এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে এক বছর অপেক্ষা না করে তিন মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিতে পারে, সেই সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তবে এবারই হয়তো এ ব্যবস্থা চালু করা কঠিন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন, ২০২৬’-এ তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বেশ কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের নানা সমস্যা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরে। কয়েকজন অভিভাবক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরের বছরের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ঐ বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। এ জন্য তাকে এক বছর অপেক্ষা করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসএসসিতে ভালো ফল করতে পারেনি, এমন শিক্ষার্থীদের তালিকা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য যার যেখানে প্রয়োজন, সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পথ তৈরি করা হবে। কাউকে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যুক্ত করা হবে, কাউকে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কারো ব্যবসার প্রতি আগ্রহ থাকলে তাকে ব্যবসা শুরুর জন্য একটি তহবিল দেওয়া হতে পারে। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে যোগ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তারা হুটহাট বা অপরিকল্পিত কোনো উদ্যোগ নেবেন না। তিনি বলেন, ‘সাফল্য অনেক জায়গা থেকে আসতে পারে; আপনাদের সামনে অনেক পথ খোলা রয়েছে, যেটা প্রয়োজন সেটা হলো হার্ড ওয়ার্ক। শিক্ষকদের অ্যাসেসমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা প্রকৃত শিক্ষাদান করতে চান বলেই এই পেশায় আসেন, কিন্তু অনেক কারণেই তারা হয়তো যথাযথভাবে এই কাজটা করতে পারেন না, সে ক্ষেত্রে তাদের পেশার বিভিন্ন রকম অ্যাসেসমেন্ট দরকার।’
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান, গণসাক্ষরতা অভিযানের চেয়ারপারসন ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এদেশীয় পরিচালক কবিতা বোস, পরিচালক নিশাত সুলতানা, তরুণ লেখক ও মোটিভেশনাল স্পিকার সাদাত হোসাইন, নিউজিল্যান্ড ডেইরির চিফ মার্কেটিং অফিসার আসিফ রউফ প্রমুখ।