সুড়ঙ্গের মতো পথেই চলছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ। প্রায় সড়কই ওয়ান ওয়ের মতো। একদিক থেকে রিকশা গেলে আরেক দিকেরটা আসার উপায় নেই। রিকশার পাশ দিয়ে যে পায়ে হেঁটে যাওয়া যাবে সেই অবস্থাও নেই। কোনো সড়কের পার্শ্বে জায়গা নেই। মানুষ সড়কের উপর দিয়েই হাঁটছেন। পার্কিং করার জো নেই। এমন অলিগলির শহরে বিল্ডিং ঘেঁষে বিল্ডিং হচ্ছে। রাত পোহালে মাথা বাড়াচ্ছে বহুতল বিল্ডিং। অপরিকল্পিতভাবে এই শহর গড়ে ওঠার আর কোনো কিছু বাকি নেই। যেখানে হয়তো দম ফেলাও কষ্ট হবে কয়েকদিন পর। এমন বাস্তবতাতে হাজির পৌরসভার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ২০৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩০ ফুট পাশের রাস্তা মাত্র ১১ দশমিক ১১ কিলোমিটার। যা মোট রাস্তার প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। ২০ থেকে ৩০ ফুটের রাস্তার পরিমাণ আরও কম, মাত্র ৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার। যা মোট রাস্তার ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে ৫ ফুট পাশের রাস্তা আছে প্রায় ৩৩.৩ কিলোমিটার। অধিকাংশ রাস্তাই ৫ থেকে ৮ ফুটের বা ৮ থেকে ১২ ফুটের। ১২-২০ ফুট রাস্তা ৩৩.৯২ কিলোমিটার। প্রশস্ত রাস্তার সংকট ছাড়াও ১৮৬৮ প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভা হাজারো সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে। ১৫৭ বছর পর যা বিস্ময়েরও সৃষ্টি করেছে। নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আইইউজিআইপি, এমপি-০৪) আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেড ও শেলটেক কনসালটেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড (জেভি) গত বছরের মে মাসে বিভিন্ন ধরনের জরিপ পরিচালনা, সমীক্ষা এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। গত ৩০শে ডিসেম্বর অংশীজনদের এককর্মশালায় সেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
এতে স্থাপনা জরিপে বলা হয়, শহরে মোট স্থাপনার সংখ্যা ৫৭ হাজার ৩৮১টি। এরমধ্যে আধাপাকা ভবন প্রায় ৮০ দশমিক ৯৯ পার্সেন্ট। একতলা ভবনের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৭৯০টি। সার্বিকভাবে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ উল্লেখ করে ভৌত অবকাঠামো জরিপে বলা হয় মোট রাস্তার ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশের অবস্থা খুবই খারাপ। অধিকাংশ রাস্তা ৮ থেকে ১২ ফুটের। ৫ ফুটের রাস্তা রয়েছে ১৬.১২ শতাংশ। ৫ থেকে ৮ ফুটের রাস্তা ২৬.৮২ শতাংশ। তবে কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যের অনেক কিছু ঠিক নেই বলে দাবি করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদ। বলেন, ২০-২২ ভাগ পার্থক্য হবে। কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, আপনারা বলেছেন এই পৌরসভা একটি প্রাচীন পৌরসভা। উন্নত শহর বা দেশে গড়ে তোলার জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়। কিন্তু আমরা তার ঠিক বিপরীতে আছি। শত বছরের পৌরসভা মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই গড়ে উঠেছে। এখন বিভিন্ন-অনিয়ম অব্যবস্থাপনা দানা বেঁধেছে। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আর উপায় নেই। এই আধুনিক যুগে এসে এখন আমাদের মনে হলো মাস্টার প্ল্যান দরকার আছে। আসলে পরিকল্পনা বা মাস্টার প্ল্যান করেই শহর করার কথা। এখন যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। তারা কী করেছেন বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরেছেন, কোন অবস্থায় কী আছে। সেটাকে ভেঙেচুরে তো আবার শূন্যের অবস্থায় নিয়ে যেয়ে নতুন করে গড়া সম্ভব নয়। যা হওয়ার হয়েছে, যা আমাদের করার করে ফেলেছি। এতে কিছু ভুলত্রুটি আছে। এটি সংশোধন হয়ে সুন্দর প্ল্যান হিসেবে উপস্থাপন হলে সেই প্ল্যানের মধ্যে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শেলটেকের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. আখতার হোসেন চৌধুরী, সিনিয়র কনসালটেন্ট মো. সাহাদাত হোসেন, অ্যাসিসটেন্ট আরবান প্ল্যানার অলিউল্লাহ রিমন ও তৌফিক আহমেদ রায়হান।