুটেরা, সাম্রাজ্যবাদীরা এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা করছে। তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ গ্যাস পাচ্ছে না। যারা কিনছে, তারা এক হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডারে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করছে। রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হলে গ্রাহক হারাচ্ছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা এবং তাদের লোকসান বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় পেট্রোবাংলা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে রয়েছে। এছাড়া সরকারের কোনো উপদেষ্টা এ নিয়ে কথা বলছেন না। এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু ভোক্তা-অধিকার অধিদফতর লোকদেখানো কিছু জরিমানা করছে। তাতে আরও হিতে বিপরীত হয়েছে।

এদিকে সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেড় লাখের বেশি এলপিজি চালিত গাড়ির ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকেরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না।

অথচ মোট গ্যাস ব্যবহারের মাত্র ৫ শতাংশ ব্যবহার করে পরিবহন খাত। বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে চাহিদামতো গ্যাস পাচ্ছে না সিএনজি স্টেশন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহ আরও কমেছে। কম চাপ থাকায় গ্যাস নিতে একটি গাড়ির পাঁচ মিনিটের বদলে এক-দেড় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। স্টেশনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

তিতাস সূত্র বলছে, শীতের সময় তাপমাত্রার কারণে গ্যাসের চাপ কমে যায়। এর সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী সাইদুল হাসান বলেন, ২০২৬ সালেও আবাসিক গ্রাহকপ্রান্তে সমাধানের খুব একটা আশা আমি দেখছি না। তবে আমরা প্রিপেইড মিটার দেওয়ার কাজ দ্রুত করার চেষ্টা করছি। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে এটি সম্পন্ন হলে অন্তত গ্যাস না পেয়েও বিল দেওয়ার যে অসন্তোষ, তা দূর হবে।

যশোর ব্যুরো জানায়, সারা দেশের মত যশোর জেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এলপিজি গ্যাস সঙ্কট। সেনা কল্যাণ সংস্থার সিলিন্ডার ছাড়া বড় কোনো কোম্পানির এলপিজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের।

কয়েকদিন আগে অতিরিক্ত দামে সীমিত পরিসরে গ্যাস মিললেও গত তিন দিনে অনেক ডিলার পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। কোথাও বছরের প্রথম থেকে সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়া দরে পাওয়া যাচ্ছেনা এলপিজি গ্যাস। দুই সপ্তাহ ধরে চলছে এই সঙ্কট। শহরের বিভিন্ন এলাকা ও দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত দামের চাইতে অতিরিক্ত দাম দিলে মিলছে গ্যাস। সরকারিভাবে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে যশোরে সেটা বিক্রি হচ্ছে ১ এক হাজার ৪৫০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় বা তারও অধিক দামে।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণ গ্যাস মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। রান্না ও ব্যবসা পরিচালনায় বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে।

নিরালা বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন জানান, দুই দিন আগে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনেছিলাম। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দোকানে গিয়ে দেখি, ওই কোম্পানির গ্যাস নেই। পরে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে হয় এক হাজার ৮০০ টাকায়। এভাবে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে ব্যবসা চালানো আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দ্রুত এই সঙ্কটের সমাধান প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আই গ্যাসের খুলনা অঞ্চলের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেইনবো এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শামীম রেজা বলেন, এ অবস্থায় ডিলারদের করার কিছু নেই। তার দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫০০ বোতল হলেও বর্তমানে পাচ্ছেন মাত্র ২০০ বোতল। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কোম্পানি থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে, শিগগিরই এই সঙ্কট কেটে যাবে।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী নগরী ও আশপাশের এলাকায় এলপিজি গ্যাসের সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ সর্বত্রই রান্নার জ্বালানির জন্য চলছে হাহাকার। গতকাল নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতার কাছে সিলিন্ডারের মজুত খুবই কম কিংবা একেবারেই নেই। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছি, কিন্তু কেউ বলতে পারছে না কবে স্বাভাবিক হবে। কোথাও গ্যাস পেলে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা জানান, গ্যাসের সঙ্কটে তাদের ব্যবসা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সময় কমিয়ে দোকান খুলছেন কিংবা মেনু সীমিত করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা চালানো কঠিন হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের এক পরিবেশক জানান, সরবরাহ না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে তাদের ডিপো বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন কচি বলেন, রাজশাহীতে প্রতিদিন ৫০ হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে। তবে চার ভাগের এক ভাগই এখন সরবরাহ নেই।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে ১৮টি কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। তবে বর্তমানে এমবি, সান, যমুনা ও আই গ্যাস মিলে মোট ৪টি কোম্পানি সরবরাহ করছি। প্রতিদিনই আগে গ্যাস সরবরাহ হতো এখন সেটিও হচ্ছে না। ফলে সঙ্কট থেকেই যাচ্ছে। কবে যে এটি কেটে যাবে সেটিও তারা বলতে পারছেন না।

