সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার জাতীয় জাদুঘরের সামনে দুই শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্রের দাবিতে অবস্থান নেন। এর আগে সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন চাকরি প্রার্থীরা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে সংহতি জানান সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের।
তবে এরই মধ্যে বঞ্চিতদের দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, খুলনাসহ অন্তত সাত জেলায় দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতেও দু-এক দিনের মধ্যে বঞ্চিতদের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছাতে পারে।
প্রার্থীদের দাবি, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করে নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। পরে আন্দোলনকারীদের পাঁচজনের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। তবে তারা অফিসে না থাকায় কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি প্রতিনিধিরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া রফিক শেখ বলেন, ‘অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এত দূর এসেছি। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।’ মালেক মিয়া বলেন, ‘আমাদের অপরাধ কী, তা জানতে চাই। নিয়োগপত্র না নিয়ে আমরা ঢাকা ছাড়ব না।’
এদিকে, নিয়োগপত্র না পাওয়ায় গাইবান্ধার প্রার্থীরা গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রশাসনিক বা যাচাই-সংক্রান্ত কারণে ৪১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। কাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী এবং পরবর্তী করণীয় কী—এসব বিষয় স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গার নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরাও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা নিয়োগ আটকে রাখার কারণ স্পষ্ট করা, সংশ্লিষ্ট কোনো প্রজ্ঞাপন থাকলে তা প্রকাশ, কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর স্মারক নম্বর জানানোর দাবি জানিয়েছেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের উপজেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ শুরু হয়। এরপর ৪১ জেলায় সহস্রাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ৬১ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুই ধাপে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গত ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন প্রার্থী।
এরপর ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সরকার পরিবর্তন হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘তড়িঘড়ি’ করে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে।