Image description

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে চলছে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শুনানি। রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি এরই মধ্যে তিনদিন শেষ হয়েছে। এই সময়ে মোট ১৫১টি আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল শেষদিনে মঞ্জুর হয়েছে ৪১টি আবেদন। যদিও রোববারের একটিসহ মোট ৭১টি শুনানি হয়েছে এদিন।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী শুনানি শেষে, ইসি’র জনসংযোগ অধিশাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, শুনানিতে মোট আবেদনগুলোর মধ্যে মঞ্জুর হয়েছে: ৪১টি আবেদন। না-মঞ্জুর হয়েছে: ২৪টি আবেদন। অপেক্ষমাণ (পেন্ডিং): ৪টি আবেদন। পাবনা-২: এই আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত থাকায় ১৬১/২০২৬ নম্বর আপিল আবেদনটির শুনানি আজ (গতকাল) অনুষ্ঠিত হয়নি। চট্টগ্রাম-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানা তার দায়ের করা ১৫৭/২০২৬ নম্বর আপিল আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ-৪ আসনে রোববার যে আবেদনটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল সেই শুনানি শেষে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো: হামিদুল ইসলামের আপিল আবেদনটি মঞ্জুর করেছে কমিশন।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ই জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ই জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। এর আগে ৪ঠা জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন। 

শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।  রোববার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
‎উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০শে জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১শে জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২শে জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ করা হবে ১২ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

মনোনয়ন জমা দেয়ার জট কাটলো হিরো আলমের: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত। শুরুতে গুঞ্জন ছিল, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ‘আমজনতা’ দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম জমা দিতে না পারায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এতে করে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে হাইকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

ফ্যাসিস্ট রেজিমে নির্বাচন পরিচালনা করছে কমিশন: এড. কাইয়ুম
আপিলের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম। সোমবার নির্বাচন ভবনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে তিনি বলেন,  নির্বাচন কমিশন সংস্কার সবার আগে প্রয়োজন। দেশে সবচেয়ে কম সংস্কার হয়েছে এখানে। তারা হাসিনা রেজিমে, ফ্যাসিস্ট আইন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করছেÑ অভিযোগ করে কাইয়ুম বলেন, মাঠ পর্যায়ে ইউএনও আর ডিসিরা নির্বাচন পরিচালনা করছে। এবং তারা গত সরকারের অপকর্মকে ঢাকার জন্য, যে সরকার নির্বাচিত হতে পারে বলে তারা মনে করছে তাদেরকে হাসিনার চেয়ে বেশি সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছে। 

জাপা মহাসচিবের যত অভিযোগ: জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, জুলাইযোদ্ধা নামের কিছু দুষ্কৃতকারী জাতীয় পার্টির বগুড়ার পার্টি অফিস দখলে নিয়েছে। দখলে নিয়ে গণভোটের ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছে। আজ (গতকাল) সোমবার নির্বাচন ভবনে দলের প্রার্থীদের আপিল শুনানিতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির বগুড়া পার্টি অফিসে এখনো তালা ঝুলছে।  

জাতীয় পার্টি এখনো এটার আইনগত দখলের অধিকারী।  কিন্তু ‘জুলাইযোদ্ধা’ নামের ব্যানারে কিছু দুষ্কৃতকারী, আমরা মনে করি কেউ কেউ অফিসটি দখল করে দোকান ভাড়া দেয়ার উদ্দেশ্যে অথবা জাতীয় পার্টিকে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার হীন উদ্দেশ্যে, গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে সেখানে তারা তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সেখানে তারা ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটের ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন,  গণভোট একটি সম্মানিত বিষয়, কিন্তু কারও পার্টি অফিসে দখল করে গণভোটের ব্যানার লাগিয়ে দিয়ে গণভোটকে ছাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি জুলাইযোদ্ধা নামের কোনো সেন্ট্রাল সংগঠন থাকে, বগুড়ার বিষয়টি তদন্ত করে তাদেরকে বহিষ্কার করা। 

ঢাকা-১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজু: আমার বাবা এই আসনের সাবেক ৫ বারের এমপি আলহাজ খালেক সাহেব এলাকার জন্য কাজ করে গেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমিও কাজ করে যাবো। দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে পড়ে ভোট দিতে পারেননি। এখন তারা অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট  দেবেন সেই আশা রাখছেন।