Image description

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি উঠেছে। দ্রব্যমূল্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি শ্রমিকনেতাদের। তাদের বক্তব্য, বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করেও অনেক শ্রমিক পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে পারছেন না। অন্যদিকে একবারে ১৪০ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হলে কারখানার উৎপাদন ব্যয়, মুনাফা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে উদ্যোক্তাদের।
 
শ্রমিকদের দাবির মুখে ১ নভেম্বর নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

এদিন সচিবালয়ে বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের সারকথা ছিল, নতুন বোর্ড মজুরি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করবে। তাই সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা ও রপ্তানি চালান ব্যাহত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব শ্রমিকদের বেতন ও কর্মসংস্থানেও পড়বে।

তবে মন্ত্রীর আহ্বানে আন্দোলন থামেনি। ২ নভেম্বরও রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সাতবার মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের পরও কেন শ্রমিকদের বারবার রাজপথে নামতে হচ্ছে? মজুরি বোর্ড কি সমস্যার সমাধান করছে, নাকি শুধু সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখছে? আর শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি কতটা যৌক্তিক?

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মজুরি বোর্ডের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। একই সময়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কম। এতে শ্রমিকদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

শ্রমিকনেতাদের বক্তব্য, ২০২৩ সালে মজুরি নির্ধারণের সময়ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এরপর খাদ্য, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বেড়েছে। বর্তমান মজুরিতে এসব প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরিতে একজন শ্রমিকের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে অনেক শ্রমিক অতিরিক্ত সময় কাজ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। এরপরও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা কিংবা সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাসলিমা আখতারের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি যৌক্তিক। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব মজুরি বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ‘শ্রমিকদের বেঁচে থাকতে হবে, তবেই গার্মেন্টস শিল্প বাঁচবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও বাড়িভাড়া যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, মালিকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, সেটিও সত্য। তবে শ্রমিক ও মালিক; উভয় পক্ষের টিকে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। সন্তানের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, খাবার ও যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকাও যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুনও মনে করেন, শ্রমিকদের রাস্তায় নামার অপেক্ষায় না থেকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের আগেই মজুরি পর্যালোচনা শুরু করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার মাধ্যমে শিল্পের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে।

এশিয়ার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মজুরি সবচেয়ে কম

শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবির পক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো, এশিয়ার প্রধান পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার তালিকাভুক্ত শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১০১ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের সর্বোচ্চ ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১ হাজার ৫১২ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪২ টাকা। ডলারপ্রতি ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা হিসাবে এই রূপান্তর করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের শীর্ষ রফতানিকারক দেশ চীনে প্রদেশভেদে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২৫০ থেকে ৩৫৩ ডলার; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ হাজার ৭৫ থেকে ৪৩ হাজার ৮৭৮ টাকা। বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী কম্বোডিয়ায় এই মজুরি ২০৮ ডলার বা প্রায় ২৫ হাজার ৮৫৪ টাকা।

প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১৪৩ থেকে ৪৯৬ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৫ থেকে ৬১ হাজার ৬৫৩ টাকা। ভিয়েতনামে তা ১৩৬ থেকে ১৯৫ ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার ৯০৫ থেকে ২৪ হাজার ২৩৯ টাকা।

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১৮৩ ডলার বা প্রায় ২২ হাজার ৭৪৭ টাকা। পাকিস্তানে এই মজুরি ১২৩ থেকে ২১১ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার ২৮৯ থেকে ২৬ হাজার ২২৭ টাকা।

অর্থাৎ তালিকাভুক্ত প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে এসব দেশের মজুরি কাঠামো, অঞ্চলভেদে পার্থক্য, শ্রমিকপ্রতি উৎপাদনশীলতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ডলারে মজুরির অঙ্ক তুলনা করে শিল্পের প্রতিযোগিতা বা শ্রমিকের প্রকৃত জীবনমান পুরোপুরি বোঝা যায় না।

মজুরি বাড়ার ইতিহাস, অসন্তোষের পুনরাবৃত্তি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রথম ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয় ১৯৮৪ সালে। তখন সর্বনিম্ন গ্রেডের শ্রমিকের মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬২৭ টাকা। এরপর ১৯৯৪ সালে তা বেড়ে হয় ৯৩০ টাকা। ২০০৬ সালে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা, ২০১০ সালে ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ প্রায় চার দশকে কাগজে-কলমে সর্বনিম্ন মজুরি বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। কিন্তু এই হিসাবের সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে বাস্তব চিত্র পাল্টে যায়।

মজুরি বৃদ্ধির ইতিহাসে একটি বিষয় লক্ষণীয়। প্রতিবারই নতুন কাঠামো নির্ধারণের আগে শ্রমিকদের দাবি ও আন্দোলন সামনে এসেছে। নিয়মিত ও আগাম উদ্যোগের পরিবর্তে অনেক সময় আন্দোলনের চাপেই মজুরি পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২০০৬ সালে পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ বড় আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে নির্ধারিত মজুরি দীর্ঘদিন কার্যকর থাকা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। তখন তাদের দাবি ছিল সর্বনিম্ন মজুরি ৩ হাজার টাকা করা। আন্দোলনের পর সরকার মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে সর্বনিম্ন মজুরি ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে। অর্থাৎ শ্রমিকদের দাবির তুলনায় প্রাপ্তি ছিল অনেক কম।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কারস সলিডারশিপের তথ্য বলছে, ২০১০ সালেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিল ৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি। আন্দোলন ও আলোচনার পর তখনকার সরকার সর্বনিম্ন মজুরি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে।

এরপর ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহতা পুরো পোশাকশিল্পকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৪ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। পোশাকশ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার ও মজুরির বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্ব পায়।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকায় প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ করেন বলে ২০১৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর ও সাভার এলাকায় বিক্ষোভের কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। শ্রমিকদের দাবির বিপরীতে মালিকপক্ষের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ বৃদ্ধিও তখন তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এসব ঘটনা দেখায়, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে মজুরি প্রশ্নটি কখনোই শুধু একটি সংখ্যার প্রশ্ন ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল শ্রমিকদের জীবনমান, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ।

২০১৮ ও ২০১৯: মজুরি বাড়লেও অসন্তোষ

২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার আগে আবারও আন্দোলন শুরু হয়। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল সর্বনিম্ন মজুরি ১৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে মালিকপক্ষের অবস্থান ছিল, উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা বিবেচনায় মজুরি বাড়াতে হবে।

সরকার ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণা করে। আগের ৫ হাজার ৩০০ টাকা থেকে এটি প্রায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি। কিন্তু নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডের শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে মধ্যবর্তী গ্রেডের কিছু শ্রমিক প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টারের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আশুলিয়া, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির আলোচনায় কয়েকটি গ্রেডে মজুরি সমন্বয় করা হলেও সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকাই রাখা হয়। আন্দোলনের পর প্রায় ১২ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও ওঠে।

২০২৩ সালে ২৫ হাজার টাকার দাবি, ঘোষণা ১২ হাজার ৫০০

২০২৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে পোশাকশিল্পে আবারও বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। তখন শ্রমিক সংগঠনগুলোর একাংশ সর্বনিম্ন মজুরি ২৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানায়। মালিকপক্ষ প্রথমে ১০ হাজার ৪০০ টাকার প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে শ্রমিক প্রতিনিধিরা ২০ হাজার ৩৯০ টাকার প্রস্তাব দেন।

দীর্ঘ আলোচনা, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান নতুন সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করেন। ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়। আগের ৮ হাজার টাকা থেকে এ বৃদ্ধি ছিল ৫৬ শতাংশ।

সেদিনের ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মজুরি ৫৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি সিদ্ধান্তটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। ৭ নভেম্বর মজুরি ঘোষণার পর তিনি বলেছিলেন, পোশাকশিল্পের বাস্তবতা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বিবেচনায় শ্রমিকরা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। তবে সব শ্রমিক সংগঠন এ সিদ্ধান্তে একমত হয়নি। অনেক সংগঠন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে এই মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে আপত্তি জানায়।

২০২৩ সালের আন্দোলনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল প্রাণহানি। ওই বছর ৩০ অক্টোবর সংঘর্ষ ও কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাসেল হাওলাদার ও ইমরান হোসাইন নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

তিন বছর যেতে না যেতেই আবারও নতুন মজুরি আন্দোলন শুরু হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৩ সালের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাত্রার সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।

২০২৩ সালের কাঠামোয় সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা

পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালে। ওই বছরের নভেম্বরে গেজেট প্রকাশের পর ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হয়। তখন গ্রেডের সংখ্যা সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে আনা হয়। চারটি গ্রেডে সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১৫ হাজার ৩৫ টাকা।

সর্বনিম্ন গ্রেডের ১২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে মূল বেতন ৬ হাজার ৭০০ টাকা, বাড়িভাড়া ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা। ওই কাঠামোয় মূল বেতনের ওপর বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের বিধান ছিল। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়। অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

তবে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাড়লেও নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ হয়নি। এদিকে ২০২৬ সালে শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে মজুরি পুনর্নির্ধারণের ব্যবধান পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ফলে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি সামনে আসে।

এবার দাবি ৩০ হাজার, কেন এই দাবি

গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৪ অক্টোবর থেকে উত্তরা ও মিরপুর এলাকায় সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়। পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে।

এবার শ্রমিকদের প্রধান দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ করা।

গত ৩১ অক্টোবর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো অনেক আগে থেকেই দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে দেরি করেছে। তাঁর মতে, সময়মতো বোর্ড গঠন করা হলে বর্তমান অসন্তোষ এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তবে তিনি সতর্ক করেন, স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গত রবিবার ঢাকার মিরপুরে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড সোয়েটার ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টারের আইনবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, এবারের আন্দোলনে শ্রমিকদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ অন্যতম। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অক্টোবরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন না হওয়াকেও তিনি অসন্তোষের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

