Image description
নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে লক্ষ্মীপুরের ১২ বছর বয়সী ক্ষুদে কনটেন্ট নির্মাতা রাহাত ও তার দল। কখনো শাহরুখ খান, কখনো নারী, আবার কখনো বীর পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের বিনোদন দেয় সে। ভিডিওতে হাসি-আনন্দে মাতিয়ে রাখলেও বাস্তব জীবনে থ্যালাসেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে এই শিশুকে। উন্নত চিকিৎসার অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন।
 
 
লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চল মজুচৌধুরীহাট এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভিডিও তৈরি করে রাহাতের দল। নিজের চাচা, চাচাতো ভাই ও এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে গড়ে তুলেছে এই দল। তাদের ভিডিওতে উঠে আসে সমাজের নানা ইতিবাচক চিত্র। অভিনয় আর আঞ্চলিক ভাষার সংলাপে দর্শকদের মন জয় করলেও ক্যামেরার আড়ালে রাহাতের প্রতিটি দিন কাটে শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে।
 
জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছে রাহাত। বুকের হাড় বেড়ে যাওয়া, শরীরে জ্বালাপোড়া, ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথাসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হয় তাকে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রাহাত থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। এ কারণে প্রতি মাসে অন্তত দুবার তার শরীরে রক্ত দিতে হয়। নিয়মিত রক্ত নেওয়া ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার।
 
নিজের শারীরিক কষ্টের কথা বলতে গিয়ে রাহাত জানায়, “আমি ক্যামেরার সামনে হাসিখুশিভাবে অভিনয় করলেও আমার জীবনে অনেক কষ্ট আছে। রাতে আমার ঘুম আসে না। শরীরে অনেক জ্বালাপোড়া করে, দম বন্ধ হয়ে আসে, বুকের ভেতরে প্রচুর ব্যথা করে। আমার কারণে পরিবারের লোকজন অনেক কষ্ট পায়। আপনারা আমার জন্য দোয়া কইরেন, যেন আমি সুস্থ হতে পারি।”
 
 
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাহাত দ্বিতীয়। তার বাবা ভাড়ায় স্পিডবোট চালিয়ে সংসার চালান। সীমিত আয়ে সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে রাহাত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে বলে আশাবাদী পরিবার। তবে সেই চিকিৎসার ব্যয় জোগাড় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
 
 
রাহাতের চাচা শারু জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে রাহাতের ওষুধের খরচ চালানো হচ্ছে। কিন্তু তার উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও অনেক টাকার প্রয়োজন।
 
রাহাতের মা রুপালী বলেন, “জন্মের পর থেকেই ছেলেটাকে নিয়ে ১২ বছর ধরে কষ্ট করছি। আর্থিক সংকট থাকলেও ছেলের চিকিৎসার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছি। সরকার ও বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি আমার ছেলেটির পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, তাহলে তাকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখতে পারব।”
 
দর্শকদের মুখে হাসি ফোটানো ক্ষুদে রাহাত এখন নিজের সুস্থ জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তাকিয়ে আছে মানুষের সহযোগিতার দিকে। তার পরিবারের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে রাহাত। ক্যামেরার সামনে যে শিশুটি অন্যদের আনন্দ দেয়, তার জীবনেও ফিরে আসুক সুস্থতা আর শৈশবের নির্মল হাসি।