২০২৫ সালে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে ইউক্রেনে যান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের যুবক রিমেল মিয়া (২০)। পরে সেখান থেকে রাশিয়ায় গিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে ৭০০ মার্কিন ডলার বেতনে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর সেই কাজ হারিয়ে ফেলেন। বৈধভাবে রাশিয়ায় থাকার উপায় খুঁজতে গিয়ে রুশ ভাষায় লেখা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে জানতে পারেন সেটি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তি ছিল। বর্তমানে তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি হিসেবে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। স্বজনদের দাবি, উচ্চ বেতন ও নাগরিকত্বের প্রলোভন দেখিয়ে মাত্র তিন দিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণ শেষে রিমেলকে যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেয় রুশ বাহিনী। প্রায় এক মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে বন্দি হন। পরে ইউক্রেনের একটি আটক কেন্দ্র থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিমেল বলেন, আমার পরিবার জানত না আমি কোথায় আছি বা বেঁচে আছি কি না। এ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তারা অন্তত জানতে পারল যে আমি এখনো বেঁচে আছি।
শুধু রিমেল মিয়াই নন, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন বহু বাংলাদেশি। তবে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের ঠাঁই হচ্ছে যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, চালক, ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা কারিগরি পেশায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসব কর্মীকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর জোর করে স্বাক্ষর করানো হয় রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট ও মুঠোফোন। একপর্যায়ে নামমাত্র প্রশিক্ষণ শেষে তাদের পাঠানো হয় ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে। গত তিন বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অন্তত ৫৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশিসহ ২৯টি দেশের নাগরিককে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিদেশি নাগরিকদের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর অনেককে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের অনেকে নিহত হয়েছেন, আবার অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।’
বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশিদের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। গত তিন বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তত ৫৬ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ জাতিসংঘের তদন্তে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সামনে এসেছে।
চলতি মাসে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানায়, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশিকে যুদ্ধে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত হন। অন্য তিনজন পরে মারা যান। ওই ৩০ জনের মধ্যে দুজন দেশে ফিরেছেন, দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। এ ঘটনায় তিন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার। সেগুলো হলো-আরএস ইন্টারন্যাশনাল, জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও টিএস ওভারসিজ লিমিটেড। এ ছাড়া দুই কথিত নিয়োগকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বেসামরিক চাকরির জন্য বৈধ ভিসা নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের দেশটির সামরিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তাদের একজনকে মোটরচালিত রাইফেলধারী সেনা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নথিও রয়েছে। এ ঘটনায় শুধু রিক্রুটং এজেন্সির প্রতারণা নয়, বাংলাদেশের অভিবাসন ছাড়পত্র ও নিয়োগকর্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ওরেনবুর্গভিত্তিক প্রো টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কর্মীদের নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান পদে মাসে আড়াই লাখ রুবল বেতনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কর্মীদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে না লিখিত নিশ্চয়তা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তত একজন বাংলাদেশি কর্মীকে রুশ সামরিক বাহিনীর মোটরাইজড রাইফেলম্যান পদে নিয়োগের নথি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৩০ জনের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার কর্মসংস্থান ভিসা দেওয়া হয় ৩১ মার্চ। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র দেয় ২৭ এপ্রিল। আর বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়োগসংক্রান্ত নথি সত্যায়ন করে ৩০ এপ্রিল। দূতাবাসের নথিভুক্ত সত্যায়নের তিন দিন আগেই বিএমইটি কোন কাগজপত্রের ভিত্তিতে ছাড়পত্র দিয়েছিল, তা তদন্তের দাবি রাখে।
এ ছাড়া দূতাবাসে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে আরএস ইন্টারন্যাশনালের নাম থাকলেও কর্মীদের ছাড়পত্রে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার ভিসায় প্রো টেকনোলজিসের নাম থাকলেও বিএমইটির অনলাইন রেকর্ডে আলাবুগা স্পেশাল ইকোনমিক জোনের নাম দেখা গেছে।
