Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসিনার তুলনা করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষিকা অধ্যাপক ইউএইচ রুহিনা জেসমিন ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তার এই পোস্টকে ঘিরে ক্যাম্পাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের ওই শিক্ষিকা গত বুধবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে খালেদা জিয়া ও হাসিনাকে নিয়ে ওই পোস্ট দেন।

পোস্টে রুহিনা জেসমিন লেখেন, পুরুষশাসিত সমাজে এই দুই নারীর ক্ষমতায়ন আমাদের এতদূর এগিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে-এ বিষয়ে সন্দেহের সুযোগ নেই। পুতুল থেকে খালেদা জিয়া এবং হাসু থেকে শেখ হাসিনা হওয়ার যে দুর্গম যাত্রা তারা পাড়ি দিয়েছেন, তা জাতিকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ভবিষ্যতেও বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে নিতে শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব প্রয়োজন। শিক্ষিকার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার শাসনামলের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে এ ধরনের তুলনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।

মোহাম্মদ জায়েদ নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, একজন স্বীকৃত খুনি ও পলাতক আর একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক—এই দুজনকে একই কাতারে দাঁড় করানো ইতিহাস বিকৃতি।

তামিম হাসান বলেন, নারী নেতৃত্বের আরো বহু উদাহরণ আছে। শেখ হাসিনা কোনোভাবেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে তুলনীয় নন। আরিফ খান মন্তব্য করেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তুলনা করে হাসিনাকে জাতে তোলার ব্যর্থ চেষ্টা এটি।

তালহা জুবায়ের নামের আরেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলেন, এত মানুষের মৃত্যু কি সফলতার মানদণ্ড? হাসু থেকে শেখ হাসিনা—এই যাত্রাকে আপনি সফল বলেন কীভাবে?

ফেসবুক কমেন্ট থেকে জানা গেছে, রুহিনা জেসমিন ক্লাসে ও পরীক্ষার সময় নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব খুলতে বাধ্য করেন। দাঁড়ি রাখা ও টুপি পরা শিক্ষার্থীদের বিদ্রুপপূর্ণ মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খুলনার সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে অধ্যাপক রুহিনা জেসমিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হন—এ বিষয়টিও গুঞ্জন উঠেছে। আওয়ামী লীগের সময় তিনি সহকারী হল প্রভোস্ট ও সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ছিলেন।

যোগাযোগ করা হলে শিক্ষিকা রুহিনা জেসমিন বলেন, আমি উইম্যান এমপাওয়ারমেন্ট নিয়ে কাজ করি, একজন নারীবাদী গবেষক। আমার রিসার্চ পেপার দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশ পায়।

আমি বলতে চেয়েছিলাম তারা কীভাবে গৃহবধূ থেকে দেশনেত্রী হলেন। তাদের যে দুর্গম যাত্রা সেটাই আমি বলতে চেয়েছি। এটাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আমাকে ট্রল করে গালিগালাজ করছে।

আমি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও আপলোড দিয়েছি এবং সরি বলেছি। এরপর আর ভুল বোঝার সুযোগ থাকে না বলে জানান তিনি।