Image description

স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট, ঋণ জালিয়াতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে এবং অর্থনীতি একটি ভঙ্গুর অবস্থায় পড়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পায়রা সমুদ্রবন্দর, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বড় বড় মেগা প্রকল্পের নামে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। যার দায় বর্তমানে এসে পড়েছে জনগণের উপর।

এমনকি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাংলাদেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে দুঃসংবাদ ছাড়া কিছু নেই। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আরও কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও একই পূর্বাভাস দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও অর্থনীতির চরম সংকটের কথা বলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাহাকার চলছে। যদিও স্বৈরাচার হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে পলায়ন করেন। 

এরপর দেড় বছর অন্তবর্তী সরকারের সঠিক নীতির অভাবে আর্থিকখাতকে আরও খাদের কিনারায় পৌঁছেছে। চলতি বছরে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে। তাদের কাঁধে ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়িত্ব বর্তায়। কিন্তু একমাত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুটটপ সোলার) বিপ্লবের সূচনা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য সেবায় ই-হেলথ কার্ড, প্রথম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও পোশাক প্রদানসহ ব্যয় কমানোর নানামুখী ভালো ভালো পদক্ষেপ দেখা গেলেও দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর যুগান্তকারী বা জরুরি কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অথচ ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের রূপরেখা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

এ জন্যও অর্থনীতি চাঙ্গায় অর্থমন্ত্রীর দ্রুত কিছু পদক্ষেপ দরকার ছিল। যে পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ অর্থনীতিকে গতিশীল করা সহজ হতো। অর্থমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন ভয়াবহ সংকটের দিকে যাচ্ছে। বিনিয়োগ খরা, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের বদলে কর্মজীবী বেকার হওয়া, মানুষের আয় কমে যাওয়া, জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতি থেকে অর্থনীতিতে কোনো সুখবর নেই। অর্থনীতির প্রতিটি সূচক নিম্নগামী। অপরদিকে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারিত্বসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জনজীবনকে বিপর্যস্ত। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। 

দেশের কোথাও কোথাও শ্রমিক, ব্যবসায়ী, কৃষকরা প্রতিবাদ করছে। কেউ কেউ আবার চাঁদাবাজি ও সারসংকট নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে প্রায় এক হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অবরোধ করে। গ্যারেজ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাভারে ব্যাটারিচালিত রিকশাওয়ালারা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করে। ময়মনসিংহে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মিছিল করে। অন্যদিকে, সারসংকটের কারণে নওগাঁওয়ে শতাধিক কৃষক রাজশাহী-নওগাঁও হাইওয়ে অবরোধ করে। বিভিন্ন শ্রেণির এসব আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কারণ প্রায় একই। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। সংসার চালাতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছে। যদিও কোথাও কোথাও এই বিক্ষোভ বা আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মসংস্থান নেই, অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আরো কিছু বন্ধের পথে। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। কিছু শ্রমিক জীবিকার তাগিদে আগের চেয়ে কম বেতনে চাকরি পেলেও হাজার হাজার শ্রমিক এখনো বেকার। এমনকি চালু কারখানাও নানাবিধ সঙ্কটে বিপাকে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। এটা বড়ো অর্থনীতির জন্য অশনিসঙ্কেত। যদিও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সময়ে অনেক সময় ভুল পরিসংখ্যান দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি স্বৈরাচার হাসিনা সরকার। কারণ মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন তারা বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন সরকারের জন্য অশনি সংকেত। তাঁরা বলছেন, অর্থনৈতিক এই ভঙ্গুরতা থেকে উত্তরণ সহজ নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে সাহসী ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও সাধারণ মানুষকে স্বস্তিতে রাখতে এখনই জরুরি কিছু উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ মানুষ স্বভাবগতভাবেই শান্তিপ্রিয় এবং তারা দৈনন্দিন জীবনে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলতে চায়। কিন্তু সামাজিক ব্যবস্থার কারণে মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। আর ইতিহাস সাক্ষী, এই “বাধ্য হওয়া” আন্দোলনগুলোই পৃথিবীতে বড় বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এনেছে। আর যা কোন কোন আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সামাজিক অসন্তোষ ও কাঠামোগত সংকটের একটি চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তাই সরকারকে এখনই কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ জনগণের কল্যাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ইনকিলাবকে বলেন, স্বৈরাচার হাসিনার সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট, ঋণ জালিয়াতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এসব অনিয়মের দায় বর্তমান সরকারের কাঁধে এসে পড়েছে এটা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক দল দেশের সমস্যাগুলো নিজেরাই চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের নিজস্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কৌশলকে ঋণ দাতা সংস্থাগুলো স্বাগত জানিয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সরকারের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কর্মসূচীকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ড. রাশেদ আল তিতুমীর।উপদেষ্টা ড. তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট ঐকমত্য পাওয়া গেছে।

