Image description

প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দলীয় পরিচয়ের ডিসি-এসপিদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যাদের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার, তাদের অনেকেই ‘দলীয় পরিচয়ে’ পদায়ন পাওয়ায় প্রার্থিতা বাছাইয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ‘বৈষম্যের’ শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।

গতকাল বিকালে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য আমরা দেখেছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তেরও ভিন্নতা দেখেছি। যেমন দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যাপারে একইধরনের ঘটনায় কোনো কোনো জায়গায় মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। আবার একইরকম ঘটনায় কোনো কোনো জায়গায় এটাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ‘দলীয় ডিসি’ নিয়োগ করা হয়েছে এবং সেই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তারা আইনকে দেখে। আমরা বলেছি এ ধরনের ডিসি-এসপি (জেলা প্রশাসক- জেলা পুলিশ সুপার) যারা আছে তাদের অপসারণ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিকে সেখানে নিয়োগ করতে হবে। না হলে নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হবে। এ ছাড়া কোনো একক ব্যক্তিকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ায় নির্বাচনকালীন সময়ে ‘রং মেসেজ’ যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির সম্মেলন কক্ষে হওয়া বৈঠকে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, একই আইনের দুই রকম সিদ্ধান্ত ও বৈষম্যের বিষয়ে আমরা ইসির কাছে প্রতিবাদ করেছি। আবদুল মালেক সিলেটে বিএনপির প্রার্থী। এ রকম প্রায় ১২-১৩ জন আছেন (দ্বৈত নাগরিক বিষয়ক)। এর ভিতরে কয়েকজনকে গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু একই ঘটনায় আমাদের কুড়িগ্রামের ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহীর আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। আমরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি (ইসির)। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের তিনজন নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল ‘অবৈধভাবে’। এর ভিতরে দুজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই ঘটনায়, একই কোর্ট, একই মামলা। কিন্তু আমাদের ‘সিনিয়র লিডার’ হামিদুর রহমান আযাদ, তাঁর মনোনয়নটাকে বাতিল করা হয়েছে। এক দেশে দুই রকম সিদ্ধান্ত।

জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, নিরাপত্তার ব্যাপারে দেখা যায়, কোনো কোনো ব্যক্তিকে অনেক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। আবার একই ধরনের অন্য নেতাদের সেরকম নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। এখানে নিরাপত্তা কাকে বেশি দেবেন, কম দেবেন, এটা আমাদের ইস্যু নয়। আমাদের ইস্যু হলো এটা যেহেতু নির্বাচনের সময়, একটা ‘পাবলিক ইমপ্রেশনের’ প্রশ্ন আছে সেজন্য। নির্বাচনের বাইরে কোনো সময় হলে, সেটা কোনো ইস্যু হতো না। কিন্তু এখন নির্বাচনের সময়, এটা একটা ইস্যু। কারণ মানুষ দেখবে যে একজনকে অনেক নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তার প্রতি মানুষের একটা ইমপ্রেশন হতে পারে যে-‘বিকাম সামথিং ইন ফিউচার’। যেটা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত করছে’ একটা ‘রং মেসেজ’ জনগণকে দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা এর মাধ্যমে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি (ইসির)।