মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য বানানো হয়েছে ফুটপাথ। আর সড়ক তৈরি করা হয়েছে গাড়ি চলাচলের জন্য। কিন্তু রাজধানীতে বোঝা কঠিন, কোনটি কার জন্য? এখানে ফুটপাথে বসেন হকাররা। মানুষ হাঁটেন সড়ক দিয়ে। গাড়ি চালাতে হয় মানুষকে পাশ কেটে। অনেক জায়গায় ফুটপাথ পেরিয়ে সড়কেই বসে পড়েন হকাররা। এ যেন অনিয়মের এক স্বর্গরাজ্য। সরকার বদলায়, প্রশাসন বদলায়। কিন্তু হকাররা থাকেন বহাল তবিয়তে। হকারমুক্ত সড়কের ঘোষণা আসে, পরিচালিত হয় অভিযানও। উচ্ছেদে হকারদের চৌকি, ছাউনি ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। অভিযানের পর কিছু সময়ের জন্য ফাঁকা হয় সড়ক। কয়েকদিন পর ফের দখল হয়ে যায় এসব অস্থায়ী দোকানের জায়গা। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলছে চোর-পুলিশ খেলা। এ কারণে কখনোই পুরোপুরি ফাঁকা হয়নি ফুটপাথ।
তথ্যমতে, রাজধানীতে ফুটপাথের হকার ব্যবসাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় দখল চক্র সক্রিয় রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে চক্রের আশ্রয়দাতাও বদলায়। প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করা হয়। কোথাও আলাদাভাবে দিতে হয় বৈদ্যুতিক বাতির টাকা। এলাকাভেদে একটি দোকান থেকে দিনে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হয়। এই অর্থের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী লোকজন এবং প্রশাসনের অসাধু সদস্যদের কাছে পৌঁছায়। এ কারণে ফুটপাথের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের খবর আগেভাগেই পেয়ে যান হকাররা। তাই প্রশাসন আসার আগেই সটকে পড়েন তারা। আবার অভিযান নিয়েও চলে রাজনীতি। খালি করা জায়গা নতুন করে কব্জায় নেয় আরেকপক্ষ। যেন অভিযান মানেই হাতবদলের সুযোগ। এ কারণে স্থানীয় রাজনীতিকদের একাংশ থাকেন উচ্ছেদের পক্ষে, আবার আরেক অংশ বিপক্ষে। প্রতিবার জায়গা খালি করার পর বেড়ে যায় ভাড়ার পরিমাণ। লেনদেন হয় বিপুল অঙ্কের টাকা।
অন্যদিকে হকারদের জন্য নীতিমালা থাকলেও তা মানছে না কেউ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবই এ হকার সমস্যার মূল কারণ। এ ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা, লোক দেখানো অভিযান, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না ফুটপাথ। বিভিন্ন সময় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ফুটপাথে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায়। তবে অভিযানের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আবারো বসে পড়েন দখলদাররা। ফলে কাজে আসে না অভিযান।
অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রতিটি ফুটপাথ দখলের ক্ষেত্রেই অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তির হাত রয়েছে। তারাই বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদার বিনিময়ে ফুটপাথের দু’পাশে হকার বসাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাথের সঙ্গে সড়কের অর্ধেক অংশও ভাড়া দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকারদের ওপর বল প্রয়োগ করে কোনো লাভ হয় না। দুইদিন পর আবার দখল হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ফুটপাথ দখলের পেছনে থাকা রাজনৈতিক শক্তির মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
হকার, লাইনম্যান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়— গ্রামে কর্মসংস্থান কম। তাই বাধ্য হয়ে শহরে আসছেন মানুষ। শহরেও পর্যাপ্ত চাকরি নেই।
ফলে ফুটপাথে ব্যবসাকে বেছে নিচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। দোকান ভাড়া ও কর্মচারীর খরচ বেশি হওয়ায় ফুটপাথই তাদের পছন্দ। আবার এখান থেকে বড় অঙ্কের চাঁদা ওঠে। তাই এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখছে প্রভাবশালী মহল। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ও গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাথের হকারদের উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তুলে দেয়া হয় অবৈধ দোকান। ভেঙে দেয়া হয় অবৈধ স্থাপনাও। এর মধ্যে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় হামলার মুখে পড়ে প্রশাসন। এরপর থেকে ওই এলাকায় বসতে পারেনি হকাররা। তবে গুলিস্তানে এখনো হকারদের দাপট বহাল রয়েছে। যদিও ওই এলাকায় প্রতিদিন পুলিশের টহল চলে। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই পুরো সড়ক ও ফুটপাথ হয়ে যায় ফাঁকা। কিন্তু পুলিশ চলে গেলেই হকারদের দখলে চলে যায় সড়ক ও ফুটপাথ। এ যেন উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা।
৫ বছরে যত অভিযান: এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশ ও সিটি করপোরেশন। ১ থেকে ৫ই এপ্রিলের অভিযানে আটটি ট্রাফিক বিভাগে অভিযান চালিয়ে জরিমানা, মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন পরই বিভিন্ন এলাকায় আবার ফুটপাথ দখল হয়ে যাওয়ার চিত্র উঠে আসে। এর আগে ২০২১ সালে করোনা মহামারির বিধিনিষেধ শিথিলের পর হকারদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি।
কিন্তু কিছুদিন হকারদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও কয়েকদিনের মাথায় আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ২০২২ সালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের আশপাশ থেকে বেশ কয়েকবার হকারদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়া হয়। সে সময় হকাররা মিরপুর-১১ ও ১৩ নম্বরের ভেতরের শাখা সড়কগুলোতে সাময়িকভাবে সরে যান। কিন্তু মূল সড়ক সংস্কারের পরপরই আবার ফিরে আসে। ২০২৩ সাল জুড়ে মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে ও সিঁড়ির প্রবেশমুখে হকার উচ্ছেদে দফায় দফায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তখন অনেক হকার দিনের পরিবর্তে রাতে বসা শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সবকিছু হকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একই বছর ডিএসসিসি গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কটিকে ‘রেড জোন’ বা হকারমুক্ত ঘোষণা করে ধারাবাহিক অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় হকাররা ম্যাজিস্ট্রেট ও লাঠিয়ালদের লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। একপর্যায়ে রাস্তা অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ করে। বাধ্য হয়ে পিছু হটতে হয় প্রশাসনকে। ২০২৪ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম কঠোর আল্টিমেটাম দেন। কয়েকদিনের জন্য মিরপুর-১০ নম্বরের প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা হয়। কিন্তু হকাররা স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে পুনরায় সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা শুরু করে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন সময়ে ডিএনসিসি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। তখন বেশ কিছু অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট ভেঙে দেয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। তবে অভিযানের ২-৩ দিন পরই হকাররা আবার ফুটপাথে ফিরে আসে।
গুলিস্তানে চোর-পুলিশ খেলা: এদিকে গত ২৪শে সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম ঘোষণা দেন, পল্টন মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট হয়ে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত রাখা হবে। তবে কয়েকদিন পর রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলিস্তান এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পল্টন মোড় থেকে সদরঘাটমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশে বসেছেন হকাররা। মাঝে মাঝে পুলিশ এসে বাঁশি বাজিয়ে কিংবা মৌখিকভাবে হকারদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলছে। এতে কিছু সময়ের জন্য বিক্রি বন্ধ রাখছেন তারা।
কিন্তু প্রায় ২০ মিনিট পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো সড়কে বসে পড়েন। ব্যবসায়ী ও হকাররা জানান, স্থানীয়ভাবে ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন। সেই টাকা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ভাগ হয়। গুলিস্তান ঘুরে দেখা যায়, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে হল মার্কেট পর্যন্ত সড়কের বড় একটি অংশ হকারদের দখলে। কেউ ভ্যানে করে ফল বিক্রি করছেন, কেউ জুতা, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন সড়কের উপর। এতে মূল সড়কের একটি অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলে তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা এবং দিনভর লেগে থাকছে যানজট।
শহীদ আবরার ফাহাদ সড়কে জুতা বিক্রি করছিলেন এক হকার।
তিনি বলেন, ৫ই আগস্টের পর এলাকায় ‘লাইনম্যান’ পরিবর্তন হয়েছে। এখন আগের তুলনায় বেশি টাকা দিতে হয়। তার ভাষ্য, দোকানের আকার অনুযায়ী প্রতিদিন ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। ভ্যান বড় হলে টাকার পরিমাণও বাড়ে। অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ কিছুক্ষণ পরপর এসে সড়ক থেকে দোকান তুলে দেয়। ভিআইপি গেলে দোকান সরিয়ে দিতে বলে। এরপর আবার আমরা বসে যাই। আমরা যে টাকা দেই, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পুলিশও এর ভাগ পায়। আমরা গরিব মানুষ। ব্যবসা করতে পারলেই বাঁচি।’ গুলিস্তান জিপিওর আগে প্রধান সড়কের পাশে ভ্যানে ফল বিক্রি করছিলেন আকবর হোসেন। এ সময় পুলিশ এসে হকারদের কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
পরিস্থিতি বুঝে আকবর কিছুক্ষণ বিক্রি বন্ধ রাখেন। পরে পুলিশ চলে গেলে আবারো ভ্যানে পণ্য সাজিয়ে বসেন। আকবর হোসেন বলেন, এখানে মাঝে মাঝে ভিআইপি এলে পুলিশ হকারদের সড়ক থেকে উঠিয়ে দেয়। প্রায় ২০ মিনিট পর আবার আমরা বসি। তার দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লোকজন হকারদের কাছ থেকে টাকা তোলেন। কেউ চুক্তির ভিত্তিতে এক লাখ টাকা দেন, আবার কেউ প্রতিদিন ২০০ টাকা করে দেন ‘লাইনম্যানদের’। পরে ওই টাকার একটি অংশ পুলিশকে দেয়া হয়। আকবরের ভাষ্য, এখানে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়— এ কারণে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান হলেও কিছুক্ষণ পর আবার হকাররা বসে যায়।
শুধু গুলিস্তানের চিত্র এটি নয়। গত দু’দিন আগে শনির আখড়া এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কিন্তু এর দু’দিন না যেতেই আবার আগের মতো সড়কে বসতে শুরু করেছে হকাররা। শনির আখড়ার জিয়া স্মরণী, বর্ণমালা স্কুল সংলগ্ন মূল সড়কে বিকাল গড়তেই চলে যায় হকারদের দখলে। সড়কের অধিকাশ অংশ হকারদের দখলে থাকায় এ সড়কগুলোতে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। একই চিত্র দেখা যায় আগারগাঁও এলাকার তালতলায়। এখানে সকালে অভিযানের পর বিকালেই সড়ক দখল করে নেয় হকাররা। রাকিব হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানে দুই মাস আগেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু এর পরদিনই আবার হকারদের দখলে চলে যায়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় হকাররা বসে। যদি অভিযানে হাকার নির্মূল না হয় তাহলে কিছুদিন পর পর এই লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করার মানে কি?
