প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো নিয়ে এবারও তৈরি হয়েছে জগাখিচুড়ি অবস্থা। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দুই মাস বাকি থাকলেও প্রাথমিক স্তর ছাড়া অন্য কোনো স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের মাত্র ২৮ শতাংশের পিডিআই (প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন) সম্পন্ন হয়েছে। অনেক ছাপাখানায় এখনো কোনো বইয়ের পিডিআই হয়নি। ছাপার এ ধীরগতির মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বইয়ের ছবি নিয়ে বিতর্ক। ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লার’ ছবি ব্যবহার নিয়ে প্রথম বিতর্ক তৈরি হয়। পরে মাঠপর্যায় থেকে বই ফিরিয়ে এনে সংশোধনের উদ্যোগ নেয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বইয়ে ‘নৌকার’ ছবি রাখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি মহল এসব বই বাতিলের দাবিতে তৎপর হয়ে উঠেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট বইগুলো নতুন করে ছাপতে হলে বিপুলসংখ্যক বই পুনর্মুদ্রণের প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে এবার পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র নিয়ে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি চক্র দরপত্রের তথ্য ফাঁস করে একক দরদাতার মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নেয়। পরে ৩৪টি লটে একক দরদাতা থাকায় ফের দরপত্র আহ্বান করে এনসিটিবি। দ্বিতীয় দফায় দরপত্রের তথ্য ফাঁস না হওয়ায় প্রায় ৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর পাশাপাশি নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ফর্মা নষ্ট করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব নানা জটিলতার কারণে জানুয়ারিতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এনসিটিবির উদাসীনতার কারণেই মূলত দরপত্রের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকায় বই ছাপার কাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তবে এনসিটিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বই ছাপায় ধীরগতি, মাধ্যমিকে পিডিআই হয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ছাপা প্রায় শেষের দিকে থাকলেও ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের ছাপা চলছে কচ্ছপগতিতে। এর মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণির বই ছাপায় বেশি ঢিমেতাল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, গতকাল রোববার পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক স্তরে মোট পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি। এর মধ্যে ছাপা শেষে বাঁধাই হয়েছে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি। আর পিডিআই শেষে মাঠপর্যায়ের পাঠানোর অনুমতি পেয়েছে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি বই, যা মোট বইয়ের ৮৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। প্রাথমিক (প্রথম-পঞ্চম) স্তরে মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৬টি বইয়ের মধ্যে ছাপা শেষে বাঁধাই হয়েছে ৬ কোটি ২৮ লাখ ২ হাজার ৮টি বই। আর ৫ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৩৬০টি বই মাঠপর্যায়ের পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট বইয়ের ৭১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর ইবতেদায়ি (প্রথম-পঞ্চম) স্তরে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ছাপা শেষে বাঁধাই হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ১২১টি বই। এসব বইয়ের মধ্যে মাত্র ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৩টি বইয়ের পিডিআই হয়েছে, যা মোট বইয়ের ৪৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এর বাইরে মাধ্যমিক (ষষ্ঠ-দশম) স্তরে ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ে মধ্যে বাঁধাই করা হয়েছে ৭ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৬৬৫টি বই। পিডিআই হয়েছে ৫ কোটি ৮ লাখ ৪৩ হাজার ২৫২টি বইয়ের, যা মোট বইয়ের মাত্র ২৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
মুদ্রণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনিসিটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পিডিআই সম্পন্ন হলেও মূলত বইগুলো মাঠপর্যায়ে পাঠানোর অনুমতি পায়। তবে যে বই পিডিআই করা হয়েছে বলা হচ্ছে বাস্তবে তত বই পিডিআই হয়নি। মূলত তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেস মালিকদের সঙ্গে আঁতাত করে বেশি বই পিডিআই দেখাচ্ছে।
