মোহাম্মদপুর। ৫ই আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, খুন, জমি দখল, কিশোর গ্যাং গ্রুপ-উপগ্রুপে সংঘর্ষ যেন নিত্যদিনের চিত্র। ঢাকার অপরাধের সদরদপ্তর তকমা পাওয়া মোহাম্মদপুরে এত বিশৃঙ্খলা কেন? নেপথ্যে কারা? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানবজমিন-এর হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। ১৯৭৬ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি থানা গঠিত হওয়ার পর থেকে ৮ দশমিক ২৩ বর্গকিলোমিটারের এই মোহাম্মদপুর এলাকায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের বসবাসের তথ্য উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। এরপর বসিলা, ৪০ ফিট, চাঁদ উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, মেট্রো হাউজিং, ওয়েস্ট ধানমণ্ডিসহ নতুন নতুন আবাসন এলাকা বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, বর্তমানে পুরো মোহাম্মদপুরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করছে অন্তত অর্ধশত’র বেশি কিশোর গ্যাং।
আর স্থানীয়রা বলছেন, এসব প্রতিটি গ্যাংয়ের পেছনেই রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী বা বড় ভাই। এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও দখলদারির জন্য এসব কিশোর গাং সদস্যদেরকে লাললপালন করেন তারা। আর এই মধ্যম সারির সন্ত্রাসীদের পেছন থেকে সমর্থন দেয় তালিকাভুক্ত অন্তত দুই থেকে তিনজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট, জাতীয় অর্থপেডিক ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শিশু হাসপাতালের এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে বসিলার হাউজিং ব্যবসা, ময়লা ব্যবসা, ইন্টারনেট ক্যাবল ব্যবসা, বাজার, মার্কেট এমনকী ফুটপাথের দোকান, ফুটকোর্ট বাসানো সবই তাদের নিয়ন্ত্রণে। এলাকা ভাগ করে নিয়ে বিভিন্ন ভাইয়ের নামে নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের মাসোহারা পাচ্ছেন তারা। তবে তাদের লাঠিয়াল বাহিনী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বাড়তি খোরাক মেটায় ছিনতাইয়ের টাকা দিয়ে।
কোন এলাকা কার দখলে: মোহাম্মদপুরের নবোদয়, নবীনগর হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা হাউজিংসহ মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করে কবজি কাটা আনোয়ার গ্রুপের সদস্যরা। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে পরিচিত আনোয়ার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ নেয় শাহীন, ফরিদ, লিটন। তাদেরকেও গ্রেপ্তার করলে অন্য সদস্যরা সংগঠনটির কার্যক্রম চালু রেখে নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে এখনো থেমে নেই তাদের কার্যক্রম। মোহাম্মদপুরে সক্রিয় আরেকটি কিশোর গ্যাং ‘আই ডোন্ট কেয়ার মোহাম্মদপুর’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন আহমেদ। আহমেদ একইসঙ্গে ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের দ্বিতীয় প্রধান হিসাবেও কাজ করেছেন। মোহাম্মদপুর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশও নাকি এই গ্রুপের কাছেই রয়েছে। আহমেদ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই গ্রুপের দায়িত্ব নেন আইডিসি সোহেল।
এই গ্রুপে আরও রয়েছে মো. সজীব, মো. ইমরান হোসেন, মো. সাদ্দাম, মো. রাজু, রাফাত, জয়, চানসহ আরও অনেকে। মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার ও বেড়িবাঁধ এলাকায় রাজত্ব করছে ‘পাটালী গ্রুপ’। এই গ্রুপের প্রধান শামীম পাটালী। তবে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ে ফর্মা সজীব। এ ছাড়াও শরীফ, ইয়াসিনসহ অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন সদস্য এই গ্রুপে রয়েছে। এই কিছুদিন আগেই মোহাম্মদপুরের অদূরে কেরানীগঞ্জে দিনেদুপুরে পাটালী গ্রুপের ফরহাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে প্রতিপক্ষের সদস্যরা। যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় পুরো এলাকায়। বুদ্ধিজীবী, বেড়িবাঁধ, জাফরাবাদ, তিনরাস্তা এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে আরমান-শাখরুখ গ্রুপ।
এই গ্রুপের সদস্যরাই প্রকাশ্যে ফরহাদকে হত্যা করে। এ ছাড়াও কিছুদিন আগে এলেক্স গ্রুপের ইমনকেও হত্যা করে এই আরমান-শাখরুখ গ্রুপের সদস্যরা। রায়ের বাজার, বুদ্ধিজীবী এলাকায় এলেক্স ইমন নামে আরেকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। ইমনের মৃত্যুর পর কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও এখনো আগের নামেই সক্রিয় রয়েছে গ্রুপটির অন্য সদস্যরা। ওই এলাকার বেশির ভাগ ছিনতাইয়ের পেছনেই এই দলের সদস্যদের দায়ী করা হয়। এ ছাড়াও চাঁদ উদ্যান বেড়িবাঁধ ও চাঁদ উদ্যান ভাঙ্গা মসজিদ এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছে ‘লেভেল হাই গ্রুপ’। যাদের সদস্য সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জন। শহীদ বুদ্ধিজীবী ১নং গেট, বোর্ডঘাট, বেড়িবাঁধ এলাকার রাজত্ব করছে ‘ফরহাদ গ্রুপ’।
