Image description

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গা। নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যার জেরে বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে এসেছে তারা। সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা আসে ২০১৭ সালে। ওই সময় কূটনীতিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বর্তমান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তখন তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, “১-২ বছরের মধ্যে তাদের ফেরত যাওয়া হবে না, ফেরত পাঠানোর জন্য ১৫ বছরের প্রস্তুতি নিতে হবে”।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই পরামর্শ আমলে নিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, ২০৩২ সালের আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হচ্ছে না। কারণ সঠিকভাবে কেউ বলতে পারছে না রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে কবে ফেরত পাঠানো যাবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক দাতাদের সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে তৈরি হয়েছে আরেকটি মানবিক সংকট।     

২০২৫ সালে নতুন করে সোয়া লাখের বেশি নতুন রোহিঙ্গা

কক্সবাজার জেলায় রয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য রয়েছে ৩৩টি ক্যাম্প। এছাড়া অনেকে রয়েছে নোয়াখালীর ভাসানচরে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৮ জনকে নতুন রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দেশে প্রবেশ করেছে। অক্টোবরে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৪০ জন। অর্থাৎ, প্রতি মাসে নতুন আগত রোহিঙ্গা শনাক্ত হচ্ছে।

প্রত্যাবাসনের স্বপ্নে ধুলো পড়েছে

প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপর ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও এর কার্যপ্রণালি ঠিক করা হয়। পরের বছরের ১৬ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ের চুক্তি ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী শর্ত ছিল, মিয়ানমার প্রতিদিন ৩০০ করে প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে এবং দু’বছরের মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শেষ করা হবে।

কিন্তু, সেই চুক্তি মোতাবেক কিছুই হয়নি। তিন বছর স্থবির থাকে প্রত্যাবাসন, একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। এরপর আবার প্রত্যাবাসনের আলো জ্বালানো হয়। মিয়ানমারের সামরিক সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরিচয় যাচাই করে তাদের ফেরত নেওয়া হবে বলে ২০২২ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকার জানায়। কিন্তু, কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শুরু হবে সেই সম্পর্কে কোনও ধারণা তখনও পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ ঘোষণা করেছিল দু’দেশ। কিন্তু রোহিঙ্গারা ‘যেতে রাজি না’ হওয়ায় সেটা পণ্ড হয় যায়। একইভাবে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইনি। রাখাইনে স্বেচ্ছায় ফেরার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্বে ছিল ইউএনএইচসিআর। পরিচয় যাচাই-বাছাই করে ওইবার সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গার তালিকা ইউএনএইচসিআরকে দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোহিঙ্গারা যে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়ে এসেছে, সেই অবস্থায় এই পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি মিয়ানমারকে শিথিল করতে বলে চীন। 

এক লাখ ৮০ হাজার প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত 

২০১৮ থেকে ২০ সালের মধ্যে ছয় ধাপে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের তালিকা দেয় বাংলাদেশ। মিয়ানমার তা যাচাই-বাছাই করা শুরু করে। গত বছরের এপ্রিলে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং মিয়ানমারের জান্তা সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউ থান শিউ। সেখানে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া তালিকাভুক্ত আট লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার যোগ্য। এ ছাড়া চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে ৭০ হাজার রোহিঙ্গার নাম ও ছবি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর বাইরে আরও সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের কাজ জরুরি ভিত্তিতে করবে জান্তা সরকার।

প্রত্যাশা অনেক থাকলেও প্রাপ্তি শূন্য

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের প্রত্যাবাসনে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমে ড. খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়। গত বছরের আগস্টে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের শরীরে ক্যানসারের মতো। এর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। ইস্যুটি এতদিন আইসিইউতে ছিল, আমরা চিকিৎসা শুরু করেছি। সব ডাক্তার মিলে এর চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলতে হবে।” রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রাখার আহ্বান জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেছিলেন, “এই সরকার যা করছে তা অন্তর্বর্তী কাজ নয়, যারাই ক্ষমতায় আসুক তারাও এই প্রক্রিয়া চালিয়ে নেবে। রাজনৈতিক নেতারা সেই অঙ্গীকার করেছেন।”

তিনি আরও বলেছিলেন, “রোহিঙ্গারা দ্বিধাহীনভাবে ফেরত যাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। এক লাখ ৮০ হাজার ছাড়াও আরও বেশ কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করেছে মিয়ানমার। তাদের পক্ষ থেকেও কিছু কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলতে পারে বলেও তখন হুঁশিয়ার করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে তুলে ধরেছেন। তার আমন্ত্রণে গত বছরের ১৩ মার্চ ঢাকায় আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার সফরের মূল উদ্দেশ্যে ছিল রোহিঙ্গা সংকট যেন আবারও বৈশ্বিক এজেন্ডায় উঠে আসে। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে বলে তখন আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “এই ঈদে না হোক, তবে আগামী রোজার ঈদ যেন আপনারা নিজ মাতৃভূমিতে স্বজনদের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” 

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পর অনেকেই আশা করেছিলেন এবার হয়তো প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে। কিন্তু, এতে তেমন কোনও অগ্রগতি নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। 

মিয়ানমারের পরিস্থিতি কতটুকু উপযুক্ত 

২০২১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে সংঘাত চলমান। ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহর সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কাছে হারিয়েছে জান্তা বাহিনী।

বারবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা পেছাতে থাকে জান্তা সরকার। অবশেষে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে প্রধম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দেশটিতে। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়েছে সেনা সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউএসডিপি। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৭ শতাংশ আসনে জিতেছে দলটি। ইউএসডিপিকে সামরিক বাহিনীর আজ্ঞাবহ দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার প্রত্যাশা করা হলেও বাস্তবে তেমন কিছু হচ্ছে না বলে ধারণা করায় যায়।

এশিয়ান পরাশক্তিরা ধারণা করছে, একটি জালিয়াতি ভোটের পরে সামরিক নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে।

কমে গেছে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বিদেশি সহায়তা কমে গেছে অনেকাংশে। এতে করে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআর। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য সেবা চলমান রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

জাতিসংঘের সংস্থাটির তথ্যমতে, রোহিঙ্গা মানবিক সংকটে প্রতিষ্ঠা করা জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) অধীনে ২০২৫ সালের প্রয়োজন ছিল ৯৪ কোটি মার্কিন ডলার, যার  ৬০ শতাংশ তারা পেয়েছে। অর্থের এই পরিমাণ আগের বছরের চেয়েও কম। এই নিম্নমুখী প্রবণতা চলতি বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএনএইচসিআর’র কাছে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে বলা হয়, আট বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান একটি পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করা চ্যালেঞ্জিং। সংস্থাটির মুখপাত্র শারি নিজমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মানবিক সহায়তা হ্রাস পেলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যে সহায়তা এবং পরিষেবাগুলো সরবরাহ করা হয়, তা মূল মানবিক সহায়তার ন্যূনতম মানদণ্ডের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তানির্ভরতা মোকাবিলায় কিছু কার্যক্রম জীবন রক্ষাকারী না হলেও অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পের অভ্যন্তরে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকার সুযোগের মাধ্যমে শরণার্থীদের আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর জন্য চলমান প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, তাদের সহায়তার জন্য কাটছাঁট পরিবেশকে আরও খারাপ করবে, জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে এবং শরণার্থী ও স্থানীয় সম্প্রদায় উভয়কেই অস্থিতিশীল করবে।”

প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে শারি নিজমান বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার এমন আছেন যারা ২০২৪ সালে নতুন করে লড়াই, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে পালিয়ে এসেছে। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশ থেকে শরণার্থীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল নয়। রাখাইন রাজ্যের মানবিক পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। ব্যাপক লড়াইয়ের প্রভাবের ফলে খাদ্য বা বিদ্যুতের মতো মৌলিক সম্পদের ঘাটতি আছে। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ফের জেগে উঠছে।”

ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র বলেন, “প্রতিটি শরণার্থীর তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার আছে এবং এই নীতিটি অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। অনেক রোহিঙ্গা দ্রুত সময়ে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। চূড়ান্তভাবে এই সংকটের সমাধান মিয়ানমারের মধ্যে রয়েছে। যেকোনও প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, আগে থেকে অবহিত এবং নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে পরিচালিত হতে হবে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গত নভেম্বরে একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “যখন রোহিঙ্গা আসা শুরু হয়েছিল, আমি বলেছিলাম ১৫ বছরের প্রস্তুতি নিতে। যখন মনে করা হয়েছে, ১-২ বছরের মধ্যে চলে যাবে; আমার কলিগ বলেছিলেন এটা একটা মানবিক সংকট, আমরা যেন নিরাপত্তাজনিত হিসেবে না দেখি। আমি বলেছিলাম, এটা মানবিক ইস্যু এবং একইসঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুও। ১-২ বছরের মধ্যে ফেরত যাওয়া হবে না। দুর্ভাগ্যবশত আমার কথা ঠিক হয়েছে। আমি বলেছিলাম, এদের ফেরত পাঠানোর জন্য ১৫ বছরের প্রস্তুতি নিতে হবে, তার জন্য যা যা করা দরকার সব কিছু করতে হবে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি, একটা রোডম্যাপে আসতে পারি কিনা। এখানে সমস্যা অনেক আছে। আশপাশের দেশগুলোর স্বার্থ আছে। আমি কিন্তু তাদের দোষারোপ করতে চাই না। তারা তাদের স্বার্থ অনুযায়ী চেষ্টা করবে। তাদের আমরা বোঝানোর চেষ্টা করবো, একটা হয়তো মাঝামাঝি অবস্থায় আসা যেতেও পারে। কিন্তু, আমি আমাদের বিদেশি অতিথিদের এটাই সব সময় বলে থাকি যে এটা একটা টিকিং টাইম বোম্ব। টাইম বোম্ব কারণ এখানে পাঁচ থেকে সাত লাখ তরুণ মানুষকে একটা ঘেরাটোপের মধ্যে ফেলে রাখবেন সারা জীবন, এটা তারা মানবে না। তারা বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত হবে, যেটার লক্ষণ আমরা দেখছি ইতোমধ্যে। যারা অত্যাচার করে পাঠিয়েছে তাদেরই মাদক এখন তাদের কাছে। এটার সুবিধাভোগী তারাই যারা রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার করেছে। এটা একটা বিরাট সমস্যা, আমি জানি না এটা কীভাবে সমাধান হবে।”

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির বলেন, “রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কেমন সময় লাগবে এটা বলা মুশকিল। এটা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। তবে, আমাদের দিক থেকে আমরা চাই, ওরা যত দ্রুত চলে যায় চলে যায়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে কম সময়ে সেটা সম্ভব, যদি দু’পক্ষই সমস্যাটা দ্রুত সমাধান করার বিষয়ে সক্রিয় থাকে।”