দেশের কারাগার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে কোরআনের তালিমের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আলেমদের পিএইচডি স্কলারশিপ দেওয়া হবে।
এছাড়া, কওমি সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যেন দাখিল-ফাজিল-কামিলের সমমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পান সে জন্য শিক্ষা উপদেষ্টা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, আইন উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে পৃথক ডিও লেটার দিয়েছেন বলেও জানান খালিদ হোসেন।
মসজিদভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় শিশুদের নতুন বই বিতরণ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, 'বাংলাদেশে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি শিক্ষা কেন্দ্র আছে। ২৪ লাখ ৩০ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী আছে। তাদেরকে আমরা ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষা দিচ্ছি। এই প্রকল্পের আওতায় আমরা এ বছর বাংলাদেশের বড় বড় কারাগারগুলোতে কোরআনের তালিম শুরু করব। ইতোমধ্যে কিছু চালু আছে, কেরানীগঞ্জে চালু আছে, চট্টগ্রামে চালু আছে। অন্যান্য কারগারগুলোতে এই প্রকল্পের আওতায় পবিত্র কোরআন শিক্ষা আমরা প্রদান করব। অপরাধী যারা আছেন অথবা অভিযুক্ত যারা আছেন তাদের মধ্যে পবিত্র কোরআনের তালিম যাতে দেওয়া যায়। ওখানে নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ যাতে তৈরি হয়, সে প্রক্রিয়া আমরা চালাব। এছাড়া আমরা এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেও কোরআনের তালিমের ব্যবস্থা করব।'
ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'দুঃখের সঙ্গে বলবো, অতীতের যে লিগ্যাসি আমরা পেয়েছি, এই প্রকল্প সপ্তম পর্যায়ে, অনেক ভুয়া সেন্টার ছিল। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।'
চিহ্নিত করে ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'তারপরও নতুন পাতা যাতে গজায়, আমরা গাছের গোড়ায় পানি দিতে চাচ্ছি। আমাদের মেয়াদ কম। আমরা সুষ্ঠু-অবাধ একটা নির্বাচন দিয়ে, নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় হবো। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে আছি, ততক্ষণ পর্যন্ত অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে আমরা কাজ করে যাব।'
যাচাই-বাছাই করে নতুন কেয়ারটেকার-শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে জানান ধর্ম উপদেষ্টা। বলেন, আমরা কোনো স্বজন প্রীতি করব না।'
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আলেমদের পিএইচডি স্কলারশিপ দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা কোটি কোটি টাকার স্কলারশিপ দেবো।'
'একজনের পেছনে যদি এক কোটি টাকাও খরচ করতে হয়, সে বাজেট আমরা ঠিক করে ফেলেছি,' যোগ করেন তিনি।
কওমি সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যেন দাখিল-ফাজিল-কামিলের সমমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা পান সে জন্য শিক্ষা উপদেষ্টা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, আইন উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে পৃথক ডিও লেটার দিয়েছেন বলেও জানান খালিদ হোসেন।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ বাহিনীতে কওমি ধারার যোগ্য ব্যক্তিদের যেন ইমাম ও রিলিজিয়াস ইনস্পেকটর পদে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয় সেই সুপারিশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব পদগুলোতে আলেমরা কাজের সুযোগ পাবেন।
ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন বাড়াতে মডেল মসজিদ নীতিমালা প্রস্তুতের কাজ প্রায় চূড়ান্ত বলে জানান তিনি। এছাড়া মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাভিত্তিক গণশিক্ষার এক হাজার ২০০ প্রকল্পের সবগুলোকে রাজস্বের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান খালিদ। বলেন, 'আমাদের হাতে যদি টাকা থাকতো...আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমাদের রিজার্ভ ছিল, এখন তো ৩২ প্লাস। টাকা লুট করে না নিলে হয়তো আমাদের সময় আমরা আপনাদেরকে রেভিনিউতে আনতে পারতাম। টাকা তো নিয়ে গেছে, এখানে তো কিছু নাই! চারটা-পাঁচটা ব্যাংককে এক করতে হচ্ছে আমাদের। যাক আগামী দিন আরও ভালো আসবে সে প্রত্যাশা রাখছি।'