এনসিটিবির একটি সূত্র বলছে, মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পেয়েছে ১১০টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো এখনো বই ছাপার কাজ ঠিকমতো শুরু করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো বই এখনো পিডিআই হয়নি। এ ছাড়া নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার জন্য এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ফর্মা নষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাতিল করা হয়েছে প্রাথমিকের ৩ হাজার ৩৩৪টি বই।
দাঁড়িপাল্লা ও নৌকার ছবি নিয়ে নানা বিতর্ক, বাদ যাচ্ছে দাঁড়িপাল্লা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন ছবি নিয়ে শুরু হয়ে নানা বিতর্ক। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘নলেজ পিরামিড’ বা জ্ঞানের পিরামিডে ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বইটির সংশ্লিষ্ট এক পৃষ্ঠা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি। তবে এই পৃষ্ঠা সংশোধন করতে সরকারকে গচ্চা দিতে হচ্ছে অন্তত ৩ কোটি টাকা। যদিও এনসিটিবি বলছে, প্রেস মালিকরা নিজ খরচেই ওই পাতাটি সংশোধন করে দিচ্ছেন।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের মোট ৩৮ লাখ কপির মধ্যে ২০ লাখ এরই মধ্যে বিদ্যালয় পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ১৮ লাখ কপি ছাপার কাজ চলছে। সরবরাহ করা বইগুলো ফিরিয়ে এনে বিতর্কিত পৃষ্ঠার পরিবর্তে সংশোধিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান মুদ্রণ কার্যক্রমেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এনসিটিবির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইটিতে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন থাকবে না।
এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। আগামী বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো ফের আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।
এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতে বইয়ে ‘নৌকার’ ছবি ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তুলেছে একটি গোষ্ঠী। তারা ওই বইগুলোও সংশোধনের জন্য জোরালো দাবি তুলেছে। জানা যায়, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে মোট ৮২টি নৌকার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এ ৩৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৩টি এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫টি ছবি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আইসিটি বইয়ে দাড়িপাল্লার প্রসঙ্গটি সামনে আসার পর একটি বিশেষ পক্ষ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান বইয়ে নৌকার ছবি নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তবে এই বইয়ের ছবিগুলোর মধ্যে কোনোটিই এবার নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বইয়েও নৌকার এসব ছবি ছিল। বইয়ের বিষয়বস্তুর প্রয়োজনেই নৌকার ছবিগুলো ছিল।
এই সূত্র আরও বলছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির সব পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জনের জন্য সমন্বয়কের দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চারজন শিক্ষক। তারা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. নূর ই আলম সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ। বিশেষজ্ঞ প্যানেল নির্বাচন, কর্মশালা আয়োজন, ভেন্যু নির্বাচনসহ যাবতীয় দায়িত্ব চারজন অধ্যাপক পালন করেন। এতে এনসিটিবির কোনো কর্মকর্তার কোনো ধরনের মত প্রকাশের কোনো সুযোগ ছিল না। তাদের নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ প্যানেল নৌকার এসব ছবি নিয়ে কোনো ধরনের মতামত দেননি। এমনকি কোনো ধরনের ছবিই পরিবর্তন করা হয়নি। আর এনসিটিবি এর প্রতিটি শ্রেণির বইয়েই কোনো না কোনোভাবে নৌকার ছবি আছে।
অনেকেই বলছেন, দাঁড়িপাল্লার ছবিটির সরানো উদ্যোগ নেওয়া হলেই মূলত একটি দলীয় মতাদর্শের লোকজন নৌকার প্রসঙ্গটি সামনে এনে বিষয়টি অন্য দিকে মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।
