Image description

সিলেটের জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এখনো এলোমেলো। মনোনয়নপত্র দাখিল হলেও আসন ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। তবে জামায়াত নেতারা বলছেন; তারা সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে কেবলমাত্র সিলেট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মুনতাসির আলীকে ছাড় দিতে যাচ্ছেন। অন্য ৫টি আসনই তারা ধরে রেখেছেন।

অন্যদিকে; খেলাফত মজলিস চায় আরও একটি আসন। এ ছাড়া মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপি’র পক্ষ থেকে একটি করে আসন চাওয়া হচ্ছে। সিলেট জেলায় ৬টি নির্বাচনী আসন। জামায়াত নিয়ন্ত্রিত জোট থেকে ৬টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে ৬টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে দুটি আসনে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন নগরের কুদরত উল্লাহ মসজিদে দোয়া মাহফিল করেন জামায়াত প্রার্থীরা। সেখানে এক বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী ও ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের আমীর সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন- বৃহত্তর জোটের মধ্যে তারা সিলেট জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে সিলেট-২ আসনটি ছাড় দিচ্ছেন। অন্য ৫টি আসনে তাদের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। জোটের স্বার্থে সিলেটের একটি আসন ছাড় দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল মানবজমিনকে একই কথা জানিয়েছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন- সিলেট জেলায় একটি আসন ছাড়া আর কোনো আসনই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। এনসিপি একটি আসন চাচ্ছে। কিন্তু কোনো আসনেই এনসিপি’র প্রার্থী ভোটের হিসাবে এগিয়ে নেই। যদি থাকতো তাহলে বিবেচনা করা হতো।

তিনি বলেন; যদি যোগ্য প্রার্থীরা মাঠে না থাকেন তাহলে ভোটের আমেজে ভাটা পড়বে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে জোটের মধ্যে আসন ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। জোটের অন্যতম শরিক দল খেলাফত মজলিস প্রথমে সিলেটে তিনটি আসন চেয়েছিল। সর্বশেষ তারা দুটি আসন চায়। এতে কোনো ছাড় দিতে নারাজ দলটির নেতারা। যদিও এরই মধ্যে তাদের একটি আসন অর্থাৎ সিলেট-২ চূড়ান্ত হয়েছে। খেলাফত মজলিসের কাছে সিলেট-৫ আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে তাদের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান। তিনি ভোটের মাঠে আলোচনায় রয়েছেন। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জেলার নায়েবে আমীর আনোয়ার হোসেন খান। ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফরিদউদ্দিন আহমদ জয়ী হয়েছিলেন। ফলে পরম্পরা হিসেবে জামায়াত এ আসনটি ধরে রাখতে চাচ্ছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসানকে জয়ের প্রার্থী বলে মনে করছেন তার দলের নেতারা। এজন্য তারা আসনটিতে ছাড় দিতে চান না। জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- আমরা সর্বশেষ দুটি আসন চাই। একটি পেয়েছি। সিলেট-৫ আসনে জয়ের প্রার্থী থাকায় আসনটি আমরা চাইছি। যদি এতে ব্যত্যয় ঘটে তাহলে দলে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। সিলেটের ভোটের মাঠে হঠাৎই চমক নিয়ে হাজির হন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। প্রার্থী বদল করে তিনি সিলেট-৩ আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে আল্লামা নুরউদ্দিন গহরপুরীর (র.) ছেলে মাওলানা মোসলেহ উদ্দিন রাজুকে প্রার্থী করেন। একইসঙ্গে তিনি এ আসনটি জোটের কাছে চাইছেন। দলটির সিলেট মহানগরের সভাপতি মাওলানা এমরান আলম জানিয়েছেন- এ আসনটি আমরা শক্তভাবে ধরে রেখেছি। আলোচনার টেবিলে এখনো আছে।

এ আসনে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন দিলে জয় পাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। ১০ দলীয় জোটে এসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। এনসিপি’র পক্ষ থেকে সিলেট-৩ ও সিলেট-৪ আসনটি চাওয়া হচ্ছে। তবে ভোটের মাঠে এনসিপি’র প্রার্থীদের অবস্থান তেমন নেই। প্রবাস থেকে এসে অনেকেই প্রার্থী হওয়ায় তারা ভোটের মাঠে অচেনা। ফলে তাদের আসন দেয়ার বিষয়টি নিয়ে জোটের ভেতরেই মতভেদ দেখা দিয়েছে। সিলেট নগর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন- যে আসনগুলোতে জামায়াত প্রার্থীর অবস্থান ভালো সেগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যগুলো নিয়ে আলোচনা চলমান চলেছে। এনসিপি’র প্রার্থীকে সিলেটে নয়, মৌলভীবাজার-৪ আসনে একজন প্রার্থী দেয়া হতে পারে। তিনি বলেন- জোটের আসন বণ্টন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা শুরু হবে। এরপর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।