Image description
তুরাগ নদীর পানির মান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা এ প্রকল্পে নদীদূষণ রোধে নজরদারির জন্য এক কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রোন কেনা, সচেতনতা তৈরিতে ৩৫টি বিলবোর্ড স্থাপনে দেড় কোটি টাকা এবং বিদেশে পাঁচটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ জন পরামর্শকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
 
প্রকল্পটির বিভিন্ন ব্যয় খাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারিগরি সহায়তা নাম দিয়ে প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডিও করা হয়নি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
 
প্রকল্পের ব্যয় বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বৈদেশিক অর্থায়ন এবং ১০ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ব্যবহারের কথা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
রিয়েল-টাইম অনলাইন মনিটরিংয়ে ১৪৭ কোটি ব্যয়:
 
 
প্রকল্পের সর্বোচ্চ ব্যয় তুরাগ নদীর দূষণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য রিয়েল-টাইম অনলাইন মনিটরিং স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে মূলধনি ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এসব স্টেশনের মাধ্যমে নদীর পানির মান ও দূষণের মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
 
দূষণ নজরদারিতে এক কোটি টাকার ড্রোন:
 
তুরাগ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশগত নজরদারি জোরদার করার কথা বলা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবে। এ উদ্দেশ্যে এক কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রোন কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে নদী ও আশপাশের এলাকায় দূষণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
 
পাঁচটি বিদেশ প্রশিক্ষণে আড়াই কোটি টাকা:
 
নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দেশীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পাঁচটি বিদেশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি), পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং প্রকল্পের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার কথা রয়েছে।
 
 
এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, পাঁচটি প্রশিক্ষণের গড় ব্যয় দাঁড়ায় ৫০ লাখ টাকা।
 
৩৫ বিলবোর্ডে দেড় কোটি টাকা:
 
তুরাগ নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ৩৫টি বিলবোর্ড স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি বিলবোর্ডের জন্য গড় ব্যয় প্রায় ৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
 
১৭ পরামর্শকের জন্য ৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা:
 
প্রকল্পে ১৭ জন পরামর্শকের জন্য ৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ হিসাবে পরামর্শক প্রতি গড় বরাদ্দ প্রায় ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকা।