Image description

নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। এ সময় মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক সূত্র মানবজমিনকে জানিয়েছে, আগামী ১৫ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্যদিয়ে ঢাকা মিশন শুরু করবেন নয়া মার্কিন দূত।

আজ তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার প্রধান নুরাল ইসলামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। কাল ক্রিডেনশিয়াল সাবমিশনের প্রস্তুতি রেকি করা হবে। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পিটার হাস্‌-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত শিডিউল মতে, এর মধ্যে প্রার্থীদের নমিনেশন দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পরপর নির্বাচন এবং পরবর্তী সরকার বিষয়ে জানা-বুঝায় মার্কিন দূতকে ব্যস্ত সময় কাটাতে হবে। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে মনোনীত করেন। অক্টোবরে মার্কিন সিনেট তার নিয়োগ অনুমোদন করে। এ সময় সিনেটের শুনানিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হয়ে ঢাকায় এলে প্রতিরক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকির বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ৯ই জানুয়ারি বিকালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি শপথ নেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে দেশটির ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে স্বাগত জানায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। বাংলাদেশে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, যে দেশটির সঙ্গে আমি খুব ভালোভাবে পরিচিত, সেই বাংলাদেশে ফিরতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। উল্লেখ্য, ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে তার স্ত্রী ডিয়ান ডাও বাংলাদেশে এসেছেন।

মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এমনটাই জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত পোস্টে দূতাবাস ক্রিস্টেনসেনকে উদ্ধৃত করে লিখেছে- বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য সম্মানের বিষয়। আমি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে আগ্রহী। আমার স্ত্রী এবং আমি এমন একটি দেশে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত, যে দেশের সঙ্গে আমাদের অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।