Image description

ভোলার বোরহানউদ্দিনে অসহায়, দুস্থ ও জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যত্র নেওয়ার সময় জব্দের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার দাবি অনুযায়ী ঘটনাস্থলে ৩৩ বস্তা চাল আটক করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পৌঁছায় মাত্র ২৪ বস্তা। চালের এই হিসাব নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজাল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৩টার দিকে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুটি অটোরিকশায় করে চাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় রানীরহাট রাস্তার মাথা এলাকায় সেগুলো আটক করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজল ও রবিউল। তাদের দাবি, ওই অটোরিকশা দুটিতে মোট ৩৩ বস্তা সরকারি চাল ছিল।

পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় এমপি হাফিজ ইব্রাহিমকে ফোনে জানানো হয় এবং তার নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনকে বিষয়টি অবহিত করলে চালগুলো জব্দ করে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

তবে চালের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে শুরু হয় রহস্য। ৩৩ বস্তা চাল জব্দের দাবি করা হলেও পরবর্তীতে বিএনপির ওই দুই নেতার পক্ষ থেকে জানানো হয় সেখানে ৩৩ নয়, ২৪ বস্তা চালই ছিল। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন তার কার্যালয়ে ২৪ বস্তা সরকারি চাল আনার কথা জানান। ৩৩ বস্তা জব্দের দাবি ও ২৪ বস্তা পাওয়ার অসংগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও জানান, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে যাওয়ার পর ফোনে বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন।

অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি এই চালের বস্তা নিয়ে এমন অসংগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, জব্দের সময় থেকে উপজেলা কার্যালয়ে চাল পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বাকি ৯ বস্তা চালের সঠিক হিসাব উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাল কোথা থেকে, কার নির্দেশে এবং ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছিল—তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।