যেভাবে বদলে গেল মিরপুর-১০: মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় একসময় দিনভর মানুষ আর যানবাহনের জটলা লেগে থাকতো। যান চলাচলে ছিল অচলাবস্থা ও বিশৃঙ্খলা। জনগণে ভোগান্তি নিত্যদিনের। রাজধানীর সবচেয়ে ধীরগতির সিগনালের মধ্যে এটি একটি। কিন্তু হকারদের উচ্ছেদের একদিনের মাথায় বদলে যায় পুরো এলাকার চিত্র। সরজমিন দেখা যায়, অরিজিনাল-১০ নম্বর মোড় থেকে ডান পাশে ফায়ার সার্ভিসের গেট এবং বাম পাশে আলোক হাসপাতাল থেকে এফএস স্কয়ার মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাথ, কাজীপাড়া থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, সেখান থেকে বিআরটিএ অফিস পর্যন্ত পুরো এলাকা হকারমুক্ত করা হয়েছে। এতে পুরো এলাকা হয়েছে যানজটমুক্ত। সাইফুল ইসলাম নামে এক অফিসগামী যাত্রী বলেন, আগে হকার ও ক্রেতার ভিড়ে হাঁটাচলা খুবই কষ্টকর ছিল। এখন খুব সহজেই চলাচল করা যাচ্ছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর আবারো তারা ফুটপাথগুলো দখল করে নেয়। এবারো যদি এমনই হয় তাহলে কোনো লাভ নেই। খাইরুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, মিরপুরের দুঃখ হকার ও অটোরিকশা। হকারদের উচ্ছেদের একদিনেই অর্ধেক শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এখন রিকশাগুলো প্রধান সড়ক থেকে সরাতে পারলেই পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসি’র প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) মানবজমিনকে বলেন, এর আগেও কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছি। তখন তারা সময় চেয়েছিল। তাদের অন্য জায়গায় পুনর্বাসনের কথা বলেছিলাম। তাদের কথা অনুযায়ী, ডিএনসিসি’র পক্ষ থেকে ২০৪টি রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিয়েছি। তাদের জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। তাই এবার আমরা কঠোর হতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, ফুটপাথ দখল জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকাবাসী সবাই চায়, ফুটপাথ দখলমুক্ত হোক। সেই কারণেই এই প্রচেষ্টা। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এবার আমি ঘোষণা দিয়েছি, যতবার এরকম হবে ততবার অভিযান পরিচালনা করা হবে। ডিএনসিসি’র প্রশাসক বলেন, আমার বিশ্বাস, একপর্যায়ে এই অভিযান সফল হবে। ফুটপাথ দখল করে যারা অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন তাদের উৎখাত করা হবে। ফুটপাথ জনগণকে ফিরিয়ে দেবো। এটা আমার অঙ্গীকার।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম মানবজমিনকে বলেন, আমরা সড়ক দখলমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। অবশ্যই হকারদের রাস্তা ছেড়ে যেতে হবে। যেখানে গাড়ি চলার কথা সেখানে গাড়ি চলবে, যেখানে হাঁটার কথা সেখানেই হাঁটবে। এটা মেনে চলা সবার দায়িত্ব। যারা আইন মানবে না তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। হকারদের থেকে চাঁদা তোলার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সড়ক কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। কেউ সড়ক ভাড়া দিতে পারে না। টাকা তুলতেও পারে না। যারাই করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পেছন থেকে কলকাঠি নারার বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি সামনে আসে, সে যত বড় প্রভাবশালী হোক ব্যবস্থা নেয়া হবে। হকারদের বলবো, কেউ আপনাদের সড়ক ভাড়া দিতে পারে না। অভিযানে আপনাদের মালামাল কেউ বাঁচাতে পারে না। তাই কাউকে টাকা দিবেন না।