বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজার পর দুই আসামির বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার রাত ৮টার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সাতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালেও রাস্তা সরু হওয়ায় ঘটনাস্থলে যেতে না পেরে ফিরে যায়।
শুক্রবার রাতে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলাকান্দি সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদার নামের ওই যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একটি মাইক্রোবাস ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্রসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে উজিরপুর থানা পুলিশ। এলাকাবাসী জানান, নিহত যুবদল কর্মী কাওসারের জানাজা শনিবার এশার নামাজের পর নিজ বাড়িতে সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ফেরার পথে শনিবার সন্ধ্যার পর আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় সেতুসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়ি, তার বড় ভাই নান্না মোল্লার বাড়ি এবং তাদের বাবার ঘরসহ মোট তিনটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। টিনের ঘরে আগুন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। তবে কারা এই আগুন দিয়েছে, তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তারেক আজিজ বলেন, ‘যুবদল কর্মী কাওসার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার দুপুরের পর তার ভাই মোস্তফা বাদী হয়ে সজল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’