তাহসিনা রুশদীর লুনা। সিলেট-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী। দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও। এ আসনের সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তিনি। এ আসনে তার মুখোমুখি হচ্ছেন না জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান। এ আসনে ছাড় দিচ্ছেন তিনি। তবে সেটি লুনাকে নয়। জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মুনতাসির আলীকে ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। জোটগত সিদ্ধান্তে এটি প্রায় চূড়ান্ত। এখন কেবল ঘোষণার বাকি। ইতিমধ্যে জোটের প্রার্থী হিসেবে মুনতাসির আলী ভোটের মাঠে নেমেছেন। আসনে ইলিয়াস আলী এখনো আবেগের নাম। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার জন্য চলছে অন্তঃহীন অপেক্ষা। এখনো আসনের ভোটাররা মনে করেন ইলিয়াস আলী ফিরবেন।
২০১২ সালে যখন ইলিয়াস আলী গুম হন তখন মাঠে নামেন লুনা। স্বামীর হয়ে আসনে দলের কাণ্ডারি হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালে ইলিয়াসের ঋণ শোধের সেই সুযোগ এসেছিলো। লুনা প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের নানা নাটকীয়তা। লুনা প্রার্থী হলেই পাস। ভোটে এমন অবস্থা ছিল। কিন্তু লুনাকে নানাভাবে আটকে রাখা হয়। লুনা লড়াই করেন। তবুও নানা বাধা। শেষ পর্যন্ত লুনা দাঁড়াতেই পারেননি। গণফোরামের প্রার্থী আসনে পাস করলেন। সেখানে মাঠে দাঁড়াতে হয়েছিলো লুনাকে। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ওই প্রার্থীকে পাসও করান। তবে ভোটের পর গণফোরাম থেকে নির্বাচিত এমপি’র ইউটার্ন লুনাকে আহত করে। এবার লুনা নিজেই প্রার্থী রেখেছেন। ডামি হিসেবে এখনো প্রার্থী তার বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান। অনেক আগে থেকেই ভোটের মাঠে। যখন এ আসনে জামায়াতের হাতে গোনা ভোট ছিল, তখন থেকেই তিনি দলের নির্দেশে প্রার্থী হচ্ছেন। এবার ভোট বেড়েছে জামায়াতের। তবে পাস করার মতো নয়। জোটবদ্ধ প্রার্থী হলেও জামায়াত প্রার্থীকে টেনে নেয়া কষ্ট। প্রার্থী সজ্জন হলেও কর্মী, সমর্থকের অভাব রয়েছে। বিশ্বনাথে কিছুটা অবস্থান ভালো। তবুও লড়াই করার মতো নয়। এই অবস্থায় শরিক দলকে এ আসনটি ছাড় দিলো জামায়াতে ইসলামী।
মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমীর ও সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। তিনি জানান- বৃহত্তর জোট হিসেবে আসন ছাড় দিতে হয়। এ কারণে সিলেট-২ আসনটি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এ আসনে আমাদের প্রার্থী দলের জন্য নিবেদিত। তিনি এলাকায় বহু আগে থেকে কাজ করছেন। অন্যদিকে সিলেট-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন অধ্যাপক আব্দুল মান্নান। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী তিনি এখনো প্রার্থী। দলের নেতারা জানিয়েছেন- দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে জামায়াত প্রার্থী এ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। একই সঙ্গে জোটের প্রার্থীর পক্ষে জামায়াত নেতারা একাট্টা হয়ে মাঠে নামবেন।
জামায়াতের এ সিদ্ধান্তে এ আসনে এখন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ মুনতাসির আলী। সিলেট অঞ্চলে দলগতভাবে তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। সিলেটেরও পরিচিত মুখ। ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ইলিয়াসের জমানা থেকেই ভোটে রয়েছেন। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। তবে সুবিধা করতে পারেননি। খেলাফত নেতারা জানিয়েছেন- মুনতাসির আলী ভোটের মাঠে পরিচিত নেতা। আলীয়া ও কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ভোটে মুনতাসির আলীর আধিপত্য রয়েছে। দলকেন্দ্রিক ভোটও কম নয়। জামায়াত সহ ১০ দলের নেতাদের সমর্থন পাওয়ার পর তিনি লড়াই করার জানান দিচ্ছেন। এদিকে লড়াই কতখানি সম্ভব এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সিলেট-২ আসনটি হচ্ছে ভোটের মাঠের ‘আবেগী’ আসন। প্রার্থীও ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। বিএনপি’র তরফ থেকে এরই মধ্যে বহিষ্কৃত থাকা নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই ফিরেছেন ভোটের মাঠে। লুনাও তাদের সাদরে গ্রহণ করেছেন। তবে, উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সিনিয়র কয়েকজন নেতা এখনো দূরে রয়েছেন। সময় যত গড়াবে তারাও কাছাকাছি চলে আসবেন বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।