এই গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। বেড়িবাঁধ রোড, তিন রাস্তার মোড়, বুদ্ধিজীবী রোড, রায়েরবাজার, বসিলা রোড এলাকায় সক্রিয় রয়েছে ‘আর্মি আলমগীর’। রায়ের বাজার, বুদ্ধিজীবী রোড, আজিজ খান রোড, সাদেক খান রোডসহ পুরো এলাকায় ‘ডাইল্লা গ্রুপ’ রাজত্ব করছে। গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। বাঁশবাড়ি রোড, নুরজাহান রোড, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, নবোদয় রোড এলাকায় রাজত্ব করা ‘এলেক্স গ্রুপ’। ৪০ ফিট বসিলা রোড, চাঁদ উদ্যান ও বেড়িবাঁধ এলাকায় ১৫ থেকে ২০ সদস্যের রয়েছে ‘আকবর গ্রুপ’। চন্দ্রিমা হাউজিং, লোহার গেট, নবোদয়, বেড়িবাঁধ এলাকায় ‘গাংচিল গ্রুপ’র রয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য।
ঢাকা উদ্যান, তুরাগ হাউজিং, বেড়িবাঁধ, তিন রাস্তার মোড়, চাঁদ উদ্যান, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রয়েছে ‘ল ঠেলা গ্রুপ’। নবীনগর হাউজিং, বেড়িবাঁধ, নবোদয়, চাঁদ উদ্যান এলাকায় রয়েছে ‘আশরাফ’ গ্রুপ। রায়েরবাজার, বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও আশপাশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ‘স্টার বন্ড’ গ্রুপ। চাঁদ উদ্যান, ঢাকা উদ্যান ও আশপাশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ১৫ সদস্যের ‘ভাইব্বা ল কিং’ গ্রুপ। সূচনা কমিউনিটি সেন্টার, কৃষি মার্কেট, শিয়া মসজিদ, শ্যামলী ক্লাব মাঠ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ‘চেতালেই ভেজাল’ গ্রুপ। ঢাকা উদ্যান, বেড়িবাঁধ রোড, চাঁদ উদ্যান, নবীনগর হাউজিং এলাকায় ‘টক্কর ল গ্রুপ’। ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, নবোদয় হাউজিং এলাকায় রাজত্ব করছে ‘ঘুটা দে গ্রুপ’।
দেশে-বিদেশে বসে এসব গ্রুপগুলোকে পেছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে বেশকিছু সন্ত্রাসী। তাদের মধ্যে নবী, মোরল, লেদু, শামীম, রাজেশ, রুবেল, পিন্টু, কিলার পাপ্পু, কালা জহির, মাওরা ইমরান, তেরেনাম বাবু, আশরাফ, লম্বু মোশাররফ, রনি, কিলার বাদল, টুন্ডা বাবু, কায়ুম, সেলিম, এক্সএল বাবু, ইব্রাহীম, সাগর, শাহজাহানসহ আরও অনেকে। আর এরা সকলেই স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রচ্ছায়াতে চলে। থানা কমিটি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সকলেই এদের ক্ষমতায় বলিয়ান। শুধু ক্ষমতাসীন নয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এখনো মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা কবিরের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে ‘ভাইব্বা ল কিং গ্রুপ’ ও ‘ঘুটা দে গ্রুপ’।
এ ছাড়া ‘স্টার বন্ড’ নামে অন্তত ২০ সদস্যের একটি গ্রুপ চালান ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. খোকন। এ গ্রুপের নেতা শাকিল। এ ছাড়া ভারতে বেশ কয়েকটি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে মোহাম্মদপুরের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব। পুলিশ বলছে, মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় এমন বিভিন্ন নামে অন্তত ১০৮টি গ্রুপ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে। এদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তিনজন ব্যক্তি।
আবাসন ব্যবসায়ও কিশোর গ্যাংয়ের থাবা: শুধু চাঁদাবাজি, ছিনতাই, খুনই নয় এই কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে পুরো মোহাম্মদপুরের আবাসন খাতেও ধস নামেছে। এই এলাকায় জমি, প্লট বা ফ্ল্যাট যেটাই ক্রয় করুন বা বিক্রয় করুন না কেন দুই পক্ষকেই চাঁদা দিতে হয়। আবার নতুন ভবন নির্মাণেও দিতে হয় মোটা অঙ্কের চাঁদা। তা না হলে মোটরসাইকেল বাহিনী এসে ভাঙচুর চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। চাঁদার টাকা না দিয়ে কেউই কাজ করতে পারে না।