নৌকার ছবি প্রসঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জনের জন্য সমন্বয়কের দায়িত্ব অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, এখনো বইটি রিভিউ করার সময় পাইনি। রিভিউ করে বিস্তারিত বলতে পারব।
সিন্ডিকেট ভাঙায় ৩৪ লটের সরকারের সাড়ে ৯ কোটি সাশ্রয়, আগেই ২০০ কোটি টাকা লুট এনসিটিবি সূত্র জানায়, এবার বেশ কিছু লটের টেন্ডার পক্রিয়ায় একক দরদাতা এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় এবং বিকল্প আবেদনকারী না থাকায় দরপত্রগুলো বাতিল হয়ে যায়। ফলে বিপুলসংখ্যায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে হয়েছে।
এর মধ্যে পুনঃদরপত্রে ইবতেদায়ির (১ম-৫ম) ১টি, ষষ্ঠ শ্রেণির ৫টি, সপ্তম শ্রেণির ৬টি, অষ্টম শ্রেণির ২টি ও ৯ম শ্রেণির ২০টিসহ মোট ৩৪টি পুনঃদরপত্রের মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত কম দর উদ্ধৃত করা হয়েছে। ৩৪টি পুনঃদরপত্রের মোট দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দর ছিল ৬৭ কোটি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ টাকা। অন্যদিকে সুপারিশপ্রাপ্ত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দর ছিল ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৬ টাকা। ফলে এ ৩৪ লটেই সরকারের ৯ কোটি ৩৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯১ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
শেষদিকে এসে এই ৩৪ লটের পুনঃদরপত্রে সিন্ডিকেট ঠেকিয়ে ৯ কোটি টাকা সরকারের সাশ্রয় করলেও শুরু দিকে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাক্কলন দর ফাঁস করে টেন্ডার পক্রিয়ায় ২০০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এতে অবশ্যই এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা সূত্র। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিটিবিতে অভিযান চালিয়ে নথিপত্র উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দরপত্রের নথি অনুযায়ী, ৪৫টি দরপত্রের মধ্যে ৩০টিতে মাত্র একজন দরদাতা অংশ নেন। বাকি ১৩টিতে দুজন এবং দুটিতে তিনজন দরদাতা প্রস্তাব জমা দেন। কয়েকটি দরপত্রে প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। এই দরপত্র ফাঁস ও সিন্ডিকেটের মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক অগ্রণী প্রেসের মালিক কাওসারুজ্জামান রুবেল, সরকার প্রেস এবং বলাকা প্রেস অ্যান্ড পাবলিশিংসের মালিক দুলাল সরকার, প্রমা ও ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেসের মালিক এস এম মহসিন, মোল্লা প্রেসের মিন্টু মোল্লা, কচুয়া প্রেসের হুমায়ুন কবির, কর্ণফুলী প্রিন্টার্সের মালিক হাসানুজ্জামান রবিনসহ আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, কাউছার উজ জামান ছিলেন আওয়ামী লীগ আমলে এ সেক্টরে সবচেয়ে প্রভাবশালী। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত স্টাফ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পানি জাহাঙ্গীরের আশীর্বাদে এনসিটিবির পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু করেন তিনি। দিন দিন তিনি হয়ে উঠেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলেরও আশীর্বাদপুষ্ট। বিগত সরকারের আমলে এনসিটিবির বেশিরভাগ বই ছাপতেন তিনি। অবলীলায় সরবরাহ করতেন নিম্নমানের বই। এবারও তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের বই ছাপার অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে তার লক্ষাধিক ফর্মা নষ্ট করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রেস মালিকরা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বই ছাপায় কোনো সিন্ডিকেট হয়নি বলে জানান তারা।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির উপদেষ্টা তোফায়েল খান বলেন, ‘বই ছাপায় সব স্তরে স্বচ্ছতা না থাকলে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতারিত হয়। আমরা লক্ষ করেছি, যোগসাজেশ করে এনসিটিবিকে অনেকভাবে ঠকানো হয়েছে। তবে শেষ সময়ে তা ঠেকাতে এনসিটিবির যে তৎপরতা দেখছি, তা অব্যাহত রাখা উচিত। আর যত বই পিডিআই হচ্ছে, ঠিক সেই পরিমাণ বই মাঠে যাচ্ছে না বলে আমরা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে এনসিটিবি নজরদারি বাড়ানো উচিত।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, যে সব ভুলত্রুটি হচ্ছে, তা সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধন করা হচ্ছে। এনসিটিবি এবার যথাসময়ে মানসম্পন্ন বই নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ অনিয়ম করে ছাড় পাবেন না।