বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, বকেয়া পরিশোধ, সুদ পরিশোধের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে আরও ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার। পুরোনো ঋণ পরিশোধ ও পুনঃঅর্থায়নে ব্যয়ের সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ বেশি হওয়ায় সরকারের অর্থের চাহিদা বেড়েছে। এজন্য ব্যাংক খাত থেকে ব্যয়ের অর্থ সংগ্রহ প্রতি মাসেই বাড়ছে সরকারের। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। তবে ব্যাংক খাতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত তারল্য থাকায় এ ঋণের কারণে সুদহারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কমাতে হবে। সরকার যদি ব্যাংক ঋণের বড় অংশই নিয়ে নেয় তাহলে বেসরকারি খাত ঋণ সংকটে পড়বে। বর্তমানে ট্রেজারি বন্ড ও বিলের সুদহার অনেক বেশি। যদি সরকারকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ ব্যাংকগুলোর বেশি থাকে, তাহলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ বছরের শুরু প্রথম দুই মাসে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলেও সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করে। তবে সেপ্টেম্বরে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন করে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা নেয় সরকার। চলতি মাসের শুরুতে বন্ড নিলামে সরকার ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে তিন বছর মেয়াদি বন্ডে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ সুদে ৮০০ কোটি এবং দুই বছর মেয়াদি বন্ডে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ সুদে ৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের নিলামে ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে সরকার।
এ ছাড়া চলতি মাসে মাসে বিলের মাধ্যমে আরও ৩৫ হাজার কোটি এবং বন্ডের মাধ্যমে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি এবং ডিসেম্বর মাসে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর আগে জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিলামের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আগস্ট শেষে সরকারের মোট ব্যাংকঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।
এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা কমে ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। আগস্ট শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।