সম্প্রতি মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যানে একটি আবাসন ব্যবসায়ীর জমি দখলের ঘটনা ঘটে। সেখানেও দেখা যায়, দেড় থেকে দুইশ’ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ভাঙচুর করে সবকিছু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগে মনির নামে এক আবাসন ব্যবসায়ীর অফিসে ও বাসায় ঢুকে দুই দফা গুলি করা হয়। মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ের কাছে আবু কোম্পানির মালিক আবু বকরের বাসায় ঢুকেও হামলা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। স্থানীয় প্রোপার্টি ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের দাবি, গত কয়েক বছরে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে দেশে একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর বেচাকেনা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেড ও মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটি, নবোদয় হাউজিং, নবীনগর হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, একতা হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, শ্যামলী হাউজিং, আক্কাস নগর প্রকল্প, সাতমসজিদ হাউজিং, বাঁশবাড়ী, কাটাসুর, বসিলা সিটি ডেভেলপার্স, ওয়েস্ট ধানমণ্ডি হাউজিং, মেট্রো হাউজিংসহ অনেক হাউজিং প্রকল্পে শত শত রেডি ফ্ল্যাট ও প্লট অবিক্রীত পড়ে আছে। কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের প্লট মালিক মনির হোসেন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি প্লট বিক্রির চেষ্টা করছেন। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, গত তিন-চার মাসে কয়েকজন ক্রেতা যোগাযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত কেউ জমি কিনতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, বনানী এলাকার একজন ক্রেতা প্লটটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা মোহাম্মদপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বলে সেখানে জমি কিনতে রাজি হননি। এমনই একটি অভিযোগ করেছেন লন্ডনপ্রবাসী সেন্টু হাওলাদার। তিনি বলেন, প্রায় ১৩ বছর আগে তিনি নবীনগর হাউজিংয়ে একটি প্লট কেনেন। পরে প্লটটি ভোগদখলে রেখে সেখানে পাঁচ কক্ষের একটি টিনশেড বাড়িও নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি দেখতে পান, তার প্লটটি দখল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে।
এদিকে মোহাম্মদপুর এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অপরাধ দমনে সবচেয়ে বেশি কার্যক্রম দেখা যায় এসআরবি-২ এর সদস্যদের। বিষয়টি নিয়ে এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করলে গ্রুপগুলো কিছু সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে যায়।
তবে কয়েকদিন পরেই তারা আবার জামিনে বের হয়ে এসে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। তাই কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু সদস্যদের গ্রেপ্তার নয়, এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একইসঙ্গে এসব গ্রুপ যেন ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম যেন বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি আমরা। আমাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেলও কাজ করছে। খুব শিগগির এসব অপরাধী গ্রুপের কার্যক্রমের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে আরও বিস্তৃতভাবে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেয়া হবে।
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, মোহাম্মদপুরে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’। আমরা বেশ কয়েকবার মোহাম্মদপুরবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানকার, নাগরিকেরা চান মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। ইতিমধ্যেই মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে, এসব তালিকা ধরে এসআরবি ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করছে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এসব সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়, এজন্য নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের জনগণকে এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি দেখলে মনে হয় এটি বাংলাদেশের বাইরের কোনো দেশ কিংবা বাংলাদেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ। কারণ, দীর্ঘ সময়েও নানানভাবে এ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। কারণ, ব্যবস্থাগুলো যেভাবে নেয়া দরকার সেভাবে নেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেনেভা ক্যাম্পকে অপরাধমুক্ত করা।
দ্বিতীয়ত, মোহাম্মদপুরের যতগুলো গ্যাং আছে, সেটা কিশোর গ্যাং হোক কিংবা অন্য অপরাধীদের গ্যাং—এসব গ্যাংয়ের সদস্য ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া মানে এমন নয় যে, পুলিশ গ্রেপ্তার করলো, আবার দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এলো। মামলার যে বিবরণ কিংবা অপরাধের যে ধরন সেগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে।