রাজধানীর চকবাজারের মনসুর খান প্লাজার আগুন একদিনেও নির্বাপণ সম্ভব হয়নি। এলাকা জুড়ে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভবনটি থেকে উড়া ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আশপাশের এলাকা। ভবনের ভেতরের তীব্র হিটে এখনো ভেঙে পড়ছে জানালার গ্লাস ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো। গতকাল দুপুর ৩টার দিকে অগ্নিসংঘটিত ভবন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিন ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়নি বলে জানায় সংস্থাটি। আগুন নির্বাপণে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও জানায় ফায়ার সার্ভিস।
সরজমিন দেখা গেছে, ভবনের নিচের দোকানিরা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন।
মাঝে মধ্যেই ভবনের উপর তলার জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে কাজ করে চলেছিলেন। ভবনটির সামনের সড়কটির দু’পাশে ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আগুন নির্বাপণে কাজ করা ও ওয়াসার পানিবাহী গাড়িতে পানি আনতে দেখা গেছে। এদিন সকালে এ ঘটনায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, চকবাজারের মনসুর খান প্লাজার আগুন বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে গুদামে থাকা মালামাল সরানো এবং আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কার্যক্রম চলছে। আগুনে ছয়তলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাততলায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, গতকাল বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লালবাগ থেকে দুটি ইউনিট, সদর দপ্তর সিদ্দিকবাজার থেকে দুটি ইউনিট এবং পলাশী থেকে আরও দু’টি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, ছয় ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ রয়েছে। এর মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কৌশল প্রয়োগ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ছয়তলায় থাকা গোডাউনগুলোতে শাটার ও তালা লাগানো ছিল। প্রতিটি গোডাউনে চার-পাঁচটি তালা ছিল। ভেতরে কলাপসিবল গেটেও তালা লাগানো ছিল। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের মধ্যে এসব তালা কেটে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এরমধ্যে প্রথমটি ছিল যানজট।
চকবাজারের রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। বিশেষ করে, তখন পিক আওয়ার থাকায় যানজট বেশি ছিল। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল ভবনের ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা। ছয় ও সাততলার ধোঁয়া বের হওয়ার পথ না থাকায় প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে ফায়ারফাইটারদের কাজ করতে হয়েছে। শাটারের তালা কেটে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালাতে হয়েছে।
নজমুজ্জামান বলেন, পানির সংকট ছিল ব্যাপক। আশপাশে থাকা পানির রিজার্ভগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছিল।
এ কারণে পাম্প ও রিজার্ভার পরিবর্তন করে অন্য রিজার্ভার থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে এখন আর আগুন নেই। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মালামালে গোডাউনভর্তি থাকায় সেগুলো সরানো হচ্ছে এবং পানি দেয়া হচ্ছে। এ কারণে মাঝে মাঝে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুন নির্বাপণের কার্যক্রম এখনো চলমান। বিভিন্ন গোডাউন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। মালামাল সরানো না হলে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হবে না। কারণ, মালামালের নিচে থাকা তাপ ও ধোঁয়া থেকে আবার আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ না করে ফায়ার সার্ভিস চলে গেলে আবার আগুন জ্বলে উঠতে পারে।