Image description
জমজমাট হচ্ছে ভোটের মাঠ

নির্বাচন কমিশনে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আরও ৫৮ জন। এর মধ্যে রয়েছেন বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ জামায়াতের দুইজন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ছয়জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুজন এবং স্বতন্ত্র ১০ জন প্রার্থী। আপিলের রায়ে তাঁরা ফিরলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে।

গতকাল নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী আপিল শুনানিতে তাঁরা নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পান। ফলে এখন বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজার ৯৫০ জনে। বাছাইয়ে পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৪২ জন। প্রথম দিনের আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পান ৫১ জন। গতকাল সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর শুনানি নিয়ে বাছাইয়ে বাতিলের রায় বহাল রাখা হয়। এ ছাড়া ছয়জনের শুনানি পেন্ডিং রাখা হয়। আজ সোমবার নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৪১-২১০ নম্বর আসনের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি চলবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে ৬৪৫টি আপিল আবেদন দাখিল হয়। শনি ও রবিবার দুই দিনে ১৪০টির আপিল শুনানি হয়।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে ৫৮টি আবেদন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন। আপিল শুনানিতে সাতটি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং ছয়টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শনিবার অপেক্ষমাণ থাকা মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের শুনানি নিয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বৈধ প্রার্থী বেড়ে ১ হাজার ৯৫০ জন বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছে।

‘কূটকৌশল’ করা হয়েছিল : মান্না

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর নির্বাচন ভবনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘প্রার্থিতা যাচাইবাছাইয়ের উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেওয়া নয়, বরং ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিক সংশোধন কিংবা সময় দিয়ে ঠিক করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি হলফনামায় ভুল থাকলেও সম্পূরক হলফনামা দেওয়ার বিধান আছে। অথচ আমাকে বিরোধিতা করতে যে কূটকৌশল করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়। না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না। রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে আমরা যে অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটলে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছু থাকে না।’

তুচ্ছ কারণে বিপুলসংখ্যক মনোনয়নপত্র বাতিল অযৌক্তিক : গতকাল নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, তুচ্ছ ও কারিগরি ভুলের কারণে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অযৌক্তিক। এজন্য অকারণে আপিল করতে হয়েছে। জাতীয় পার্টির ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের আপিল গ্রহণ করেছে আপিল ট্রাইব্যুনাল। দুজনের আপিল নামঞ্জুর হওয়ায় তাঁরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যে ৫৮ জন : চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবদুল মুবিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে খেলাফতে মজলিসের খন্দকার রুহুল আমিন, টাঙ্গাইল-৫ খেলাফতে মজলিসের হাসনাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ খেলাফতে মজলিসের শহীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৭ খেলাফতে মজলিসের মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-২ স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু, জয়পুরহাট-২ এবি পার্টির এস এ জাহিদ, রাঙামাটি স্বতন্ত্র পহেল চাকমা, জয়পুরহাট-১ এবি পার্টির সুলতান মোহাম্মদ শামছুজ্জামান, কুমিল্লা-১ জাতীয় পার্টির ইফতেখার আহসান, ঢাকা-১ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ বাসদের কামরুন্নাহার সাথী, কুমিল্লা-৮ বাসদের আলী আশ্রাফ, নেত্রকোনা-১ জেএসডির বেলাল হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ মুক্তিজোটের শাহিনুর রহমান, নড়াইল-২ গণঅধিকার পরিষদের নূরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-৪ মুক্তিজোটের রাশেদুল ইসলাম খোকন, লক্ষ্মীপুর-২ বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ফরহাদ মিয়া, জামালপুর-৩ জামায়াতে ইসলামীর মজিবুর রহমান আজাদী, সাতক্ষীরা-৩ স্বতন্ত্র শহীদুল আলম, বগুড়া-২ জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, লক্ষ্মীপুর-২ গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার, চাঁদপুর-১ গণঅধিকার পরিষদের এনায়েত হোসেন, মাদারীপুর-৩ বাসদের আমিনুল ইসলাম, যশোর-২ স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম, ঢাকা-৮ জনতার দলের গোলাম সরোয়ার, ঢাকা-১০ জনতার দলের জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির সেলিম আহমেদ, চাঁদপুর-২ রিপাবলিকান পার্টির ফয়জুননুর, নারায়ণগঞ্জ-৪ গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-৫ গণঅধিকার পরিষদের নাহিদ হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আমজনতার দলের আলমগীর হোসেন, বগুড়া-৬ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মামুনুর রশীদ, সিরাজগঞ্জ-১ নাগরিক ঐক্যর নাজমুস সাকিব, ঢাকা-১৮ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ, বগুড়া-২ নাগরিক ঐক্যর মাহমুদুর রহমান মান্না, ঝালকাঠি-১ গণঅধিকার পরিষদের শাহাদৎ হোসেন, ঢাকা-১৫ সুপ্রীম পার্টির মোবারক হোসেন, নীলফামারী-৪ স্বতন্ত্র রিয়াদ আরফান সরকার, সুনামগঞ্জ-১ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাজি মুখলেছুর রহমান, জামালপুর-৩ স্বতন্ত্র সাদিকুর রহমান, ঝালকাঠি-২ স্বতন্ত্র নুরুদ্দীন সরদার, জয়পুরহাট-১ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, হবিগঞ্জ-৪ স্বতন্ত্র মিজানুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা-১৮ লিবারেশন ডেমোক্রেটিক পার্টির মফিজুল ইসলাম, ঢাকা-৭ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মাকসুদুর রহমান, নড়াইল-১ স্বতন্ত্র এস এম সাজ্জাদ হোসেন, বগুড়া-৫ এলডিপির খান কুদরদ ই সাকলায়েন, গাইবান্ধা-২ খেলাফতে মজলিসের এ কে এম গোলাম আযম, গাইবান্ধা-৩ জনতার দলের মঞ্জুরুল হক, ফেনী-৩ খেলফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী, মাগুরা-১ গণফোরামের মিজানুর রহমান, যশোর-৪ জাতীয় পার্টির জহুরুল হক, যশোর-৫ জাতীয় পার্টির এম এ হালিম, যশোর-৬ জাতীয় পার্টির জিএম হাসান, রাজশাহী-৬ জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন।