‘আমি যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে ছিলাম, ঠিক তখন ওই দিকে আমার ছেলেটাকে গুলি করে মেরে ফেললো তারা, আসলে তারা কারা জানি না, কী করে বুঝবো এভাবে হত্যা করবে। এখন আমি কার কাছে এই বিচার চাইবো। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আমার এই কষ্ট বোঝার কেউ নেই।’
সন্তানকে হারিয়ে বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এভাবে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলেছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম শেখ। এদিন বেলা পৌনে ২টার দিকে উপজেলার আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে তার ছেলে তরিকুল ইসলাম শেখকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত তরিকুল ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের বাবা আবদুস সালাম শেখ বলেন, ‘আমি এখন পরিবার ও স্বজনদের কীভাবে সান্ত্বনা দেবো। নিজেকেই সান্ত্বনা দিতে পারছি না কীভাবে স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেবো। এটা কি যে কষ্টের, তা বলে বোঝাতে পারবো না। কান্নায় আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কারা এভাবে হত্যা করলো, বুঝতে পারছি না। এখন আর আমার কিছুই বলার নেই। এই রাজনীতিই আমার সব শেষ করে দিলো। আমার সন্তানকে কেড়ে নিলো।’
- প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় আবদুল গফফারের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন তরিকুল। এ সময় হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তারা তরিকুলের মাথায় গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। সেখান থেকে আলামত জব্দ করেছেন। এখন ঘটনার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এলাকায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনও মোটিভ পাওয়া যায়নি।
রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমরেশ মণ্ডল জানান, আজ দুপুরে খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তরিকুল। পরে বাসে জায়গা না পেয়ে ফিরে এসে চায়ের দোকানে বসেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হেলমেটধারী ব্যক্তি তাকে গুলি করে পালিয়ে যান।
এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনায় ৭৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে মহানগরীতে ৩৮টি এবং জেলায় ৩৯টি।