সিলেট ব্যুরো জানায়, গত তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ সঙ্কট সিলেটেও। এতে গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুচরা বাজারে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকা। কিন্ত সেই গ্যাস সিলেটে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা। সিলেট জেলায় গ্যাস সিলিন্ডারের মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে সেই চাহিদা মেটাতে পারছে না গ্যাস সরবরাহকারী দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ সরবরাহ ব্যর্থতা।

সিলেটের বৃহৎ সিলিন্ডার ডিপোর পরিচালক কামাল উদ্দিন আহমদ বলেন, ডিপো পর্যায়ে দাম বাড়েনি। সরকারি নির্ধারিত দরের মধ্যেই রয়েছে। কিন্ত পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা দর বাড়িয়ে বিক্রি করছে, এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে পাইকারী বিক্রেতাদের প্রতিদিন ১০০টি সিলিন্ডার দেয়া সম্ভব হলেও এখন ২০-২৫টি দিতে পারছি আমরা। চলমান সঙ্কট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশাবাদী তিনি।

এলপিজি পরিবেশক সিলেট জেলা সমিতির সভাপতি মাহবুবর রহমান বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত রেখেছে। ট্রাক গিয়ে বসে থাকছে, খরচ বাড়ছে। সব মিলিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার সংকট সিলেটজুড়ে। সেই সংকট ও বাড়তি দামের ভোগান্তি লাগবে সরবরাহ স্বাভাবিক করণ জরুরি।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, গত মাসখানেক ধরে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে এলপি গ্যাসের চরম সঙ্কটের সাথে মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সাধারণ গৃহস্থের পাশাপাশি হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোও গ্যাস সঙ্কটে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারছে না। অপরদিকে গ্যাস সংকটে অনেক এলপিজি ফিলিং স্টেশনও বন্ধের পথে।

বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অজুহাতে গত কয়েকমাস ধরে বরিশাল অঞ্চলে এলপিজির সরবারহ সিমিত করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও কিছু করতে পারছে না। এমনকি সাড়ে ১২ কেজি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এক হাজার ৩৩০ টাকা হলেও বেসরকারি বিপণন কোম্পানীগুলো তা ডিলার পর্যায়েই বিক্রি করছে এক হাজার ৩৭০ থেকে এক হাজার ৩৮০ টাকায়। ফলে খুচরা ডিলাররা ভোক্তাদের কাছে তা এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৪২০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে সরবারহ সংকটে বেশীরভাগ ডিলারের কাছেই গ্যাস মিলছে না।

এদিকে সরকার নির্ধারিত দরের বেশি দামে বিক্রি করায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতোমধ্যে ডিলারদের জরিমানা করায় ধর্মঘটও করেছেন তারা। ফলে সেখান থেকে প্রশাসন কিছুটা সড়ে এলেও বিপণন কোম্পানীগুলো কেন বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে তা খতিয়ে দেখছেন না প্রশাসনসহ ভোক্তা অধিকার অধিদফতরও।

বিশেষ সংবাদদাতা জানান, জেলার প্রধান বাজার বড়বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানের সামনে ঝুলছে ‘বসুন্ধরা গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কয়েকদিন ধরে কোম্পানি থেকে কোনো নতুন লোড আসেনি। ফলে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে।
বসুন্ধরা গ্যাস না থাকায় অন্যান্য ব্র্যান্ডের এলপিজির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে গিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩৮০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। পরিচিত ক্রেতা না হলে বা গুদাম থেকে সরাসরি সংগ্রহ না করলে অনেকের পক্ষেই গ্যাস জোটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, কুমিল্লায় সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিক্রেতারা সরবরাহ কম দেখিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে।

গৃহস্থালির রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। কুমিল্লায় সরবরাহ কম এই অজুহাত তুলে গত তিন সপ্তাহ ধরে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ থাকলেও বাস্তবে তা বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ থেকে শুরু করে এক হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। কুমিল্লার কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তারা এই সঙ্কটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কুমিল্লার খুচরা ব্যবসায়ী ও ডিলাররা জানান, জেলায় প্রতি মাসে ৮০ হাজারের বেশি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণে গত দুই তিন সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে আবার সিলিন্ডারের সঙ্কটও রয়েছে।

এদিকে কুমিল্লায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার দায়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে গুণতে হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকা বা তারও বেশি। যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার হাজারো পরিবার, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নি¤œআয়ের মানুষ। এলপি গ্যাসের এই সংকট দ্রুত নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শিবপুর (নরসিংদী) উপজেলা সংবাদদদাতা জানান, শিবপুর পৌর বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ গেইটসহ বিভিন্ন এলাকার এলপিজি গ্যাস বিক্রির দোকানগুলো অধিকাংশই বন্ধ। যেগুলো খোলা রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেই গ্যাসের কোনো সরবরাহ নেই। আবার কোথাও কোথাও গ্যাস থাকলেও অতিরিক্ত দামে বিক্রির আশায় দোকান বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ বিক্রি করলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের স্থলে দুই হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে।

স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। চাহিদা থাকলেও সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও জানান তারা।