Image description

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যেও থামছে না অবৈধ গ্যাসের ব্যবহার। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১২ হাজার ৩৮১টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা তিতাস এলাকায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্রই তুলে ধরছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারবার অভিযান চালিয়েও গ্যাস চুরির প্রবণতা বন্ধ না হওয়া উদ্বেগের বিষয়।

ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ মহানগরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে তিতাস গ্যাস বিতরণ করে আসছে। দেশের মোট গ্যাস চাহিদার বড় একটি অংশ এই কোম্পানির গ্রাহকদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। সারা দেশে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার সুযোগে অবৈধ পন্থায় গ্যাস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৯ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিতাস মোট ৩ হাজার ৮৮৮টি স্পটে ৩ হাজার ৮৬১টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ২২৯ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ করা হয় এবং ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরিসংখ্যান বলছে, যে মাসে অভিযানের সংখ্যা বেশি ছিল, সে মাসেই সংযোগ বিচ্ছিন্নের সংখ্যাও বেশি। অর্থাৎ অভিযান বাড়লেই অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের হার বাড়ছে।

তিতাস সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ১০১টি স্পটে ৪৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ৩৩ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ এবং ১৪ হাজার ৪৯৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

মার্চে ৩৯টি স্পটে ১৯টি অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ১২৮টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ২ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ করা হয়। এপ্রিলে ৬০টি স্পটে ১০২টি অভিযানে ১৮ কিলোমিটার অবৈধ লাইনের সঙ্গে ১০ হাজার ৮৭২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

চলতি বছরের মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত অভিযান আরও জোরদার করে তিতাস। মে মাসে ২৮৬টি স্পটে ১৩৫টি অভিযান চালিয়ে ১৬ কিলোমিটার অবৈধ লাইন অপসারণ এবং ১০ হাজার ৯৯টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

জুনে অভিযানের সংখ্যা কিছুটা কমলেও সংযোগ বিচ্ছিন্নের হার প্রায় একই ছিল। ওই মাসে ১৬৬টি স্পটে ৪৩টি অভিযানে ৯ হাজার ৯৬৪টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ১২ কিলোমিটার অবৈধ লাইন অপসারণ করা হয়।

জুলাইয়ে ৪৩৫টি স্পটে ২০০টি অভিযানে ১৭ হাজার ৬৯১টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি ৩৭ কিলোমিটার পাইপলাইন অপসারণ করা হয়। আগস্টে ৪৬৩টি স্পটে ৪১৬টি অভিযানে ৩৪ কিলোমিটার অবৈধ লাইন ও ১৬ হাজার ১৯০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

সেপ্টেম্বরে ৫২৯টি স্পটে ২৮৮টি অভিযান চালিয়ে ১১ হাজার ৫৬৬টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ২৩ কিলোমিটার অবৈধ লাইন অপসারণ করা হয়। অক্টোবরে ৯৮৪টি স্পটে ৩৬৭টি অভিযানে ১৪ হাজার ৬৭০টি সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি ৩০ কিলোমিটার অবৈধ লাইন তুলে ফেলা হয়। নভেম্বর মাসে ৮২৫টি স্পটে ৩১৮টি অভিযানে ১২ হাজার ৭৫২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ২৪ কিলোমিটার অবৈধ লাইন অপসারণ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিতাসের একজন কর্মকর্তা জানান, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো বাড়িতে অনুমোদিত সীমিত চুলা থাকলেও ভবন ভেঙে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের পর সেখানে অবৈধভাবে তিতাস গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মালিকদের যোগসাজশে এসব সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার জনঘনত্ব বেশি হওয়ায় অলিগলিতে অভিযান পরিচালনা কঠিন। এসব কাজে তিতাসের একশ্রেণির অসাধু ঠিকাদার ও কর্মচারীদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “তিতাসের কর্মচারীদের দিয়ে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এখানে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। অবৈধ সংযোগ ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিলে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন ধরে নানা সুবিধা নিয়েও এসব অভিযান কার্যকর হচ্ছে না। এর মূল কারণ ভেতরের দুর্নীতি। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।”

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।