সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে চলাচলকারী সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে আটকা পড়েছেন প্রায় ২২ হাজার প্রবাসী। ১০ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব হয়ে চলাচলকারী মোট ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে প্রায় ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ হিসাবেও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৪১টি ফ্লাইট স্থগিত করে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল এবং কিছু স্থগিত করা হয়েছে।
বিঘ্নিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ৬৬টি এবং ট্রানজিট ৭৫টি। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৮টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে। এদিকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি আজ ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট চালুর কথা জানিয়েছে। তবে ২৩ অক্টোবর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয় বলে জানা গেছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি ট্রানজিটে অন্য গন্তব্যে যাওয়ার যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা, নতুন করে টিকিট ও যাত্রার সময়সূচি সমন্বয় এবং পরবর্তী ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
জানা গেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিমানবন্দরগুলোর বিধিনিষেধের ওপরই ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বেবিচকের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্টের সহকারী পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব জানান, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বর্তমানে ক্ষতি কমিয়ে আনতে এবং যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করতে এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বেবিচক।
জানা যায়, সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মারাত্মক আশঙ্কার মুখে সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে দেশটির সরকার। একই সময়ে শিল্পনগরী দাম্মামের বিমানবন্দর ও সীমান্তসংলগ্ন অবকাঠামোতেও হামলা এবং চরম নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটে।
উ™ূ¢ত এই অনাকাক্সিক্ষত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করে নিরাপত্তার স্বার্থে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী তাদের সব নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই ধারাবাহিকতায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ রুটের সব নির্ধারিত ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করেছিল বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা। মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হলে এই যাত্রী ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।