
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, সম্প্রতি অনেকেই বলে যে আগেই ভালো ছিলাম। কারা বলে আগেই ভালো ছিলাম— সেটা চিন্তা করতে হবে। যারা আগে চাঁদাবাজি করত, দখলদারি, লুটপাট করত তাদের সেই অপশন এখন বন্ধ। ফলে তারা বলে আগেই ভালো ছিলাম। যারা বলে আগেই ভালো ছিলাম তাদের থেকে আমদের সাবধান থাকতে হবে। এরা ভেতরে ভেতরে দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
বুধবার রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও বিশিষ্টজনের সম্মানে গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর দেশে গুম খুন হত্যা চালিয়েছে, জুলাই আগষ্টের আন্দোলনের মুখে জনরোষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।
তারা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। ভারত থেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। সামনে ঈদ, মানুষ ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত থাকবে ঠিক তখন আওয়ামী লীগ দেশে যে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার ছক আকঁছে আওয়ামী লীগ। তাই প্রশাসনসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই স্বাধীনতাকে একটা বিশেষ গোষ্ঠী হাইজ্যাক করেছিল, ২৪এর গণঅভ্যুত্থানে মাধ্যমে হাইজ্যাক হওয়া সেই স্বাধীনতা উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকেই কৌশলে ৭১ এবং ২৪ কে মুখোমুখি করার চেষ্টা করেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। আমরা ৭১ এবং ২৪ কে মুখোমুখি করতে চাই না। ৭১ এবং ২৪ দুইটাই আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল,সেই ঐক্য কিছুটা ফাটল ধরেছে। যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য ধরে রেখে সবাই মিলে আগামীতে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে। এমন কোনো বক্তব্য বিবৃতি দেওয়া যাবে না, যাতে আমাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়। পরাজিত শক্তি জনগণের এই ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য নানা রকম অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মোখলেসুর রহমান উজ্জ্বল বলেন,‘গণঅধিকার পরিষদ ১৮ বিপ্লব থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক দল, তারুণ্য নির্ভর শক্তি নিয়ে ১৮ থেকে ২৪ অভ্যুত্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এখন দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত আছে! ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া রাষ্ট্রকে গড়তে এদেশের তারুণ্য সৎ ও সংযমী থেকে কাজ করতে হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতা শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সেক্রেটারি নোমান আহমেদ, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কিশোরগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতা অভি চৌধিরী, এনামুল হক সুমন, ইমতিয়াজ কাজল, মোমিন উদ্দিন জনি, শহিদুল ইসলাম, আলী হোসেন মহসিন, শামসুল ইসলাম, জাকিরুল ইসলাম বাকি, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহাগ মিয়া, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমন খান যুবনেতা ইকবাল প্রমুখ।