Image description

ঢাকা-১৬ (পল্লবী ও রূপনগর থানার বড় অংশ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। আমিনুল হকের বর্তমান পেশা ব্যবসা। তার স্ত্রী এবং এক মেয়েও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে আমিনুল হকের নামে কোনো মামলা বিচারাধীন নেই এবং এই প্রথম তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আমিনুল হকের নামে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ৩৬টি মামলা দায়ের হয়। তবে ২০২৪ সালের পর সবগুলো মামলা থেকেই তিনি আদালতের মাধ্যমে অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।

হলফনামায়, আমিনুল হকের আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা। এখান থেকে তার বাৎসরিক আয় ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া ব্যবসা থেকে তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয় ১০ লাখ টাকা এবং তার মেয়ের বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আমিনুল হক বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা বাণিজ্যিক স্থানের ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় করেন ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। তার শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে আয় হয় ৭ লাখ ১ হাজার ২৬৫ টাকা। শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে তার মেয়ের আয় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১৯ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আমিনুল হকের নগদ জমা আছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬৭০ টাকা। স্ত্রীর কাছে আছে ৩০ লাখ ৬৬ হাজার ৬০ টাকা এবং মেয়ের কাছে আছে ৫ হাজার ৫০৩ টাকা। ব্যবসায়িক কাজে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা তার মোট অর্থ ও সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১৮ লাখ ১২ হাজার ৪৩৪ টাকা। আমিনুল হকের নিজ নামে বন্ড, ঋণপত্র বা শেয়ার আছে প্রায় সাত লাখ টাকার। তার স্ত্রীর নামে শেয়ার আছে ৫ লাখ টাকার এবং মেয়ের নামে শেয়ার আছে ৩ লাখ টাকা সমমূল্যের। নিজ নামে আমিনুল হকের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত আছে ৭৭ লাখ ৭১ হাজার ৮১২ টাকার। মেয়ের নামে এফডিআর আছে ৪০ লাখ টাকার।

আমিনুল হকের নিজ নামে ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরযান রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে আছে ৬০ লাখ টাকা মূল্যের এবং মেয়ের নামে আছে ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের মোটরযান। আমিনুল হকে নিজের ১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। স্ত্রীর আছে ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ আর মেয়ের আছে ৫০ ভরি স্বর্ণ। সব মিলে তাদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে আমিনুল হকের অকৃষি জমি আছে ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের (অর্জনকালীন)। এছাড়া, অংশীদার হিসেবে দালান, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে তার। এসব সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৮৫ লাখ টাকার বেশি এবং বর্তমানে এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

আমিনুল হক ব্যবসার কাজে সুবাদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন যৌথভাবে। তার নিজের অংশের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ টাকা। এছাড়া চারটি ক্রেডিট কার্ড রয়েছে নিজের।তার স্ত্রীর নামে আছে দুটি ক্রেডিট কার্ড এবং মেয়ের নামে আছে দুটি ক্রেডিট কার্ড। আমিনুল হকের নিজের নামে বা পরিবারের কারো নামে কোনো সরকারি পাওনা নেই।

আমিনুল হকের আয়কর রিটার্ন জামার তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে তার আয়ের পরিমাণ ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ১৪২ টাকা এবং সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৫ টাকার। তিনি এ সময়ে আয়কর দিয়েছেন ৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া একই অর্থ বছরে তার স্ত্রীর আয় ১০ লাখ টাকা এবং মেয়ের আয় ১০ লাখ টাকার সামান্য বেশি।