ব্র্যাকের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিরা বৈধ ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে যান। তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তিতে সই করানো হয়। বাগেরহাটের আয়ন মণ্ডল ও কুমিল্লার অমিত বড়ুয়ার ঘটনা তুলে ধরে ব্র্যাক জানায়, তাদের অবস্থান ও পরিণতি নিয়ে পরিবারগুলো অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আয়ন মণ্ডল ড্রোন হামলায় নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে সহযাত্রীদের ধারণা; তবে তার লাশ উদ্ধার হয়নি। অমিত বড়ুয়ার সঙ্গেও কয়েক মাস ধরে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
৩০ লাখের প্রলোভনে যুদ্ধে প্রাণ হারান সাগর : ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে রাশিয়ায় পাড়ি জমান কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মো. সাগর (২৪)। শুরুতে একটি বেকারিতে ৭০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন তিনি। সেখানে পরিচয় হয় শিবচর উপজেলার সোহল সর্দার নামের দালালের সঙ্গে। সোহেল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরির বিনিময়ে এককালীন ৩০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখায়। চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে চলে যান ২৪ বছর বয়সি সাগর। তার পর বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ। গত ১৭ অক্টোবর রাশিয়া থেকে সাগরের এক বন্ধু তার বোনকে মোবাইল ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর জানান। সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল জানান, সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে চাকরির কথা আমাকে জানায় তখন তাকে নিষেধ করেছিলাম। ওই দেশের দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে।
দালালের প্রতারণায় যুদ্ধে জড়াচ্ছে বাংলাদেশিরা : সংসারের অভাব ঘোচাতে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মফিজ (২৩) ও আরিফ হোসাইন (২৭)। চলতি বছরের ৭ মে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান তারা। পরিবারের দাবি, মাফুলকে চাঁদপুর জেলার এক দালাল এবং আরিফকে স্থানীয় দালাল আমিনুর ইসলাম সুজার মাধ্যমে রাশিয়া পাঠানো হয়। তাদের রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতারণার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
অর্থের বিনিময়ে দালাল চক্র তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। বিদেশে যাওয়ার পর মাফুল ও আরিফ ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে তাদের যুদ্ধের এলাকায় নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ মে তাদের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল, এরপর থেকে দুজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রাজু মাতুব্বর (২৮)। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানার মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজুকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি হয়। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি রাজু। পরিবারের দাবি, তাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দালালের প্রলোভনে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান মৌলভীবাজারের মুহিবুর রহমান (২৭)। ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, মুহিবুর উচ্চশিক্ষার আশায় কছেশ বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে আড়াই বছর পড়ালেখা করেন। দুই বছর আগে দালালেরা ভাইকে প্রলোভন দেখায় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব মিলবে। ভাই পরিবারকে না জানিয়ে হয়তো দালালদের প্রলোভনে পড়ে যুদ্ধে অংশ নেন। একটি বাঙ্কারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই আমার ভাই মুহিবুর নিহত হন।
পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মাদারীপুরের সুরুজ কাজী। কিন্তু ভাগ্য বদলানোর সেই স্বপ্ন শেষ হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ভালো চাকরি ও ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা তাকে রাশিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে চাকরির পরিবর্তে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয় তাকে। পরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে ড্রোন হামলা ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। কয়েক মাস আগে তার লাশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সরকার সতর্ক, নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা : পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাশিয়ায় বাংলাদেশিদের যুদ্ধে জড়ানো সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর পর সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যেই চিহ্নিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্র কঠোরভাবে যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন জামালপুর প্রতিনিধি শুভ্র মেহেদী, কুমিল্লা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি সাইফুল মিলন, ফরিদপুর প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সোহেল, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি সৈয়দ বয়তুল আলী ও মাদারীপুর প্রতিনিধি বেলাল রিজভী।