Image description

ফ্রান্স থেকে ইতালি, স্পেন থেকে সার্বিয়া মিলিয়ে ইউরোপজুড়ে চলছে তরুণ সমাজের মধ্যে বিশাল রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষা খাতের চরম অবনতি এবং নানা সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিতে ফুঁসে উঠেছে ইউরোপের জেন-জিরা। রাজপথে নেমে আসা এই তরুণদের স্লোগান আর বিক্ষোভের আগুন কেবল স্থানীয় রাজনীতিকেই কাঁপিয়ে তোলেনি, এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। ইউরোপের এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকশিল্পের ক্রয়াদেশ বড় মাপে কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে পোশাকের চাহিদা সংকুচিত হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য নতুন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া তীব্র বিক্ষোভের জেরে সেখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফরাসি ও ইতালীয় ক্রেতারা এরই মধ্যে অনেক নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত বা পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরকারী ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে পড়তে পারে। এসব চুক্তির ফলে দেশ দুটি ইউরোপের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পেতে পারে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েক মাস ধরে প্রধান এই রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশের পোশাকের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমতির দিকে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। টাকার অঙ্কে কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ইউরোর অর্ডার। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্ডার কমে যাওয়ার পেছনে বর্তমান অস্থিরতার সুনির্দিষ্ট প্রভাব কতটা তা এখনই আলাদা করে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পর্যটকরা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। অস্থিরতার কারণে পর্যটন ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য বিক্রিতে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে এবং ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ। এই অস্থির পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হবে। এমনিতেই ইউরোপের বাজারে বিক্রি কমেছে এবং এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে।