Image description

মার্কেটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিলেন আসাদুর জামান সনেট। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরেই মার্কেট দখলের চেষ্টায় ছিলেন। সম্প্রতি সুযোগ বুঝে মার্কেটের প্রায় অর্ধেক দোকান দখল করে সেখান থেকে রীতিমতো ভাড়া তুলতে শুরু করেছেন। বিএনপি নেতার ভাতিজা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ১৫টি দোকান দখলে নিয়ে মার্কেটের নামই বদলে ফেলেছেন সনেট। মার্কেটের নুতন নাম আসাদুর জামান প্লাজা। আগে ছিল মৃধা শাহজাহান প্লাজা। সনেট ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের মৃত আরব আলীর ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের ভাতিজা। মার্কেটের মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টু বলেছেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। মোটা অঙ্কের চাঁদা চাচ্ছিল। না দেওয়ায় দোকানগুলো দখল করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে আসাদুর রহমান সনেটের চাচা কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মার্কেটের মালিকের কাগজপত্র বৈধ নয়। বিগত ১০ বছর তিনি জমির খাজনা দেন না। এরপর ভাইপো সনেট রেলওয়ের কাছ থেকে ডিসিআর নিয়ে এসেছে। অন্যের স্থাপনা কি দখল করে ভাড়া তোলা যায়? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান যুগান্তরকে বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসাদুর জামান সনেট বিএনপির কেউ নয়। যার মার্কেট দখল করেছে তিনি যদি আইনি সহযোগিতা নেন এবং কাগজপত্র সঠিক থাকে অবশ্যই তার পক্ষে আমার অবস্থান থাকবে। বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মাদক ব্যবসায়ীর জায়গা নেই। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেছি।

মার্কেটের একজন দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, আসাদুর জামান সনেট এই মার্কেটের ভাড়াটিয়া ছিল। সে আমাদের মতো একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বরে শুনি সে ১৫টি দোকানের মালিক হয়ে গেছে। এখন থেকে সনেটের কাছে ভাড়া দিতে হবে। না হলে দোকান ছেড়ে দিতে হবে। ভয়ে তার কাছে সেপ্টেম্বরের ভাড়া দিয়েছি।

জানতে চাইলে আসাদুর জামান সনেট যুগান্তরকে বলেন, রেলওয়ের কাছ থেকে বাতিল হওয়ার কোনো নোটিশ অফিশিয়ালভাবে আমি পাইনি। আমি ওই মার্কেটের মালিকানা জায়গার এখনো ভাড়াটিয়া। সেপ্টেম্বরে ১৩টি দোকানের ভাড়া তুলেছি। এগুলো কোনো পৈতৃক জমিতে না। অন্যের স্থাপনা দখল করে ভাড়া তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থাপনা নির্মাণের খরচ দেওয়ার জন্য আমি যোগাযোগ করেছি কিন্তু সে দেখা করে না।

মৃধা শাহজাহান প্লাজা মার্কেটের মালিক আছাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নানাভাবে মার্কেট দখলের চেষ্টা করছিল সনেট। সে আমার মার্কেটের ভাড়াটিয়া। এ বছরের জুন থেকে সে দোকান ভাড়া দেয় না। আমার সব কাগজপত্র বৈধ। রেলওয়ের জায়গায় নির্মিত আছে ৬টি দোকান। কিন্তু সনেট আমার পৈতৃক জমিতে নির্মাণ করা আরও ৯টিসহ ১৫টি দোকান দখল করে ভাড়া তুলছে। তার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। মোটা অঙ্কের চাঁদা না দেওয়ার কারণে তার মার্কেটের ১৫টি দোকান দখল করেছে। চাচা বিএনপি নেতা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে সে আমার মার্কেট দখল করেছে। আমার স্থাপনা দখল করে নাম দিয়েছে আসাদুর জামান প্লাজা। এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে মামলা করেছি। আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১১ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার রেললাইনের পাশে একটি মার্কেট গড়ে তোলেন আছাদুজ্জামান মিন্টু। সেই মার্কেটের নাম দেন মৃধা শাহজাহান প্লাজা। মার্কেটটিতে ৩০টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রেলওয়ের জমিতে রয়েছে টিনশেডের ৬টি দোকান। ২০১৮ সালে মার্কেটের পশ্চিম সারির ৩নং দোকান ভাড়া নেয় আসাদুর জামান সনেট। ৫ বছরের চুক্তি শেষ হলে পুনরায় ২০২৩ সালের জুন মাসের ১ তারিখে আবারও চুক্তি নবায়ন করেন। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি মার্কেট দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও তিনি ১৫টি দোকান দখল করে এক মাসের ভাড়া আদায় করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সনেট আগে কখনো বিএনপি করেছেন বলে শুনিনি। বিএনপির কোনো কর্মসূচিতেও তাকে দেখা যায়নি। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে তখনকার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে থাকত। এমন ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকারে আসার সঙ্গে সঙ্গে চাচার আশীর্বাদে এখন দখলে ব্যস্ত। ইউনিয়ন পরিষদের একটি পরিত্যক্ত ভবনের অর্ধেক দখল করেছে আসাদুর জামান সনেট। তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।