Image description

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচায় সরকারের বন্দোবস্ত দেওয়া প্রায় ৪৫৫ একর জমি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ২৩০টি ভূমিহীন পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জমি থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে জমির বৈধ দখল ফিরে পেতে এবং জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে চরফ্যাশন উপজেলার ১০১ নম্বর চর আইচা মৌজার ০৮ নম্বর শিটে ২৩০ জন ভূমিহীন প্রজার অনুকূলে প্রায় ৪৫৫ একর জমি বন্দোবস্ত দেয় সরকার। বন্দোবস্ত পাওয়ার পর থেকে প্রজারা নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে জমিতে চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একটি প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে এসব জমি জবরদখল করে নেয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একটি বিত্তশালী মহল নামে-বেনামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভূমিহীনদের জমি দখল করে রেখেছে। ফলে পরিবারগুলোর জীবিকা ও আর্থিক নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে পড়েছে। জমি উদ্ধারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি। উল্টো তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে মো. আলমগীর মুন্সি, মো. রবি আলম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. আলমগীর চৌকিদার, মো. কমলু, মো. রফিকুল, মো. শফিকুল ইসলাম (লোটাস) ও মো. নূরমলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন মো. নুরুল আমিন, মো. মুসলিম জমাদার, মো. হাল্লাদ দফাদার, মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারী, মো. আলাউদ্দিন মিঝি ও মো. কামাল ডাক্তার প্রমুখ।

অভিযোগকারী নুরুল আমিন দাবি করেন, চর মানিকা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আলমগীর চৌকিদারের নেতৃত্বে একটি চক্র বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার নাম ব্যবহার করে বন্দোবস্তীয় জমিগুলো দখল করেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্তরা নতুন মহলের নাম ভাঙিয়ে এখনো জমিগুলো অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম পুলিশ মো. আলমগীর চৌকিদার বলেন, আমরা যে জমিতে চাষাবাদ করছি, সেগুলো অভিযোগকারীদের জমি নয়। এগুলো ভিন্ন মৌজার জমি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে থানায় বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাঁদের কাছে প্রকৃত বৈধ কাগজপত্র থাকবে, তারাই জমির ফসল পাবেন।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির জানান, ভুক্তভোগীরা ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বরাবর একটি আবেদন করেছেন এবং এমপি মহোদয় সেটিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ ভুক্তভোগীরা আবেদনটি থানায় নিয়ে আসার পর এসআই দিদারকে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ নিরসন করে প্রকৃত কাগজপত্র যাচাইপূর্বক জমিগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং অসহায় পরিবারগুলোর চাষাবাদ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।