Image description

সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। আজ থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

গত বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা বিধিমালায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইফটাইম ১২ বছর বলা হলেও নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর বলা হয়েছে। সংশোধন করে সেই নিবন্ধনের মেয়াদ এবার ১২ বছর করা হচ্ছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। জানা গেছে, শিগগিরই সংশোধিত বিধিমালা জারি করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

গত ২৯ অক্টোবর সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবেশবান্ধব ও স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সুশৃঙ্খল করতে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বিধিমালা-২০২৬’ জারি করে সরকার। নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধন, নবায়ন, ফিটনেস, গতিসীমা ও নির্দিষ্ট সড়কে চলাচলের বিধিনিষেধ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে জানানো হয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ চার্জিং ও যত্রতত্র চলাচল বন্ধ করা। বিধিমালার আওতায় নিবন্ধন বা নবায়ন ছাড়া কোনো অটোরিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।

বিধিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সনদ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।

এ ছাড়া একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১২ বছর। এই সময়ের পর নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় গতিসীমা সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটারে নামিয়ে আনতে হবে।

জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস রুট, ফুটপাত এবং প্রশাসনের নিষিদ্ধঘোষিত সড়কে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত অটোরিকশা অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।

প্রতিমন্ত্রী যা বললেন : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকাকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। তিনি বলেছেন, প্রতিটি অঞ্চলের ই-রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রং। এক অঞ্চলে নিবন্ধিত রিকশা অন্য অঞ্চলে চলতে পারবে না।

মীর শাহে আলম জানান, তবে আপাতত ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে চালকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি করে মোট আটটি অঞ্চল করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। কোন অঞ্চলে কতটি রিকশা চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ আলোচনা করে নির্ধারণ করবে।

ই-রিকশার নিবন্ধনের সংখ্যায় আপাতত কোনো সীমা রাখা হয়নি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধন পেতে হলে বর্তমানে চলাচলকারী রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে।

শাহে আলম বলেন, আপাতত রিকশার মালিকরা চালকদের পরিচয়পত্র দেবেন। পরে পর্যায়ক্রমে তাঁদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।