প্রথমত, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে এবং সেই পরিস্থিতি আড়াল না করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন চাপ তৈরি হলেও তা মোকাবেলায় সরকারের নেয়া কৌশলের প্রতি অংশীদারদের আস্থা রয়েছে। তৃতীয়ত, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও দারিদ্র্য কমাতে সরকারের নির্ধারিত কর্মসূচিগুলোকে তারা বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন। উপদেষ্টা বলেন, আমরা সমস্যাগুলো কার্পেটের নিচে না রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে মোকাবেলা করছি। আমাদের নিজস্ব কৌশল রয়েছে এবং সেই কৌশলের প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা তৈরি হয়েছে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আবু আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অবস্থা বেশ খারাপ। বিনিয়োগ স্থবির, জ্বালানি সংকট, সরকারের আয় কমছে এবং খেলাপি ঋণ বাড়ছে। শেখ হাসিনার আমল থেকে এই অবনতি শুরু। বর্তমান সরকারেরও আয় বাড়ছে না; কিন্তু খরচ করতে হচ্ছে। আমার বিবেচনায় ইতোমধ্যে দেশ ঋণের ফাঁদে পড়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।

তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। বরং সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক সূচকগুলো আরও খারাপ হচ্ছে। যেমন- মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না। কিন্তু মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। অর্থনীতির জন্য এটি ভয়ংকর। এর ফলে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ে, বৈষম্য সৃষ্টি হয়। তিনি পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান।

সূত্র মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কোন সু-খবর নেই। অবশ্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ কমায় দেশীয় পর্যটনখাত কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে। হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পরিবহনখাত কিছুটা চাঙ্গা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ব্যয় অনেকটা বেড়েছে। যা কিছুটা আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে দেশের অর্থনীতির জন্য। অথচ দেশের সবচেয়ে বড় কমর্সংস্থানের মাধ্যম আবাসন খাত নিয়ে সরকারের কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। নীতিগত সহায়তা ও সঠিক সমন্বয়ের অভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি দেশীয় আবাসন খাত বর্তমানে গভীর সংকটে নিমজ্জিত। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ করনীতি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে আবাসন খাত তীব্র মন্দার মুখোমুখি। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

এই খাতের সঙ্গে জড়িত রড, সিমেন্ট, ইট, বালুসহ প্রায় তিনশ’ লিংকেজ বা সহযোগী শিল্প খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। একটি আবাসন প্রকল্প চালু হলে এর পেছনে শত শত উৎপাদন ও সেবা খাত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হয়ে ওঠে। আবাসনখাত মুখ থুবড়ে পড়ায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় এবং বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন সংকুচিত করায় নতুনদের জন্য চাকরির সুযোগ সীমিত হয়েছে। এই খাতের স্থবিরতায় মধ্যবিত্তের জন্য এখন ফ্ল্যাট কেনা বা নিজস্ব আবাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও এসএমই খাতে মানুষ আগ্রহ হারাচ্ছে। নতুনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার হচ্ছে না এবং দিনে দিনে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মুহা. মিজানুর রহমান ইনকিলাবকে বলেন, মানুষ শান্তিপ্রিয়। কাজ করবে, খেয়ে-পরে স্বাভাবিকভাবে বাঁচবে এটাই তাদের চাওয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে নানাবিধ কারণে মানুষের কর্মসংস্থান নেই, অপরদিকে মূল্যস্ফীতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। যে কারণে সমাজে অপরাধও বাড়ছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বেকারত্ব এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়া একটি দেশকে অর্থনৈতিক-সামাজিকসহ নানাবিধভাবে সঙ্কটে ফেলে। সমাজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। তাই এ থেকে উত্তরণে সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তবে এ পরিস্থিতি একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনে পুঞ্জীভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। এটি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপয় কী- এর জবাবে তিনি বলেন, সবার আগে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, আগামী দিনে শুধু উৎপাদনশীল খাত ছাড়া অন্য কোনো খাতে ( যেমন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন) নতুন ঋণ নেয়া যাবে না। তৃতীয়ত, দুর্নীতি ও অর্থের অপচয় কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।