Image description

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে সাত দিনের জন্য। সে অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ঘিরে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। এদিকে সংসদ নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী। আর মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যেতে ইসির কাছে আপিল করেছেন ২৯৫ জন প্রার্থী।

এ আপিল চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির কাজ চলবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

মূলত প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরই জমবে নির্বাচনি লড়াই। ভোটের আর মাত্র ৩৫ দিন বাকি থাকলেও সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে রাজনৈতিক দলগুলো। আগাম প্রচার-প্রচারণার অভিযোগও করছেন অনেক প্রার্থী। তবে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করাও হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের কাজ চলছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছেন। সারা দেশে কেন্দ্র থাকছে ৪২ হাজার ৭৬৬টি; এর মধ্যে ভোটকক্ষ থাকছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫টি। এবার সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন। প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং চালু হয়েছে; পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন রয়েছেন। 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ২৬টি দেশ ও সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মোট ৮৩ জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন চিঠি পাঠিয়েছেন বলে ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলসংক্রান্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের তৃতীয় দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ১৩১টি আবেদন জমা পড়েছে। এ নিয়ে তিন দিনে মোট আপিল আবেদন দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি। গতকাল আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত ইসির কেন্দ্রীয় বুথ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

ইসি জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের তৃতীয় দিন ইসিতে ১৩১টি আবেদন জমা পড়েছে। তিন দিনের আপিলে মোট ২৯৫ আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রংপুর অঞ্চলে ৯, রাজশাহী অঞ্চলে ১৫, খুলনা অঞ্চলে ১১, বরিশাল অঞ্চলে ৯, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৬, ঢাকা অঞ্চলে ৩১, ফরিদপুর অঞ্চলে ৭, সিলেট অঞ্চলে ৪, কুমিল্লা অঞ্চলে ১৯ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১০টি। উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জন। ইসি জানিয়েছে, গতকাল ১০ অঞ্চলে ১৩১টি আবেদন পড়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে সাত দিনের জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ঘিরে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকছে। বুধবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়, ‘ভোটের চার দিন আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে।’ পরিপত্রে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড নিয়োগ করা এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচনি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা-উপজেলা ও থানাভিত্তিক কাজ করবে। কোস্টগার্ড দায়িত্বে থাকবে উপকূলীয় এলাকায়।

ভোটের নিরাপত্তায় কত সদস্য : এবারের নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন পৌনে ১৩ কোটি। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোট কেন্দ্রে ২ লাখ ৬০ হাজারের মতো ভোটকক্ষ থাকবে। প্রাথমিক সভায় প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭ লাখের বেশি সদস্য এবার ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্বে পালন করবেন। ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সংখ্যা হবে সাড়ে ৫ লাখের মতো। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। এ ছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল থাকবে : আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করার কথা জানিয়ে পরিপত্রে বলা হয়, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং র‌্যাবের সমন্বয় স্থাপন করতে হবে। এ সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। পরিপত্রে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য জরুরি পরিষেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। ওই টিম নির্বাচনসংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগ/তথ্যের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এলাকাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পাঠাবে। এ ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচনকালীন জেলা ও উপজেলায় গঠিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাভিত্তিক অভিযান এবং চেক পয়েন্ট (তল্লাশি চৌকি) অভিযান পরিচালনা করবে।

বিএনপি প্রার্থী আফরোজার বিরুদ্ধে সিইসির কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতার নালিশ : মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রীতার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি ভাঙা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে নালিশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান আতা। গতকাল  বিকালে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।