রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) আগামী অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আসা শুরু হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম জানিয়েছে, কয়েকটি ফ্লাইটে সরবরাহ করা এই জ্বালানি আনার প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে।
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী রাশিয়ার কার্গো বিমানকে পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার খবর প্রকাশের পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এ বিষয়ে বিবৃতি দেয় রোসাটম।
বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তির শর্ত ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কয়েকটি ফ্লাইটে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নির্ধারিত জ্বালানির পুরো চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে কোন তারিখে কোন চালান পৌঁছাবে বা বিমানগুলোর রুট কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি রোসাটম।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইউরেনিয়াম আনার ক্ষেত্রে আকাশসীমা নিয়ে তৈরি জটিলতা কেটে গেছে। পাকিস্তান প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে আবার ইউরেনিয়ামবাহী ফ্লাইট বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছে সূত্রটি।
সূত্রটি আরও জানায়, রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এই জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে।
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটে রুশ নকশার তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিটে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
এর আগে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ওই চালানে আনা হয়।