উৎপাদন ব্যয় ও মুনাফায় কতটা চাপ পড়বে

বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা হলে মাসিক মজুরি বাড়বে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, অর্থাৎ ১৪০ শতাংশ। তবে এই বৃদ্ধি কারখানার মোট উৎপাদন ব্যয় কতটা বাড়াবে, তা নির্ভর করবে শ্রমিকসংখ্যা, পণ্যের ধরন, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, শ্রমিকপ্রতি উৎপাদনশীলতা এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের ওপর।

বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য বাড়তি ব্যয় বহন করা কঠিন হতে পারে। যেসব কারখানার মুনাফার হার কম, ব্যাংকঋণের চাপ রয়েছে কিংবা ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না, তাদের ঝুঁকি বেশি। একদিকে মজুরি বাড়বে, অন্যদিকে পণ্যের দাম না বাড়লে মুনাফা কমে যেতে পারে। এর প্রভাব নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বোর্ডে আলোচনা হচ্ছে এবং সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মজুরি বোর্ডে সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিজিএমইএর প্রতিনিধিও সেখানে আছেন। তাই এ মুহূর্তে মজুরি নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে। তার বক্তব্য, মজুরি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কখন নতুন কাঠামো ঘোষণা করা হবে। তবে সেটি বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোক্তাদের সময় দিতে হবে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, একই সঙ্গে শিল্পের সক্ষমতা ও মালিকদের সঙ্গে দর-কষাকষির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ক্রেতারা কি বাড়তি দাম দেবেন

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানানোর অধিকার রয়েছে। একইভাবে মালিকপক্ষেরও নিজেদের সক্ষমতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার সুযোগ আছে। দুই পক্ষের আলোচনা ও দর-কষাকষির মাধ্যমে মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, শুধু বিভিন্ন দেশের মজুরির অঙ্ক তুলনা করে পোশাকশিল্পের সক্ষমতা বিচার করা ঠিক হবে না। শ্রমিকপ্রতি উৎপাদন, পণ্যের মান, গুণগত বৈশিষ্ট্য ও বিক্রয়মূল্যও বিবেচনায় নিতে হবে। মজুরি যে হারে বাড়ে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সব সময় সে অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়ান না। কিছু বড় ব্র্যান্ড প্রাথমিকভাবে দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে না।

মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, শিল্পের বিকাশের সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরি বাড়া স্বাভাবিক। তবে সেই মজুরি দেওয়ার সক্ষমতাও শিল্পকে অর্জন করতে হবে। এ জন্য উৎপাদনশীলতা, পণ্যের মান ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। মজুরি বৃদ্ধির চাপ শুধু একটি পক্ষের ওপর না দিয়ে সব পক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে। বারবার মজুরি নিয়ে অসন্তোষ এড়াতে স্থায়ী ও পূর্বানুমানযোগ্য মজুরি নির্ধারণব্যবস্থা গড়ে তোলারও পরামর্শ দেন তিনি।

ধাপে বাস্তবায়ন, তবে সময়সীমা নির্দিষ্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় শ্রমিক পরিবারের সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি অযৌক্তিক নয়। তবে মজুরি নির্ধারণে আবেগের পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারের সদস্যসংখ্যা, পুষ্টিকর খাবার, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনের ব্যয় ধরে তথ্যভিত্তিক হিসাব থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, একবারে ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা করা হলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ পড়তে পারে। এতে মুনাফা কমা, ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়া এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে শুধু কম মজুরির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়।

সেলিম রায়হানের মতে, ৩০ হাজার টাকাকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ধরে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তবে এ অজুহাতে সিদ্ধান্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া যাবে না। কারখানায় প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রমিকদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। সরকারকে ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য সহজ অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও পণ্যের ন্যায্য দাম দিয়ে বাড়তি ব্যয়ের অংশ বহন করতে হবে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুনও মনে করেন, মজুরি নির্ধারণে শ্রমিক পরিবারের প্রকৃত ব্যয়, কর্মস্থল এলাকার জীবনযাত্রার খরচ, উৎপাদনশীলতা ও শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা শুধু কম মজুরির ওপর নির্ভরশীল রাখা যাবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা, উন্নত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ও উৎপাদন দক্ষতা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ন্যায্য দাম ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

‘যত দ্রুত সম্ভব নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে’

এদিকে চলমান আন্দোলন নিয়ে ২ নভেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, প্রতি তিন বছর অন্তর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কয়েক সপ্তাহ আগেই সরকার বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল। মালিকপক্ষ প্রতিনিধিদের নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে কিছুটা সময় নেওয়া হয়। গত পরশু রাতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের নাম পাওয়া যায়। এরপর গতকাল সকালে শ্রমমন্ত্রী যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বোর্ডের সভা ও আলোচনা শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর পর্যন্ত মজুরি নির্ধারণের নির্ধারিত সময় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে মজুরি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।