Image description

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে ‘হেলমেট বাহিনী’ ও মুখোশধারীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। আন্দোলনের আড়ালে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

 

সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার সাভার উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় এসব উদ্বেগ ও আহ্বান উঠে আসে।

 

সভায় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতারা। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সভায় কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান এবং ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা এবং বিএনপির স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি সুমাইয়া ইসলাম আন্দোলনরত শ্রমিকদের শান্ত থাকার এবং কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মজুরি বোর্ডের ঘোষণা আসার পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকায় এর পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের উসকানি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগসহ যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের ষড়যন্ত্র ও নাশকতার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

অন্যদিকে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু চলমান অস্থিরতার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রকৃত শ্রমিক কতজন এবং হেলমেট পরা ব্যক্তিরা কারা, তা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় ‘হেলমেট বাহিনী’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

 

তবে সন্দেহজনক কাউকে দেখলে বা কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

 

সভা শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের পরদিন শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান করার অনুরোধ জানানো হয়।