Image description
 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে-কোনো সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলীয় নেতাদের নিরাপত্তা সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

সরকার প্রার্থীদের নিরাপত্তায় কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে কিনা, জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, এটা নিয়ে কিন্তু আমরা পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে, আমাদের সিকিউরিটি যারা দেখেন, যে এজেন্সিগুলো তারা কথা বলেছেন। যাদের যাদের সিকিউরিটি দরকার, তাদের অনেককেই গানম্যান দেওয়া হয়েছে। আপনি পুরো লিস্টটা পুলিশের কাছে পাবেন, পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর কাছেও পাবেন। অনেকে এ বিষয়ে বলতেও চান না, সেজন্য আমরা বলছিও না। বাট সিকিউরিটি, পলিটিক্যাল পার্টি লিডারদের সিকিউরিটি অবশ্যই আমাদের একটা টপ প্রাইওরিটি। সেটা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এটা নিয়ে খুব কাজ করছে। আর এরপরেও যদি স্থানীয় লেভেল থেকে তারা সিকিউরিটি চান, সেটা পুলিশ অবশ্যই খতিয়ে দেখবেন তাদের কতটুকু প্রয়োজন।’’

 

নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এখনো কনফিউশন তৈরি করছে, তাদের প্রোফাইল সরকার স্পষ্টভাবে জানে। নির্বাচনের বিষয়ে যারা কনফিউশন এখনো ছড়াচ্ছেন আমরা দেখছি তো আমাদের তাদের প্রোফাইলগুলো খুবই ক্লিয়ার। তারা আগে কি তাদের রোল কি ছিল? তারা কেন কনফিউশন ছড়াচ্ছেন? নির্বাচনের ৩৭ দিন বাকি আছে। আমরা মনে করি আমরা খুবই ভালোভাবে প্রিপেয়ারড আছি।

প্রেস সচিব জানান, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। কারণ সম্প্রতি বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি বড় ইভেন্ট, শরীফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে বড় রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা, সফলভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। এই তিন তিনটা ইভেন্ট পুলিশ সিকিউরিটি ফোর্সেস খুব সুচারুভাবে অর্গানাইজ করেছেন সেইজন্য আমি বলছি যে আমাদের আরো কনফিডেন্সটা আর একটু বেটার।

গণভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রেসসচিব বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪ লাখ মসজিদ, অসংখ্য মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নেটওয়ার্ক গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমেও গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বর্তমানে নির্বাচন না থাকায় চেয়ারম্যানদের আলাদাভাবে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেই। তবে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, আমরা কুইট কনফিডেন্ট যে এই বিষয়ে আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ে—গ্রামের বাংলাদেশ, একদম প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটা মানুষই—গণভোটের মেসেজটা পাবে। কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটটা ইম্পর্টেন্ট, কেন আমরা এটা দিলে জুলাই সনদটা ইমপ্লিমেন্ট করতে চাই—সেই বিষয়টা। এই গণভোটের মাধ্যমে পুরো ১০০ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা থাকবে।

যশোরে এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্ম কিংবা সাংবাদিকতার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে যিনি ভিকটিম, যিনি খুন হয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলার আসামি। তিনি আওয়ামী লীগের একজন নেতা এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই অঞ্চলে আপনারা জানেন যে চরমপন্থি রাজনীতির একটি পুরোনো ইতিহাস রয়েছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে তাদের নিজেদের মধ্যেই একাধিক দলাদলি রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি চরমপন্থি রাজনীতির পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন। এ বিষয়ে যারা জড়িত, তাদের ধরার জন্য এবং যাবতীয় তদন্ত ইতিমধ্যে পুলিশ শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব বলেন, আসিফ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কিছু জায়গায় এখনো “নির্বাচন হবে কি না”, এমন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, কমিশন যেন আপিল শুনানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত, রাগ বা বিরাগ দ্বারা প্রভাবিত না হয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র নানা ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে। এসব বিষয়ে আপিল শুনানিতে কেবল ডকুমেন্টারি এভিডেন্সের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কে কোন দলের প্রার্থী বা কতটা প্রভাবশালী, তা বিবেচনার বিষয় নয়। “এখানে সবাই ন্যায়বিচার পাবেন।