দেশের অর্থনীতিতে শিল্প খাতের চাকা ধীর ও মন্থর হয়ে আসছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির গ্রাফ দিনদিন নিম্নমুখী হচ্ছে। গত চার অর্থবছরে ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাস পেয়েছে। ফলে শিল্প প্রবৃদ্ধিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্বাভাবিক গতি হারাচ্ছে নতুন বিনিয়োগ। এমন পরিস্থিতি নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, ‘গত চার বছরে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। যা দেশের শিল্প খাতের জন্য অশনীসংকেত। উদ্যোক্তারা চান নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও আনুষঙ্গিক সেবার নিশ্চয়তা।’
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘বিগত চার অর্থবছরে দেশে নতুন বিনিয়োগের প্রতিকূলে ছিল সবকিছু। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অবস্থাও খুবই খারাপ ছিল। তাই ওই অর্থবছরগুলোতে দেশি কিংবা বিদেশি বিনিয়োগে নতুন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। নতুন শিল্পকারখানা না হওয়ায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে।’ চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রাংশ যন্ত্রপাতি, চিকিৎসাসামগ্রী, যানবাহনসহ ভারী সরঞ্জাম আমদানির পরিমাণ ছিল ২৪ লাখ ১০ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা কমে হয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার টনে। অর্থাৎ গত ১৫ বছরে এসব পণ্যের সম্মিলিত আমদানি কমেছে ৪১.৫ শতাংশ।
এ ছাড়া গত চার অর্থবছরে হ্রাস পেয়েছে ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ খরচ আগের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বৃহৎ পরিসরের শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য বিপুল মূলধন এবং গ্যাস-বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু এসব সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ায় উদ্যোক্তারা এই বিপুল মূলধনের ঝুঁকি নিতে নারাজ। এ ছাড়া ব্যাংকগুলো বড় অঙ্কের শিল্পঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। কোনো কোনো ব্যাংক কঠিন শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। ফলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তারা। তাই মূলধনি যন্ত্রাংশ আমদানি কমছে।