কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে সোহেল জোয়ার্দ্দার (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় হাত থেকে তার কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সুতোর মতো ঝুলছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই ঘটনার পর হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে একজনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত সোহেল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের মৃত ওমর আলী জোয়ার্দ্দারের ছেলে। তিনি ওই এলাকার একজন কাপড় ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে সোহেল মোটর সাইকেল করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়ক লাগোয়া শহরের মজমপুর এলাকাস্থ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় অপর মোটর সাইকেলের চালকসহ দুইজন আরোহী তার গতিরোধ করে। এরপর চাপাতি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি কোপায় হামলাকারীরা। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মহাসড়কের উপর লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা তার হাতের কবজি কেটে নে। তবে কবজির অংশ একেবারে বিচ্ছিন্ন না হলেও তা হাতের সঙ্গে ঝুলছিল। ঘটনার পর তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
এদিকে হামলার পর হামলাকারীর পালানোর চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে কাওসারকে (২২) ধাওয়া করে হাতেনাতে আটকের পর গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক যুবককেও পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত সোহেলের ভাই সিরাজ জোয়ার্দ্দার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করেছে। এই হামলার সঙ্গে জড়িতরা চাঁদাবাজি, বেআইনিভাবে পদ্মার বালু উত্তোলনসহ নানা অপরাধের জড়িত। আমার ভাইকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আমরা সেখানে যাচ্ছি। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শীর্ষনিউজ