Image description

সাড়ে চার বছর আগে চাকরিচ্যুত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে ফেরার পথ খুলেছে। জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ তাকে পুনর্বহালের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রয়েছে। ফলে তার চাকরিতে ফিরতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা লিভ টু আপিল প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। গত ১৫ অক্টোবর এ আদেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শরীফ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুদকের লিভ টু আপিল প্রত্যাহার হওয়ায় জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সুবিধাসহ শরীফকে চাকরিতে পুনর্বহালে হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রয়েছে।

২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক পদ থেকে শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়। এর আগে তিনি দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানে সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের তদন্ত করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করেছিলেন তিনি। এ কারণে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন।

চাকরিচ্যুতির আদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন শরীফ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ৯ জুলাই হাইকোর্ট তাকে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুতির আদেশকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও শুরু থেকে বাতিল ঘোষণা করেন আদালত।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর আপিল করার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করে দুদক। তবে পরে আবেদনটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। গত ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি আর পরিচালনা না করার কারণে খারিজ করেন।

শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির সময় দুদক ২০০৮ সালের কর্মচারী বিধিমালার ৫৪(২) বিধি প্রয়োগ করেছিল। এ বিধিতে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই কর্মচারীকে চাকরি থেকে অপসারণের সুযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ বিধিটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং ১২ দফা নির্দেশনা অনুসরণের কথা জানিয়েছিলেন।